kalerkantho


মিয়ানমারের ইয়াবায় বিষাক্ত বাংলাদেশ

এস এম আজাদ   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমারের ইয়াবায় বিষাক্ত বাংলাদেশ

কক্সবাজার সৈকতের কাছে ইনানী-হিমছড়ি পয়েন্ট দিয়ে সমুদ্রপথে দ্রুতগতিতে চলছিল একটি মাছধরা ট্রলার। ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তায় এফবি জানিবা খালেদা-১ নামের ট্রলারটি আটক করে র‌্যাব।

তল্লাশি চালিয়ে ট্রলারে মাছ রাখার কুঠুরি থেকে উদ্ধার করা হয় সাড়ে চার লাখ ইয়াবা বড়ি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এ অভিযান চালানো হয়। এর পর র‌্যাব তথ্য পায় মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালানটি এনেছে মংডুর মুন্সিপাড়ার জাহাঙ্গীর ও ওসমান গনি নামের দুই তরুণ। সঙ্গে ছিল কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা হাবিবুল্লাহ, জাহিদ হোসেন ও আবদুল হামিদ নামের তিনজন। মিয়ানমারের মংডুর ইয়াবা ডিলার রশীদের কাছ থেকে চালানটি যাচ্ছিল কক্সবাজারের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার সুলতান আহম্মদের কাছে। র‌্যাব ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী মংডুর সুয়েজা ডেইলপাড়ার মৃত আমির আহমেদের ছেলে রশীদই এখন টেকনাফসহ আশপাশের এলাকায় বেশি ইয়াবা সরবরাহ করছে। ডেইলপাড়ায় ইয়াবা তৈরির কারখানাও আছে তার।

গত বছরের ১৭ জুন মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আসা মাছ ধরার দুটি ট্রলার থেকে ২৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা জব্দ করে র‌্যাব। এটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ধরা পড়া ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান।

সে সময় আলী আহম্মদ ও হামিদ উল্লাহ নামের দুই ইয়াবা ডিলার ধরা পড়েছিল। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করেছিল মিয়ানমারের নাগরিক বমংক ও আয়াতুল্লাহর কাছ থেকে। মংডুর একটি কারখানায় ইয়াবা তৈরি করে বমংক। সেগুলো নৌপথে বাংলাদেশে পৌঁছে দেয় আয়াতুল্লাহ।

সম্প্রতি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ইয়াবার কয়েকটি চালান ধরা পড়ে—যেগুলো মিয়ানমার থেকে সৈয়দ নামের এক ডিলার পাঠিয়েছিল। সৈয়দের বাড়ি মিয়ানমারের আকিয়াবের ফয়েজপাড়ায়, বাবার নাম কেফায়াত আলী। তদন্তকারীরা তথ্য পেয়েছে, ওই এলাকার কারখানায় তৈরি ইয়াবা সরবরাহ করছে সৈয়দ।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য আছে যে রশীদ, বমংক, আয়াতুল্লাহ ও সৈয়দের মতো ২৫ শীর্ষ ইয়াবা ডিলার মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা সরবরাহ করছে। বাংলাদেশ লাগোয়া মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা তৈরি হচ্ছে অন্তত ৪৬টি কারখানায়।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, চীন ও থাইল্যান্ড সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমারের শান ও ওয়া রাজ্য থেকে মরণ নেশা ইয়াবার কাঁচামাল ইয়াঙ্গুন হয়ে রাখাইন রাজ্যের সিটওয়ে ও মংডুতে পৌঁছে। এসব কারখানার মধ্যে ১০টি গড়ে উঠেছে মংডু এলাকায়ই। এখন নাফ নদী পার হয়ে নৌযানে ইয়াবার চালান চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে।

মাদক ও অপরাধ নির্মূলবিষয়ক জাতিসংঘ কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মিয়ানমারের ইয়াবা কারখানাগুলোকে। মাদকের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় কমিটিকে (সিসিডিএসি) ইয়াবা কারখানার তালিকা দিয়ে প্রতিকার চাইছে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তবে কারখানা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেয়নি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে একটি তালিকায় মিয়ানমারকে ৪৫টি ইয়াবা কারখানার ব্যাপারে তথ্য দেয় বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, এসব কারখানার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ডিএনসির বিদায়ী মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তালিকা দিয়ে সহায়তা চাওয়াটাই বড় বিষয় নয়। প্রতিবেশী দুটি দেশকে একসঙ্গে অনেক সমস্যাই সমাধান করতে হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের আস্থার সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটছে। শিগগিরই আমাদের তৃতীয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। এর মাধ্যমে সহযোগিতার আলোচনা হবে। ’

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজার, টেকনাফ, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবার চালান ধরা পড়ে। চালানের সঙ্গে মিয়ানমারের অনেক নাগরিকও ধরা পড়েছে। মংডু, সিটওয়েসহ কয়েকটি এলাকায় বসতবাড়িতে ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে বলে তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি প্রাথমিক তালিকা করে। ওই তালিকা ধরে মিয়ানমারে সোর্স দিয়ে তল্লাশি চালায় একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এতে ৪৫টি কারখানার তথ্য মেলে। প্রতিটি কারখানা থেকে নিজস্ব সিন্ডিকেটে ইয়াবা আসে। বান্দরবান সীমান্ত এলাকার মিয়ানমারের নারায়ণচক এলাকায় রয়েছে আরেকটি ইয়াবা কারখানা। মণিপুরী অধিবাসীরা সেখানে ইয়াবার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।

কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা হয়েছে কক্সবাজারের এক ইয়াবা কারবারির। তার দাবি, দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল সে, পরে জামিনে ছাড়া পায়। তবে এখন আর ইয়াবার কারবার করছে না। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই কারবারি জানায়, মংডুর সুয়েজা ডেইলপাড়া, বাউলি বাজার, থাং ইয়, আনাইক্কা, আল লে থান কিওয়ে, সংসমা, আকিয়াব, সুয়েজা খায়নলখালী, ফয়েজপাড়া, নোয়াপাড়া, আলে কালাইওয়া, জাদিপাড়া, সাবাইগন, কিম্বুক, কাইম্রুক, তমব্রু, দাগশিন নীল ও সিটওয়ের কিছু এলাকায় প্রকাশ্যে পাইকারি দরে ইয়াবা কেনাবেচা হয়। বাংলাদেশ থেকে ডিলার গিয়ে বা সেখানকার ডিলাররা বস্তায় ভরে ইয়াবা নিয়ে আসে। ওই সব এলাকায় ইয়াবার শতাধিক ছোট কারখানা আছে। ইয়াবা তৈরির যন্ত্রগুলো ছোট ও বহনযোগ্য। ফলে কারবারিরা সহজেই বাসাবাড়িতে গোপনে কারখানা চালু করছে।

ডিএনসির এক কর্মকর্তা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের কারণে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাদের রুট পরিবর্তন করছে। ইউএনওডিসি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে গোয়েন্দা সূত্রে ইয়াবা পাচারের প্রধান কেন্দ্রগুলো শনাক্ত করেছে। মিয়ানমারের প্রধান তিনটি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা ঢুকছে। মংডু থেকে বাউলি বাজার-সাহেব বাজার-ঘুনধুম হয়ে কক্সবাজার, মংডু থেকে বাউলি বাজার-সাহেব বাজার-পালেতোয়া হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি এবং থাং ইয় থেকে সেন্ট মার্টিনস হয়ে কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে ইয়াবা চালান যাচ্ছে। সিটওয়ে থেকেও নৌপথে কক্সবাজার অথবা চট্টগ্রামে যাচ্ছে চালান। ওই তিন কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা ঢোকার স্থানগুলোকে ১৫টি রুটে ভাগ করেছেন গোয়েন্দারা। আগে ইয়াবার চালানগুলো শুধু টেকনাফ, উখিয়াসহ কক্সবাজারে আসত। এখন নৌপথে চট্টগ্রাম, মেঘনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন জেলা এমনকি ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল ও খুলনায়ও চলে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, সড়কপথে ইয়াবা পাচারের জন্য খণ্ডিত পথ বেছে নেয় কারবারিরা। তারা রাখাইন রাজ্যের মংডু থেকে বাওয়ালি বাজার-শবেকদরের বাজার-ঘুনধুম-কক্সবাজার রুট এবং মংডু-বাওয়ালি বাজার-শবেকদরের বাজার-পালেতোয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি-বান্দরবান রুট ব্যবহার করছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে মংডু, বুথিডং এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সেনা কর্মকর্তা, কাস্টমস অফিসার ও পুলিশ বাহিনীর যোগাযোগ থাকায় শান রাজ্য থেকে ইয়াবা আসার সময় কোনো সমস্যা হয় না। বিভিন্ন চেক পয়েন্টে পাস ও পরিচয় নিশ্চিত হলে চালান ছেড়ে দেওয়া হয়। ইয়াবা বহনকারীদের বেশির ভাগও শান রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সক্রিয় সদস্য।

সূত্র মতে, মিয়ানমারের মংডু, সিটওয়ে, মইং, কুখাই, নামকখাম, শান, ওয়া, মংশাত, তাশিলেক, মংপিয়াং, মংইয়াং ও পাংশাং, কুনলং, টেংইং, সেন, লুই হুপসুর, কাইয়াং, মাহাজা অ্যান্ড হুমং, কেউও, মাওকমাই, কাকাং মংটন কাশিন ও আইক্কা এলাকায় ইয়াবা কারখানা বেশি।

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার কয়েকটি সূত্র জানায়, টেকনাফ এলাকায় এখন রশীদের ইয়াবার চালান বেশি আসছে। এর আগে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা পাঠাত আলম নামের এক ডিলার। মংডুর শফিউর রহমানের ছেলে আলম বাংলাদেশের মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করত। গত বছর গ্রেপ্তারের পর মংডুর কারাগারে আছে সে। মংডুর গোজাবিল এলাকার মৃত খুল মোহাম্মদের ছেলে কালা সোনা পাঁচ লাখের নিচে ইয়াবা বিক্রি করে না। একই এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে মোহাম্মদ নূরের এক ডজন সহযোগী আছে টেকনাফে।

গোয়েন্দা সূত্রে আরো কয়েকজন ডিলারের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে, যারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে ইয়াবা বিক্রি করে এবং পরে চলে যায়। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাদের সে দেশের নাগরিক হিসেবে মেনেই নিতে চায়নি। পরে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়েছে। এরা হলো মংডুর সংসমার মৌলভী সিদ্দিক আহমেদের ছেলে যোবায়ের আহমেদ, করিমেরে ছেলে মহিবুল্লাহ, গোনাপাড়ার বাবুলের ছেলে হারুন, আলী আহমেদের ছেলে মাত জোহার, সুদাপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে আলী জোহর, নাপিতের ডেউল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে নুরু, সাবেক নাশাকা সেক্টর-১-এর বাশারের ছেলে আবদুল গফুর, সুয়েজা খায়নলখালীর আবদুর রহমানের ছেলে রশীদ, ফরেজিপাড়ার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে সৈয়দ করিম, আলমের ছেলে জয়নাল ওরফে জাইন্যা, জুলাপাড়ার মকবুল আহমেদের ছেলে আসাদুল্লাহ, বাছের উল্লাহর ছেলে হাফেজুর রহমান, হাজি জালালের ছেলে আরেফ আলী, সাবেক নাশাকা সেক্টর-৭-এর গডফাদার হাজি সাইফুলের মামা ইব্রাহিম, ম্যাংয়ালার শফিউর রহমানের ছেলে মতি শফি, হেতেল্লাপাড়ার রফিকের ছেলে সাদেক, নাসাকা সাবেক সেক্টর-৫ নোয়াপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে হামিদ হোসেন, সৈয়দ কাসিমের ছেলে সৈয়দুল আমিন ও হাজি শামসুর ছেলে ইউসুফ।

ইউএনওডিসির তথ্যানুযায়ী চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসের রুটে ইয়াবাজাতীয় মাদকের চালান পাচার হয়। আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিদের প্রধান লক্ষ্য থাইল্যান্ড ও চীনের বাজার। সেখানে ইয়াবা বড়ির ব্যাপক চাহিদা। তবে ২০০৮-২০০৯ সাল থেকে ওই সব দেশে অভিযান জোরদার হওয়ায় মিয়ানমারে ঘাঁটি গাড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। পরে তাদের প্রধান টার্গেট হয় বাংলাদেশ। প্রাপ্ত তথ্য মতে, মিয়ানমারের কয়েকটি রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা চীন ও থাইল্যান্ডে ইয়াবা পাচার করে অর্থ সংগ্রহ করত। তবে মিয়ানমার ওই সীমান্তে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করায় ইয়াবা কারখানার মালিকারা তাদের মেশিনপত্র নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে এসেছে। যদিও কাঁচামাল আসছে ওই সব রাজ্য থেকেই।

ইয়াবা কারবারিদের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিএনসি কর্মকর্তা জানান, থাইল্যান্ড সীমান্তের শান ও ওয়া রাজ্য থেকে ইয়াঙ্গুনে আসছে চালান। সেখান থেকে সিটওয়ে ও মংডুতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় আসে। আগে সরাসরি ট্যাবলেট তৈরি করে আনা হলেও ২০১০ সালের পর থেকে কাঁচামাল এনে এসব সীমান্তের কারখানায় বানানো হয় ইয়াবা। মিয়ানমারের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি চীন-থাইল্যান্ড সীমান্তে সক্রিয় থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টোচিত্র। কারখানা স্থাপন ও ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে তাদের মদদেই। কারখানাগুলো পরিচালনাও করছে তাদের কতিপয় ব্যক্তি। গোয়েন্দা সূত্র মতে, মিয়ানমারের বিজিপি ও পুলিশের বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা কম, তাই তারা বাড়তি রোজগারের জন্য অবৈধ এ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজার সীমান্ত এলাকার ব্যাটালিয়ন-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল-জাহিদ বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে সেখানকার ব্যবসায়ীরা ইয়াবা তৈরি করে নিয়ে আসে। সীমান্ত পাহারার সময় বিজিবিই সবচেয়ে বেশি ইয়াবার চালান ধরেছে। সতর্ক পাহারা সত্ত্বেও চোরাচালানিচক্র দুর্গম নৌপথে ঢুকে পড়ে। বিজিবির সতর্কতার কারণে অনেক চালান ধরা পড়ার পাশাপাশি অনেক কারবারিও শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়েছে।

 


মন্তব্য