kalerkantho


গণমাধ্যমে মুখ খুলবেন শুধু সিইসি ও সচিব

বিশেষ প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গণমাধ্যমে মুখ খুলবেন শুধু সিইসি ও সচিব

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও ইসি সচিবালয়ের সচিব ছাড়া নির্বাচন কমিশনের আর কেউ গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিতে পারবেন না; কোনো কথা বলতে পারবেন না। গত ৭ মার্চ ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নিয়ম জারি করা হয়েছে।

এর ফলে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের কাছ থেকে সাংবাদিকরা কোনো তথ্য পাবেন না। এর আগে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন ভবনে প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

নতুন অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম বিষয়ে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়। তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত ব্যবস্থায় ব্রিফিং, সংবাদ সম্মেলন, তথ্য সরবরাহ করা হবে—(১) নির্বাচন কমিশনের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্রিফিং/সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের অবহিত করবেন; (২) নির্বাচন কমিশন (কার্যপ্রণালি) বিধিমালা ২০১০-এর ১১(৩) বিধি অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে সচিব গণমাধ্যমকে ব্রিফিং প্রদান করবেন এবং কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হলে সচিব ব্যতীত অন্য কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য প্রদান করবেন না; (৩) নির্বাচন কমিশন (কার্যপ্রণালি) বিধিমালা ২০১০-এর ১১(১) বিধি অনুযায়ী সাধারণত কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের মাধ্যমে কমিশন কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত বিষয়াদির মধ্যে যা জনগণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা বাঞ্ছনীয় তা প্রকাশ করা হবে। ’ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

তবে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনাররা কোনো এলাকায় গেলে কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলে থাকেন। সে ক্ষেত্রে তাঁরা কী ধরনের কথা বলবেন তাও কমিশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নির্বাচন কমিশনাররা গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ চেয়ে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁরা রাজি হচ্ছেন না। আর নতুন অফিস আদেশ জারির পর থেকে ইসির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, অফিস আদেশ অমান্য করে গণমাধ্যমের কোনো কর্মীর সঙ্গে আলাপ করলে শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে ভবনে প্রবেশেও সর্বসাধারণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসি। এ জন্য ইসি ভবনের প্রতিটি ফ্লোর কাচ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। প্রতি ফ্লোরে আছে ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যবস্থা। ভবনের ভেতর থেকে অনুমতি ছাড়া কেউ ইচ্ছা করলেও সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।

গণমাধ্যমে কথা বলা ও ভবনে প্রবেশে কড়াকড়ির বিষয়ে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, এখন থেকে কোনো বিষয়ে সিইসি ও সচিব গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ছাড়া ইসির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রতি ফ্লোরে ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিজিটরদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। তবে কোনো ভিজিটর নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। তবে অনুমতি নিয়ে যে কেউ ভবনে প্রবেশ করতে পারবে।


মন্তব্য