kalerkantho


এ মাসেই আগামী সংসদ নির্বাচনের ‘রোডম্যাপ’

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি

বিশেষ প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এ মাসেই আগামী সংসদ নির্বাচনের ‘রোডম্যাপ’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি মাসেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের ‘রোডম্যাপ’ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। কমিশন সচিবালয় থেকে পুরোদমে রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক মাসের মাথায় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অধীনে ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।   আগে সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও করেছে নবগঠিত ইসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গতকাল সোমবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনের পথে করণীয় নিয়ে সচিবালয় আগামী দুই বছরের একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করছে। এটা হচ্ছে একটা রোডম্যাপ, যার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করা হবে। এই কর্মপরিকল্পনা চলতি মাসে চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য কমিশন একটি পরিকল্পনা করছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে কোন দিন কী কাজ করলে ভালো হবে সেটা চূড়ান্ত করা হবে। ইসির এই পরিকল্পনা অনুসারে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ হয় সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। বর্তমান সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হবে ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি। সে ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারির পূর্বের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জানা যায়, প্রস্তাবিত রোডম্যাপে রাজনৈতিক দল, মিডিয়া সবার সঙ্গেই সংলাপের প্রস্তাবনা থাকবে। ইসির কর্মপরিকল্পনার মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার নিবন্ধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণ, ডিজিটাল ভোটিং মেশিনে (ডিভিএম) ভোটগ্রহণ, বিভিন্ন আইন-কানুন সংশোধন ও আলোচনার জন্য সম্ভাব্য সূচি থাকবে। সেই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করে কাজ শেষ করার বিষয়টি রোডম্যাপে অগ্রাধিকার পাবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সবার মতামত নেওয়ার পক্ষে এ মাসের শেষ দিকে কমিশনের কাছে প্রস্তাব রাখবে ইসি সচিবালয়। কর্মপরিকল্পনাটিতে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো কমিশন বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করবে ইসি সচিবালয়।

সচিব বলেন, ইসির সামনে বড় ইস্যু হচ্ছে একাদশ সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনটি করতে আগামীতে কী কী করণীয় রয়েছে; কাজগুলো কত দিনের মধ্যে করতে হবে—তার জন্য একটি চেকলিস্ট প্রণয়ন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে এসংক্রান্ত রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে ইসিসচিব বলেন, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমসহ সব স্টেকহোল্ডারের মতামত নেওয়ার প্রস্তাবনা থাকবে। ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা থাকবে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবালয়ের সুপারিশের পর ‘পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে’ বা পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে সবার সঙ্গে বসার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে মনে করেন তিনি।


মন্তব্য