kalerkantho


বখাটে বদরুলের যাবজ্জীবন

সিলেট অফিস   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বখাটে বদরুলের যাবজ্জীবন

কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড।

গতকাল বুধবার সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা এ রায় ঘোষণা করেন।

বিচারক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেওয়া এ রায় নারীদের সুরক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ’ তিনি বলেন, খাদিজা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত পাষণ্ড প্রেমিকের চাপাতির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত খাদিজা দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে আছেন। সমগ্র বিশ্বের নারীসমাজের প্রতিভূ তিনি। তিনি বিজয়িনী, প্রতিবাদকারিণী।

প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত রাজন হত্যা মামলার রায়ও দিয়েছেন আকবর হোসেন মৃধা।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে খাদিজা বলেন, তাঁর মতো আর কোনো নারী যেন এমন নির্যাতনের শিকার না হন।

নতুন করে জীবন শুরু করতে চান বলে জানান তিনি।

গতকাল সকালে মামলার একমাত্র আসামি বদরুল আলমকে কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়। জনাকীর্ণ আদালতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। বাংলায় লেখা রায়ের সারাংশ পড়ে শোনান তিনি। রায়ে বদরুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড।

রায় শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বদরুলকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় বদরুল উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলে, ‘এ রায়ে তার কিছু হবে না। আদালত আবেগের বশে এ রায় দিয়েছেন। ’

রায় ঘোষণার সময় খাদিজা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বাবা মাসুক মিয়া ও ভাই শারনান হক শাহীন বিদেশে থাকায় তাঁরাও আসতে পারেননি। তবে খাদিজার চাচা ও মামলার বাদী আব্দুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘মামলার রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দেশবাসীর কাছে খাদিজার জন্য দোয়া চাই। এখন একটাই চাওয়া, রায় যাতে দ্রুত কার্যকর করা হয়। ’

উল্লেখ্য, গত বছর ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার স্বীকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা বদরুল আলম তাঁকে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। মারাত্মক আহত খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ থেকে বিচারক বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বদরুল ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য খাদিজার ওপর পৈশাচিক হামলা চালান। খাদিজাকে খুন করার পরিকল্পনা আসামির ছিল। ’

আদালত বলেন, ‘এ দেশের নারীরা অনেকটা অরক্ষিত। ভিকটিম খাদিজার ঘটনা তা-ই প্রমাণ করে। তাঁরা পদে পদে নিগ্রহ, নির্যাতন, হত্যা ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ জন্য আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও মানসিকতা দায়ী।   মানব-মানবীর মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা চিরন্তন। অন্যথায় পৃথিবীর পথচলা বন্ধ হয়ে যেত। প্রেম-ভালোবাসায় মিলন, বিরহ থাকবেই। প্রেম-বিরহে বা প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এমন পৈশাচিক, নৃশংস আচরণ কাম্য নয়। এমন আচরণ আইন সমর্থিত নয়। ’

বিচারক বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আসামির ওপর সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপের ফলে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হাজার হাজার বদরুল (তথাকথিত রোমিও বা উত্ত্যক্তকারী) ভবিষ্যতে এহেন কাণ্ড থেকে বিরত থাকবে এবং আমাদের নারীসমাজ সুরক্ষিত হবে। ’


মন্তব্য