kalerkantho


শেখ রাসেলের পর শেখ জামাল ক্লাবের দায়িত্ব নিল বসুন্ধরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শেখ রাসেলের পর শেখ জামাল ক্লাবের দায়িত্ব নিল বসুন্ধরা

বদলে যাচ্ছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। বড়সড় পরিবর্তন এসেছে ক্লাবের নেতৃত্বে।

বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানকে সভাপতি নির্বাচিত করে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী হয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আবির্ভূত হচ্ছে ক্লাবটি। গতকাল ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অষ্টম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই তরুণ ক্রীড়া সংগঠকের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের নতুন নির্বাহী পরিষদ। তাঁদের হাতেই ফুটবল-ক্রিকেটসহ ক্লাবের অন্যান্য ইভেন্টের শ্রীবৃদ্ধির দায়িত্ব।

নতুন দায়িত্ব নিয়ে সাফওয়ান সোবহান দারুণ উজ্জীবিত, ‘ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই আমি এসেছি। নতুন কিছু পরিকল্পনাও আছে আমার। দেশের প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে ভীষণ আগ্রহী। তাঁর সেই আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে আমিও এই ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছি। ’ পাশাপাশি তাঁর ক্রীড়া পরিবার এবং সাবেক হকি খেলোয়াড় বাবার প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে আমার বাবাই আমার মেন্টর। তিনিই ক্রীড়াঙ্গনে পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছেন আমাদের।

খেলাধুলার মধ্যে আনন্দ খুঁজতে শিখিয়েছেন। ’ বাবা আহমেদ আকবর সোবহান সামনের সারিতে বসে ছেলের বক্তৃতা শুনছিলেন। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান দলের হয়ে হকি খেলেছেন তিনি। তাঁর ক্রীড়ামুখী জীবনের ব্যাপক প্রভাব আছে ছেলেদের ওপর। এ জন্যই আরেক ছেলে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের দায়িত্ব নিয়েছেন আগেই। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবে ছোট ভাইয়ের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনিও হাজির হয়েছেন। শুভ কামনা জানিয়েছেন, ‘নতুন সভাপতি ও নতুন কমিটির অধীনে শেখ জামাল আরো ভালো করুক। ’

ছেলেরা আসলে পরিবারের গুণেই ক্রীড়ার দিকে ঝুঁকেছেন। তাঁদের দাদার প্রজন্ম থেকেই ক্রীড়া আসক্তির শুরু, সেই স্মৃতি রোমন্থন করে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেছেন, ‘আমার বাবা ছিলেন অল ইন্ডিয়া সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন। শহীদ শেখ কামাল আমার এক ক্লাস ওপরে পড়লেও সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। পঁচাত্তরে ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর কেউ যখন আবাহনী ক্লাবে যেতে সাহস করত না, তখন আমার বড় ভাইয়ের (আব্দুস সাদেক) বাসায় আবাহনীর দল গঠনের কাজ হতো। সাদেক ভাই আবাহনীর প্রথম অধিনায়ক। সুতরাং খেলাধুলা আমাদের রক্তে মিশে আছে। আমার ছেলেরাও ক্রীড়াঙ্গনে এসেছে। আমি চাই, তাদের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়ার উন্নয়ন হোক। ’ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্নভাবে ক্রীড়াঙ্গনের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে বসুন্ধরা গ্রুপ। দুই বছর ধরে প্রত্যক্ষভাবে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের দায়িত্ব নিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান। এরপর কাল সাফওয়ান সোবহান নিয়েছেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের দায়িত্ব। ‘বসুন্ধরা গ্রুপ অনেক মানুষের কর্মসংস্থান করেছে। তাদের পক্ষে ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়া কঠিন কোনো কাজ নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনভীরকে (সায়েম সোবহান) ডেকে রাসেলের দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। এরপর মনজুর কাদের অনুরোধ করেছেন শেখ জামালের হাল ধরতে, তাই ছোট ছেলে এগিয়ে গেছে’—দুটি বড় ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন আহমেদ আকবর সোবহান। ক্রীড়াঙ্গনে বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতার কথা তুলে ধরে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় জায়গা জুড়ে আছে এই গ্রুপ। শেখ জামাল ধানমণ্ডি এমন এক মানুষকে সভাপতির পদে বসিয়েছে, যাঁর নেতৃত্বে ক্লাবটি এশিয়ার সেরা হবে। ’

ক্লাবের গতবারের সভাপতি মনজুর কাদের নতুন সভাপতির কাছে দায়িত্বভার তুলে দিয়ে নতুন প্রত্যাশার কথা বলেছেন, ‘এই ক’বছর আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি ক্লাবের ফুটবল-ক্রিকেটকে উঁচুতে নিয়ে যেতে। শিরোপাও জিতেছি। তবে আমাদের তরুণ সভাপতি সাফওয়ান সোবহানের নেতৃত্বে ক্রীড়াঙ্গনে এই ক্লাবের নাম আরো উজ্জ্বল হবে। নিশ্চয়ই তিনি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করবেন। ’ এরপর বসুন্ধরা গ্রুপকে মডেল হিসেবে তুলে ধরে অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, ‘শেখ রাসেলের পর শেখ জামাল ধানমণ্ডির দায়িত্ব নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ, এটা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অনেক বড় ঘটনা। তাদের মতো অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও যদি এগিয়ে আসত...। ’ সত্যি অন্য কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এভাবে হাত বাড়িয়ে দেয়নি ক্রীড়াঙ্গনে। আপাতত পথপ্রদর্শক হয়ে আছে বসুন্ধরা গ্রুপ।

 

ভাই-ভাই তবে ছাড়াছাড়ি নাই!

 


মন্তব্য