kalerkantho


মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নিতে প্রিজন ভ্যানে ককটেল হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও গাজীপুর   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নিতে প্রিজন ভ্যানে ককটেল হামলা

রাজধানীর উপকণ্ঠ টঙ্গীতে হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নানকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানে ককটেল হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা চালিয়ে হান্নানসহ অন্য আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা ধারণা করছেন।

তবে পুলিশ, কারারক্ষী ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল সোমবার টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মোস্তফা কামাল স্বপন নামের এক তরুণকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তার কাছ থেকে নগদ টাকা, সাউন্ড গ্রেনেড, হাতবোমা ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, আটক মোস্তফা কামাল ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পাগলী গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে এবং একটি মাদরাসার ছাত্র। ঘটনার পর টঙ্গীর ব্যস্ততম কলেজ গেট এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। গত রাত ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। একই সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে পুরো এলাকার নিরাপত্তা।

রাজধানীতে গত সপ্তাহে হুজির কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নেতা হান্নানকে ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার ব্যাপারে তথ্য পায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

এই তথ্যের পর হান্নানকে আদালতে আনা-নেওয়ার পথ ও কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।  

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হাজিরা দিতে গতকাল ঢাকায় আদালতে হাজির করা হয় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি মুফতি হান্নানসহ ২১ জঙ্গিকে। বিকেলে প্রিজন ভ্যানে তাদের গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রিজন ভ্যানের সামনে ও পেছনে দুটি নিরাপত্তা টহল পুলিশ পিকআপও ছিল। প্রিজন ভ্যানটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় পৌঁছলে সড়কের পাশের নার্সারির ভেতর থেকে পর পর চারটি ককটেল ছুড়ে মারা হয়, একটি ককটেল প্রিজন ভ্যানে ও অপর একটি পেছনে থাকা টহল পুলিশের পিকআপে। বাকি দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সড়কে বিস্ফোরিত হয়।

এই ককটেল হামলা চলাকালেই এক তরুণ প্রিজন ভ্যানের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। তার পেছনে ছিল আরো দুই যুবক। পিকআপে থাকা পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়লে তিন যুবকই পালাতে শুরু করে। এ সময় পথচারীরা মোস্তফাকে দুটি ব্যাগসহ আটক করে টঙ্গী শিল্প পুলিশে সোপর্দ করে। অন্যরা মানুষের ভিড়ে মিশে যায়।  

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল টঙ্গীর কলেজ গেটের কাছে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সব সময় ওই এলাকা নির্জন থাকে। গতকাল মানুষের ভিড় থাকায় হামলাকারীরা সফল হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক হাফিজুল ইসলাম বলেন, আটক মোস্তফার ব্যাগ দুটি তল্লাশি চালিয়ে একটি সাউন্ড গ্রেনেড, সাতটি হাতবোমা ও দুইটি চাপাতি পাওয়া যায়। শরীর তল্লাশি করে সাড়ে সাত হাজার টাকাও পাওয়া যায়। পরে তাকে টঙ্গী থানায় সোপর্দ করা হয়। তিনি আরো বলেন, আটক তরুণ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সে প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেছে। তবে কে বা কারা কেন তাকে এই টাকা দিয়েছে তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।  

এদিকে কাশিমপুর কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কাশিমপুর কারাগার থেকে মুফতি হান্নানসহ ১৯ জন এবং কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ থেকে দুই জঙ্গিকে হাজিরার জন্য গতকাল ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়েছিল। ফেরার পথে ককটেল হামলা হলেও এতে কেউ হতাহত হয়নি।

টঙ্গী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২১ জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিতে তার সহযোগীরা এই ককটেল হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ সাংবাদিকদের বলেন, আটক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার উদ্দেশ্য ও তার সহযোগীদের নাম-ঠিকানা জানার চেষ্টা চলছে।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জঙ্গি আসামিদের প্রায় প্রতিদিনই এভাবে কারাগারে আনা-নেওয়া করা হয়। আজ একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে আমাদের কোনো আসামির সমস্যা হয়নি। সব আসামিসহ প্রিজন ভ্যান ফেরত এসেছে। ’


মন্তব্য