kalerkantho


আইওআরএ সম্মেলন

সমুদ্র সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান শেখ হাসিনার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সমুদ্র সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান শেখ হাসিনার

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে আরো শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর জোট ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এ অঞ্চলের জন্য দক্ষ নাবিক তৈরিতে বাংলাদেশে ভারত মহাসাগর কারিগরি ও বৃত্তিমূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন।

আইওআরএর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় লিডারস সামিটের একটি অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শেখ হাসিনা মিয়ানমারের শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে ইন্দোনেশীয় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।  

গতকাল সকালে জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে সম্মেলন উদ্বোধনের পর ‘একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরের জন্য সমুদ্র সহযোগিতা জোরদারকরণ’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে মহাসাগর ও সমুদ্রপথ উন্নয়নের মাধ্যমে রিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে রূপান্তরের প্রচেষ্টা চালানো। আসুন, সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করি। আসুন, এক সঙ্গে তরী ভাসাই। ’ তিনি বলেন, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করার পরও এ অঞ্চলের নাবিক ও মেরিন ইঞ্জিনিয়াররা মাঝেমধ্যেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ কারণে নাবিক ও সমুদ্রগামী অন্য পেশাজীবীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই অঞ্চলে দক্ষ নাবিক তৈরির জন্য বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান ওশান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল ইউনিভার্সিটি স্থাপনের প্রস্তাব করছি।

‘ব্লু ইকোনমি’ নিয়ে আইওআরএর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ‘কমন ইন্টারেস্ট’ এর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, ‘ব্লু ইকোনমিই যদি ভারত মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিকে ভবিষ্যৎ নির্ধারক হয়ে থাকে, তাহলে এখন থেকেই বন্ধুত্বের দ্বার উন্মোচন এবং উত্তেজনা কমিয়ে আনতে আমাদের সমুদ্রকে আমাদের কাজে লাগানো উচিত। সেই সঙ্গে সবার নৌ-স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত এবং আইওআরএর মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানো উচিত। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে বৃহত্তর লক্ষ্যের পথে বাংলাদেশ অগ্রসর হচ্ছে, ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাগর ও সমুদ্রপথ ধরে উন্নয়নের লক্ষ্যপূরণ তার একটি অংশ। আসুন, আমরা সবাই সমুদ্র সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেই এবং ভারত মহাসাগরকে একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করি। ’

শান্তি ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দেশের যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেবল সরাসরি যোগাযোগ নয়, আমরা চিন্তা, উদ্ভাবন, ব্যবসা, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি এবং পর্যটনের মাধ্যমেও যোগাযোগ বাড়াতে চাই। শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে আমরা মানুষের হৃদয় ও মনের যোগাযোগ বাড়াতে চাই। ’

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ যে ঝুঁকির মুখে রয়েছে, সে কথাও সম্মেলনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমরা উষ্ণতা বৃদ্ধির এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী নই। কিন্তু আমরাই হচ্ছি এর ভয়াবহতার শিকার। আমরা জলবায়ু বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছি। ’

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহিংস উগ্রবাদ থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাস প্রতিরোধে আইওআরএর ঘোষণার মধ্য দিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে সহযোগিতা ও সমন্বয় আরো বাড়বে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

এর আগে সকালে আইওআরএর বর্তমান চেয়ারম্যান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী ২১টি দেশের রাষ্ট্র, সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আইওআরএর সাত ডায়ালগ পার্টনারসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথিও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শেখ হাসিনা সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। পরে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা একসঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

মিয়ানমারের শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা কামনা : মিয়ানমারের শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠাতে ইন্দোনেশীয় সরকারের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মিয়ানমারের শরণার্থীরা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা এবং এর সমাধান প্রয়োজন। ’

গতকাল লিডারস সামিটের সাইড লাইনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বৈঠকের পরে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রসচিব সম্প্রতি এ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রেসসচিব ইহসানুল করিম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম-বিষয়ক ইউনিটের প্রধান (সচিব) রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খোরশেদ আলম ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, রেল, ওষুধশিল্প ও জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও দুই নেতার বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে উইদোদো তা সাদরে গ্রহণ করেন।

ভিসা সহজ করতে ইউএইর প্রতি আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রদান ব্যবস্থা সহজ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী ড. মাইথা সালেম আল-শামসি গতকাল জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ অনুরোধ জানান।

পরে পররাষ্ট্রসচিব এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের জবাবে ইউএইর প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় তাঁর সংশ্লিষ্ট সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।  

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং ও জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নবু কিশিও একই স্থানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভি কে সিং আগামী এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।  

এফটিএ স্বাক্ষর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-কলম্বো : বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করার জন্য দ্রুত প্রক্রিয়া চালাতে সম্মত হয়েছে। জাকার্তা সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য