kalerkantho

আজ শুরু গল টেস্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আজ শুরু গল টেস্ট

চোট কাটিয়ে আবারও ফিট মুস্তাফিজুর রহমান। প্রায় দুই বছর পর ‘কাটার মাস্টার’ ফিরছেন টেস্টে। সাদা জার্সিতে ফেরাটা রঙিন করার প্রস্তুতিই নিচ্ছেন তিনি। ছবি : এএফপি

সম্ভাবনা আর তার বাস্তবায়ন—দুটির মধ্যে বিস্তর ফারাক। আজ যেমন গলে শুরু হওয়া টেস্টে কাগজে-কলমে এগিয়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা দলে অনভিজ্ঞতায় ঠাসা। অন্যদিকে ২০১৩ সালের সুখস্মৃতি আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমানের টেস্ট প্রত্যাবর্তনে বড় স্বপ্নই দেখছে বাংলাদেশ। তবে সবটাই ম্যাচপূর্ব হিসাব-নিকাশ। বাস্তবতা জানা যাবে বল মাঠে গড়ানোর পর, হাসিমুখে মাঠ ছাড়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে শুধু প্রয়োগ ক্ষমতা। সে বাংলাদেশ হতে পারে, আবার শ্রীলঙ্কাও।

শেষবার বাংলাদেশ যখন শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিল টেস্ট খেলতে তখন সদ্যই দ্বীপদেশটির ক্রিকেট সাম্রাজ্যের মুকুট পরেছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। তবে আসল মুকুটটা তখনো কুমার সাঙ্গাকারার, সেনাপতি তিলকরত্নে দিলশান। ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতার সেই ভার নেই এখন। প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দীনেশ চান্ডিমাল ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন বটে, তবে সাঙ্গাকারার সেই নির্ভরতা নেই কারো ব্যাটেই।

বোলিংয়ে এক রঙ্গনা হেরাথ ছাড়া চামিন্ডা ভাস কিংবা মুত্তিয়া মুরালিধরনের কোনো অনুসংস্করণ

 নেই। বিপরীতে ক্রমাগত উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বাংলাদেশ ২০১৩ সালের লঙ্কানদের বিপক্ষেই বুক চিতিয়ে লড়ে ড্র করেছিল গলে। বাংলাদেশের হয়ে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরিয়ানের খাতা খোলা, ৫৭০ রানের জবাবে ৬৩৮ রান তোলাকে আরব্য রজনীর মতোই অকল্পনীয় মনে হয়েছিল তখন। তো, সেই সুখস্মৃতির অনেকের সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ হয়েছে মাঝের বছর তিনেকের অভিজ্ঞতা।

অবশ্য ‘নতুনত্ব’ আছে বাংলাদেশের বেলাতেও। মুশফিকুর রহিমের উইকেটকিপিং ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। প্রায় এক দশক পর সেই শ্রীলঙ্কাতেই গ্লাভস ফেলে নিখাদ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাই দীর্ঘ বিরতির পর উইকেটের পেছনে দেখা যাবে লিটন দাশকে। প্রায় দুই বছর পর টেস্টে ফিরছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাসকিন আহমেদ আর তাঁর জুটির ব্যাকআপ হিসেবে প্রয়োজনে সৌম্য সরকারকে ব্যবহার করতে পারবেন মুশফিক। স্পিন আক্রমণ আরো ক্ষুরধার। সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তাইজুল ইসলাম—আধুনিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট উপযোগী বোলিং আক্রমণ। মুশফিক নিজেও গতকাল বলেছেন, ‘আমাদের বোলিং বৈচিত্র্য ওদের (শ্রীলঙ্কাকে) বড় বিপদে ফেলবে। ’ টেস্টের আগে বাংলাদেশের আর কোনোকালে কোনো অধিনায়ককে বোলিং আক্রমণ নিয়ে এতটা উচ্চাশা ব্যক্ত করতে শোনা যায়নি।

উচ্চাশা রয়েছে ব্যাটসম্যানদের ঘিরেও। অভাবিত কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ইনিংস নেই তামিম ইকবালের। আশার কথা, প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রানের অপূর্ণতাও জাগিয়ে তুলতে পারে তামিমকে। শুভ সূচনার অনেকটাই নির্ভর করছে তাঁর ওপর। পরিবর্তনের ধাক্কায় ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে উঠে আসছেন মুশফিকুর রহিম। মাহমুদ উল্লাহকে ছয়ে নামিয়ে তাঁর চার নম্বরে ব্যাট করার সম্ভাবনা বেশি। অন্তত পাঁচের নিচে ব্যাটিংয়ে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই গল টেস্টে। অবশ্য ব্যাটিং অর্ডার নয়, বাংলাদেশ অধিনায়কের দাবি, ‘ব্যাটসম্যানদের বড় রান করতে হবে। ’ সে রানটা টপ কিংবা মিডল অর্ডারের যে-ই করেন না কেন।

ওদিকে গলের উইকেটের কথা ভেবে তিন স্পিনার খেলানোর কথা ভাবছে শ্রীলঙ্কাও। তবে মুশফিকের মতো লঙ্কান অধিনায়ক হেরাথও ঘটা করে একাদশ জানাতে রাজি নন, ‘সকালে উইকেট দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। ’ অবশ্য গলের উইকেট মোটেও গোলকধাঁধা নয়। ২০১৩ সালে যে উইকেট পেয়েছিলেন মুশফিকরা, সেটা ক্রিকেটের পরিভাষায় মসৃণতম রানওয়ে। অনুমিত কারণেই এবার সে আতিথ্য দিচ্ছে না শ্রীলঙ্কা। দুই দিন আগেও ঘাসে ঢাকা ছিল। তবে ক্রমাগত ঘাস ছাঁটার পর শেষমেশ বাদামি উইকেটই পাবেন বলে ধরে নিয়েছেন মুশফিক। প্রচণ্ড গরমের কারণে উইকেটও ভাঙবে, যেন স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পান। উইকেট তৈরিতে নিভৃতে হোম টিমের অধিনায়ক অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। আর রঙ্গনা হেরাথ নিজে স্পিনার এবং দলের বোলিং আক্রমণের প্রাণভোমরাও। তাতে ধরেই নেওয়া যায় গলে বল ঘুরবে।

এই প্রথম উইকেটের সম্ভাব্য চরিত্র নিয়ে দিশাহারা দেখাচ্ছে না বাংলাদেশকে। পেস সহায়ক হলে যেমন রিজার্ভে যোগ্যদের ভিড়, তেমনি রয়েছে থ্রি-স্টার স্পিনারও। অভিজ্ঞতায় লঙ্কানদের চেয়ে ব্যাটিংয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ।

বিপত্তি শুধু একটাই দেখছেন মুশফিকুর রহিম, ‘প্রচণ্ড গরম। ’ এমন আবহাওয়ায় পাঁচ দিন সমানতালে লড়াইয়ের শক্তি আছে কি না দলে, এ নিয়েই কিছুটা চিন্তিত বাংলাদেশ অধিনায়ক। এ তো আর শুধু ফিটনেসের ব্যাপার নয়, অভ্যাসেরও। দীর্ঘ অভ্যাসে একটা মানসিকতা গড়ে ওঠে, যা বাংলাদেশ দলে অনুপস্থিত। সাম্প্রতিককালে এক ইনিংস দুর্দান্ত লড়ে পরেরটায় নেতিয়ে পড়ার কারণ এটাই।

এই একটা জায়গায় অনভিজ্ঞ হলেও এগিয়ে লঙ্কানরা। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটটা যে তারা আত্মস্থ করে শৈশবেই। সিংহভাগ ক্ষেত্রে মাঠে সামর্থ্যের প্রয়োগ ক্ষমতার চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে এ অভ্যাসটা। তাই বাংলাদেশ এগিয়ে থেকে শুরু করলেও পেছন থেকে লঙ্কানদের থাবা বসানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 


মন্তব্য