kalerkantho


২০ বছরের পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান

প্রথম দিনে দুটি বাস ও একটি লেগুনা ডাম্পিংয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রথম দিনে দুটি বাস ও একটি লেগুনা ডাম্পিংয়ে

এমন লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনের বিরুদ্ধে গতকাল রাজধানীতে অভিযান শুরু হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্বে নিকৃষ্ট নগরীর তালিকায় স্থান করে নেওয়া ঢাকা মহানগরীর নিকৃষ্টতা অনেকাংশে বাড়িয়েছে লক্কড়ঝক্কড় পুরনো বাস। ২০ বছরের পুরনো বাস নিষিদ্ধ করা হলেও রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেগুলো।

  এসব বাস উচ্ছেদ করতে গত সাত বছরে পূর্বঘোষণা দিয়ে তিনবার অভিযান শুরু করে পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন, ঢাকা মহানগর পুলিশ এসব অভিযান চালিয়েও ফল পায়নি। যাত্রীর তুলনায় গণপরিবহন কম হওয়ায় পরিবহন মালিকরা রাস্তায় গাড়ি না নামিয়ে অভিযানের নীরব প্রতিবাদ করেন। এ অবস্থায় পূর্বঘোষণার প্রায় এক মাস পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে গতকাল রবিবার থেকে রাজধানীতে আবার এই অভিযান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিআরটিএ) বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযানের প্রথম দিনে একটি লেগুনা ও দুটি বাস ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। অভিযানে লাইসেন্সবিহীন সাত চালকের কারাদণ্ডও হয়েছে। অভিযান চলাকালে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় গণপরিবহন কমে যায়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযান চলে। আজ সোমবারও এই অভিযান চালানো হবে।

বিআরটিএর তথ্যানুসারে, দেশে ৩০ শতাংশ বাস-মিনিবাস ২০ বছরের বেশি পুরনো। ৬১ শতাংশের বয়স ১০ বছরের ওপরে। দেশে নিবন্ধিত ৬১ হাজার ৫৮৯টি বাস-মিনিবাসের মধ্যে ৪০ হাজার ৮২২টি ১০ বছরের পুরনো। ২০ বছরের পুরনো বাস-মিনিবাস ১৮ হাজার ৫৪টি। রাজধানীতে ১৬৭টি রুটে চলাচল করছে পাঁচ হাজার ৪০৭টি বাস ও মিনিবাস। এর মধ্যে অর্ধেকই ২০ বছরের পুরনো। লক্কড়-ঝক্কড় পুরনো বাসে নতুন রং লাগিয়ে রাস্তায় নামানোর পর কিছুদিনের মধ্যেই রং উঠে যায়। এসব বাসই আবার ‘সিটিং সার্ভিস’ নামে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলছে। আদায় করা হচ্ছে দুই থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া। গতকাল পল্টনে সুপ্রভাত পরিবহনের রংচটা পুরনো এক বাসের যাত্রী খোকন মিয়া বলেন, ‘এই অভিযানে তো ধরা পড়ছে না। অভিযানের মধ্যেই তো চলে এলাম। বাস ধরল না কেউ। ’

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সালাম, মতিঝিলের দুটি স্থানে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ ইলাহী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। অভিযানে সাতজন চালককে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি যানবাহন ডাম্পিং ও ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন আদালত।

পরিদর্শনকালে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমাদের এই অভিযান পূর্বঘোষিত। প্রায় এক মাস আগে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে মার্চ মাস থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ বছরের পুরনো গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব গাড়িচালকের লাইসেন্স থাকবে না, শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকবে না, বিআরটিএর আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। ২০ বছরের পুরনো বাস এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালকদের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হবে ততক্ষণ অভিযান চলতে থাকবে। ’

দুপুরে গুলিস্তান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে তানজিল পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ-১১-৩১৯৫) থামার জন্য চালককে সংকেত দেওয়া হয়। বাসটি থামার পর দেখা যায়, বেশির ভাগ জানালার কাচ ভাঙা। ভাঙা আসনে বালুর স্তর জমে তৈলাক্ত হয়ে আছে। বাসে লুকিং গ্লাসও নেই। সামনে ও পেছনের লাইট ভাঙা। একটি আসনের সঙ্গে আরেকটি আসনের মধ্যে যাত্রী চলাচলের প্রয়োজনীয় ফাঁকা অংশ নেই। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করে, বাসের এই অবস্থা হলেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল বেশি। ততক্ষণে চালক বাস থেকে নেমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে যান। তাঁর কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়। কিন্তু ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রোড পারমিটের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। এই অপরাধে বাসটির চালক মো. সুলতানকে এক মাসের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই স্থানে এয়ারপোর্ট থেকে সদরঘাট রুটে চলাচলকারী এয়ারপোর্ট বঙ্গবন্ধু পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ-১১-২২৯৮) থামান অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা। ওই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতকে চালক জুয়েল ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। গুলিস্তানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়মে যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই অভিযান আরো কয়েক দিন চলবে। ’

লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের না হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

 


মন্তব্য