kalerkantho


চলে গেলেন ডেইলি সান সম্পাদক আমির হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চলে গেলেন ডেইলি সান সম্পাদক আমির হোসেন

সাংবাদিকতাই ছিল যাঁর ধ্যান-জ্ঞান, জীবনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সময়ই যাঁর কেটেছে সাংবাদিকতায়, সেই মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিকের জীবনাবসানও হলো পেশাগত দায়িত্ব পালনকালেই। বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি সান’ সম্পাদক আমির হোসেন গত রবিবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দ্য ডেইলি সান কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ হূদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাঁকে নিয়ে ভর্তি করা হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। রাতেই শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে তাঁকে রাখা হয় লাইফ সাপোর্টে। গতকাল সোমবার দুপুরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিষ্ঠাবান সাংবাদিক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত আমির হোসেন ব্যক্তিজীবনে ছিলেন ?অত্যন্ত অমায়িক, সজ্জন, মিতভাষী ও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। এই কৃতী সাংবাদিকের মৃত্যুতে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপসহ গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

কর্মজীবনে আমির হোসেন এর আগে দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলার বাণী, বাংলাদেশ টুডেসহ বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০-৭১ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার ছিলেন তিনি। স্বাধীনতাপূর্বকালে দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টার হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি কাভার করতেন আমির হোসেন।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবর লিখেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলার বাণীর যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন আমির হোসেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এই সাংবাদিক স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে নিয়মিত সংবাদ বিশ্লেষক হিসেবেও কাজ করেছেন। সে সময়ের স্মৃতিচারণা করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘একাত্তর সালে আমি ও আমির হোসেন এক বাড়িতে থাকতাম। আমরা তখন একটি পত্রিকা বের করেছিলাম। নাম ছিল সাপ্তাহিক বাংলার বাণী। তিনি আমার অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। ’ তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শেখ ফজলুল হক মনি বাংলার বাণী দৈনিক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলে সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান আমির হোসেন। পরে বাংলার বাণীতে দীর্ঘ সময় সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘এই সময়’ পত্রিকার তিনি সম্পাদক ছিলেন।

আমির হোসেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

সাংবাদিক আমির হোসেনের প্রথম জানাজা গতকাল বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের মিডিয়া হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক ও নিউজ২৪’র সিইও নঈম নিজাম, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের এডিটর ইন চিফ আলমগীর হোসেন, প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী, বসুন্ধরা গ্রুপের গণমাধ্যম উপদেষ্টা আবু তৈয়ব, কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামালসহ এ গ্রুপের সব কটি গণমাধ্যমের কর্মীরা জানাজায় অংশ নেন।

বাদ আসর জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আমির হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শওকত আলী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল আলম, ডিইউজের সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদরা। এরপর জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীনসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে প্রয়াত সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আমির হোসেন সম্পর্কে এক সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের একজন অভিভাবককে হারিয়েছি। ’ আরেক নেতা বলেন, নতুন অনেকেই আসবে, কিন্তু আমির হোসেনের স্থান পূরণ হওয়ার নয়। তিনি সাংবাদিকতার জগতে কিংবদন্তি ছিলেন।

রাতে আমির হোসেনের মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর মরদেহ মাদারীপুর নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ জোহর মাদারীপুরের শিবচরে ক্রোকচর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।


মন্তব্য