kalerkantho


মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু ১০ মার্চ

হায়দার আলী   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু ১০ মার্চ

অবশেষে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাছাই হওয়া কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। অনলাইন পদ্ধতিতে বাছাই করা কর্মীদের মধ্যে ১০৬ জনকে নিয়ে আগামী ১০ মার্চ প্রথম ফ্লাইট মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। পরে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিন দফায় চার শতাধিক কর্মী যাবেন। মালয়েশিয়ার সেবা খাত ও শিল্প-কারখানার জন্য এসব কর্মী পাঠানো হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বায়রা সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার সকালে মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মীদের পাসপোর্ট-ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য মালয়েশিয়ান হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে। ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের ভিসার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। একই সময়ের মধ্যে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) স্মার্ট কার্ডও কর্মীরা হাতে পাবেন।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, “বিএমইটি থেকে ইতিমধ্যে নিয়োগের অনুমতি পাওয়া গেছে। প্লান্টেশন, শিল্প-কারখানা ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য প্রথম পর্যায়ে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। সার্ভিস সেক্টরের আওতায় কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ‘কার্গো লোডার’ পদে প্রথম ব্যাচের কর্মীরা নিয়োগ পেয়েছেন। ”

বায়রার সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘প্রথম ব্যাচে ১০৬ জন কর্মী নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে আগামী ১০ মার্চ।

বিষয়টি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এখানে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা নেই। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির প্রথম ফ্লাইটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া থেকে নিয়োগকর্তাদের একটি দল ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এসে বাছাই করা ৪০০ কর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তারা কাজে দক্ষতার ওপর জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি চলছে বায়ো-মেডিক্যাল পর্ব। সব কিছুই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) অনুসৃত বিধান অনুযায়ী করা হচ্ছে।

বায়রার কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেন, জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হলে কেউ আর অবৈধ পন্থায় সে দেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে একজন কর্মী তিন বছরের ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে আরো দুই বছর ভিসা নবায়ন করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, নিয়োগকর্তা চাইলে কর্মীরা আরো পাঁচ বছর সেখানে অবস্থান করতে পারবেন। ভিসা নবায়ন ফি নিয়োগকর্তাই বহন করবেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মালয়েশিয়া সরকারের চাহিদাপত্রে বলা হয়েছে, যাঁরা এখন যাচ্ছেন তাঁদের দৈনিক কর্মঘণ্টা হবে আট ঘণ্টা। চাইলে ওভারটাইম করা যাবে। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া সরকারের শ্রম আইন প্রযোজ্য হবে। চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকা মাসিক বেতনই কর্মীদের দেওয়া হবে। বেতন পরিশোধ করা হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। কোনো কম্পানি বেতন-ভাতা কম দিতে চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই তথ্য চলে যাবে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে। সুতরাং বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো নিয়োগকর্তাই জালিয়াতি করতে পারবেন না।

বায়রার সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, ‘আগে কর্মীদের কোনো বীমা সুবিধা ছিল না। এখন যারা যাচ্ছে তাদের প্রতিজনের দুই লাখ টাকার বীমা সুবিধা থাকছে। আর অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে বায়োমেডিক্যাল করা হচ্ছে। প্রতারিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। ’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ রেখে উভয় দেশের মধ্যে ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরদিনই মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ ঘোষণা করে। কয়েক মাস আগে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। এর পরই জিটুজি প্লাস চুক্তির আলোকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় অবশেষে আগামী ১০ মার্চ শুক্রবার কর্মী পাঠানো শুরু হচ্ছে।


মন্তব্য