kalerkantho


পুলিশ-জঙ্গি অস্ত্র হাতে মুখোমুখি

চান্দিনায় বাসে তল্লাশির সময় হামলা, দুই জঙ্গি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পুলিশ-জঙ্গি অস্ত্র হাতে মুখোমুখি

হামলা চালিয়েও পালিয়ে যেতে পারেনি জঙ্গি জসিম। গুলি করে তাকে আটক করা হয় এক সহযোগীসহ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় তল্লাশি চলাকালে বাস থেকে নেমে পুলিশের ওপর বোমা ছুড়ে মারায় সন্দেহভাজন দুই জঙ্গিকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তাদের কাছ থেকে ছয়টি বোমা, একটি ধারালো ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পুলিশের ধারণা, নাশকতার মিশন নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল জেএমবির এই দুই জঙ্গি।

পুলিশ জানায়, আটক দুই যুবকের নাম জসিম (২২) ও হাসান (২৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান দাবি করেছে, তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট গ্রামে, বাবার নাম মোহাম্মদ হোসাইন (মৃত)। তবে পরে সে একেকবার একেক ঠিকানার কথা বলছে। আর পুলিশের গুলিতে আহত জসিমের পরিচয় তাত্ক্ষণিক জানা যায়নি।  

হাইওয়ে পুলিশের ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মনিরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে চলাচলরত গাড়ি চিহ্নিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চান্দিনার কুটুম্বপুর এলাকায় অভিযান চলছিল। অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির সার্জেন্ট কামাল হোসেন। সকাল সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অতিরিক্ত গতিতে চলছে বলে ধরা পড়ে।

পুলিশ গাড়িটি ধাওয়া করে আটক করার পর বাস থেকে নেমে আসা যাত্রীবেশী দুই যুবক ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি বোমা ছোড়ে। তবে বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। পুলিশ ধরতে গেলে তারা আরো বোমা মারার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে পালানোর উদ্দেশে তারা দৌড় দেয়। পুলিশও ধাওয়া শুরু করে। জঙ্গিরা দৌড়ে সড়কের পাশের গ্রামের ঢুকে পড়ে। এ সময় পুলিশ গুলি ছোড়ে। প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টায় এবং ২৪টি গুলি ছোড়ার পর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়। জসিম গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে ধানক্ষেত থেকে ধরে আনে স্থানীয়রা।  

হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা গতি নিয়ন্ত্রণে যাত্রীবাহী গাড়িটি ধাওয়া করার একপর্যায়ে বাসে থাকা জেএমবি সদস্যরা আটকের আতঙ্কে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। ’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জসিম ঘটনার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এক হাতে বোমা ও এক হাতে ছুরি নিয়ে পুলিশকে হুমকি দিচ্ছিল। পুলিশ আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানালেও সে সাড়া দেয়নি। পরে পুলিশ গুলি ছোড়ে। স্থানীয় লোকজনও জসিমকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে সে গলায় গুলিবিদ্ধ হলেও ওই অবস্থায়ই ধানক্ষেতের দিকে দৌড় দেয়। সেখানে স্থানীয় দুই ব্যক্তি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে তাকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, ‘নিজের জীবন নিজে দেব, আত্মহত্যা করব, তবু তোদের কাছে আত্মসমর্পণ করব না। তোদের (পুলিশ) বড় অফিসার কে? তাকে আসতে বল। তোরা আমাকে ধরতে পারবি না। আমার হাতের বোমায় আত্মহত্যা করব, শহীদ হব, আল্লাহু আকবার। ’ এভাবে পুলিশকে হুমকি দিচ্ছিল জসিম।

ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চল সুপার রেজাউল করিম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবিদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানায়, জসিমকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সে কথা বলতে পারছে না। গত রাতে তার গলায় অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। আর চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত রাতে হাসানকে হেফাজতে নিয়েছে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এসপি শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা দুই জেএমবি জঙ্গিকে ধরেছি। হাইওয়ে পুলিশের টহল ইউনিট দ্রুতগতির একটি বাস থামানোর জন্য নির্দেশ দিলে জেএমবি সদস্যরা নেমে পুলিশের ওপর বোমা চার্জ করে। একপর্যায়ে পুলিশ ফায়ার ওপেন করে। এতে জেএমবি সদস্যদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে দুজনকেই আমরা আটক করি। তাদের কাছ থেকে বোমা, বোমার নতুন ধরনের কিছু ডিভাইস পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সঙ্গে আর কারা আছে, তাদের পরিকল্পনাসহ বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করব। তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। ’

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সূত্র জানায়, এ ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা গতকাল বিকেলে কুমিল্লায় গিয়ে চারটি গ্রেনেড বোমা নিষ্ক্রিয় করেছেন। দলের প্রধান অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, কুমিল্লার গ্রেনেডগুলো জেএমবির সাম্প্রতিক ঘটনায় ব্যবহৃত হ্যান্ডমেড গ্রেনেডের মতোই। তবে আগেরগুলোর চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ শক্তিশালী। এতে শক্তিশালী বিস্ফোরক ও আপডেট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এগুলো তৈরিতে নকশাগত কিছু সমস্যার কারণে বিস্ফোরিত হয়নি। বিস্ফোরিত হলে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।


মন্তব্য