kalerkantho


শ্রীলঙ্কার সমান্তরালে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কা ৪৯৪ বাংলাদেশ ১৩৩/২

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শ্রীলঙ্কার সমান্তরালে বাংলাদেশ

তামিম ইকবালের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে সুন্দর সূচনা এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। অপরাজিত আছেন ৬৬ রানে। ছবি : এএফপি

দারুণ একটা ক্যাচ নিয়েছেন। আরেকটি শতরানের উদ্বোধনী জুটির অংশীদারও হয়েছেন।

তবু দিন শেষে তামিম ইকবালের আউট নিয়ে যা কিছু আক্ষেপ বাংলাদেশের। আউট যে তিনি হয়েছেন শেষবেলায়, সে ধাক্কায় শ্রীলঙ্কার ৪৯৪ রানের জবাবে বিনা উইকেটে ১১৮ থেকে বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ১৩৩ রান নিয়ে।

গলের উইকেট দ্বিতীয় দিনেও অনড়, একতরফাভাবে ব্যাটিং সহায়ক। ব্যাটসম্যান ভুল না করলে বোলারের সাধ্য নেই উইকেট বের করার। তামিম ইকবালের প্রতিটি স্ট্রোকেও মিলছিল বড় ইনিংসের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু অদ্ভুতুড়ে আউটের ফাঁদে পড়ে সে সম্ভাবনা হারিয়ে গেছে শেষ বিকেলে। শ্রীলঙ্কার চায়নাম্যান বোলার লক্ষ্মণ সান্দাকানের লেগস্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল উইকেটরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেছে ভেবে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়েছিলেন তামিম। তাই গ্লাভসে জমা বলে বেলস ফেলতে সামান্যতম বেগও পেতে হয়নি নিরোশন ডিকওয়েলাকে। এরপর উইকেটে সেট হওয়ার আগেই দিলরুয়ান পেরেরাকে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ মমিনুল হক।

ভাগ্য ভালো যে চার রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ‘জীবন’ পাওয়া সৌম্য সরকার দারুণ আস্থার সঙ্গে খেলছেন, তাঁর সঙ্গী কিপিং ছেড়ে চার নম্বরে উঠে আসা মুশফিকুর রহিম। তাই চন্দিকা হাতুরাসিংহের মনে এখনো বিশ্বাস, ‘৫০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে আমার দলের। ’ অসম্ভব নয় মোটেও, অন্তত উইকেট সে আশ্বাস কিন্তু দিচ্ছে।

দিনের শুরুতে ভোগান্তির ইঙ্গিত দিয়েই নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। ৪ উইকেটে ৩২১ রানের দলই মাথা উঁচিয়ে নামবে—এটাই প্রত্যাশিত। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান কুশল মেন্ডিস আরো স্থিতধি। ভালো বলে সতর্ক আর খারাপ বল পেলেই আক্রমণ করেছেন। অন্যদিকে নিরোশন ডিকওয়েলা আগাগোড়াই আক্রমণাত্মক। তাই যে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শুরু হয়েছিল ঠেলাগাড়ির গতিতে, দ্বিতীয় দিনে সে দলটিই সওয়ার দ্রুতগামী বাসে! এ অবস্থায় উইকেটের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে বাংলাদেশি বোলারদের, কখনো যদি ব্যাটসম্যান ভুল করেন। ভুল করেছেনও ডিকওয়েলা। মেহেদী হাসান মিরাজকে চালাতে গিয়ে বল তুলে দেন আকাশে, মাহমুদ উল্লাহর বিশ্বস্ত হাত এবার ভাগ্যবিড়ম্বিত করেনি বাংলাদেশকে।

ডিকওয়েলার বিদায়ে আবির্ভূত দিলরুয়ান পেরেরা আরো মারমুখী। ৭২ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করা লঙ্কান এ অলরাউন্ডারকেও থামিয়েছেন মেহেদী মিরাজ। এরও আগে মেন্ডিসের (১৯৪) প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্নভঙ্গও এ অফস্পিনারের বলে। তবে অর্ধেক কৃতিত্ব অবশ্যই তামিমের, বাউন্ডারি সীমানার বাইরে যাওয়ার আগে বল ভেতরে ছুড়ে ফিরে এসে ক্যাচটা নেওয়ার জন্য। সব মিলিয়ে ১১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার মেহেদী মিরাজ।

বাকি স্বীকৃত বোলাররা সবাই-ই উইকেট পেয়েছেন। দ্বিতীয় দিনে এসে সেরা স্পেলটা করেছেন দীর্ঘদিন পর টেস্টে ফেরা মুস্তাফিজুর রহমান। হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলে এদিন ফিরিয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথকে। ৬৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে তিনিই দ্বিতীয় সফলতম। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের শেষ হাই প্রোফাইল সাকিব আল হাসানের বলে। একটি শিকার আছে তাসকিন আহমেদের। শুভাশীষ রায়েরও তাই। এর পরও তিন পেসার তো বটেই, বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সেরা অস্ত্রই মনে হয়েছে তাঁকে। প্রথম ওভারে দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেওয়া শুভাশীষ ওই ওভারেই পেতে পারতেন শ্রীলঙ্কাকে বয়ে বেড়ানো কুশল মেন্ডিসের উইকেট। কিন্তু ‘নো বল’ মাটি করে দিয়েছে তাঁর সে আনন্দ। গতকালও আরেকটি উইকেট পাওয়ার উচ্ছ্বাসে বাতি ঘুষি ছুড়েছিলেন শুভাশীষ। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, তাঁকে হুক করে ডিপ ফাইন লেগে দেওয়া মেন্ডিসের ক্যাচটা নেওয়ার সময় মুস্তাফিজুর রহমানের পা সীমানা দড়ির ওপরে।

শুভাশীষ উইকেট পাওয়ার আনন্দে দুই হাত আকাশে উঁচিয়ে উৎসব করছেন আর ঠিক তাঁর পেছনেই দুই হাত তুলে ছক্কার সিগন্যাল দিচ্ছেন আম্পায়ার এরাসমুস—ফটো সাংবাদিকদের জন্য দুর্লভ ফ্রেমই বটে। যদিও শুভাশীষের জন্য নিছকই দুর্ভাগ্যের, সেই নো বলটির মতোই।


মন্তব্য