kalerkantho


বিএমএ স্বাচিপ ও ছাত্রলীগে ভর করেছে সাজাপ্রাপ্তরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিএমএ স্বাচিপ ও ছাত্রলীগে ভর করেছে সাজাপ্রাপ্তরা!

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন ধরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের শাস্তি থেকে দায়মুক্তির চেষ্টা করছেন বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শাস্তিপ্রাপ্ত চার ইন্টার্ন চিকিৎসক। এমনকি ছাত্রলীগের নেতা হওয়ায় তাঁরা সমর্থন আদায়ে সক্ষম হচ্ছেন বিএমএ ও স্বাচিপের। শাস্তিপ্রাপ্ত চারজনের মধ্যে ডা. এম এ আল মামুন এখনো ছাত্রলীগ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ শাখার সভাপতি, ডা. মো. আশিকুজ্জামান আসিফ একই কমিটির সহসভাপতি এবং ডা. মো. কুতুব উদ্দীন ওই শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। আর যাঁকে নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত সেই ডা. নুরজাহান বিনতে ইসলাম (নাজ) কোনো পদে না থাকলেও ছাত্রলীগের সমর্থক বলেই সবাই জানে। রোগীর স্বজনকে প্রহারের দায়ে মন্ত্রণালয় শাস্তিস্বরূপ চারজনকে চার জায়গায় বদলিসহ ছয় মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ স্থগিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই চারজনের একাধিক সহকর্মী কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত ছাত্রলীগ নেতা বলেই তাঁরা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ইন্টার্নদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করছেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার কারণেই অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের সমর্থক ইন্টার্নরাই এবারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবার চিকিৎসকদের সংগঠন হিসেবে বিএমএ এবং স্বাচিপও তাঁদের প্রতি অনেকটা নমনীয়।

অবশ্য কেন্দ্রীয় বিএমএর মহাসচিব পরোক্ষভাবে ইন্টার্নদের সমর্থনে গত শনিবার বক্তব্য দিলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান ব্যক্ত করেনি বিএমএ এবং স্বাচিপ।

জানতে চাইলে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা রোগীকে ভোগান্তিতে ফেলে কোনো কর্মবিরতি বা ধর্মঘট দেখতে চাই না।

এ জন্য দ্রুত কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পদক্ষেপ চাই। আর শাস্তির বিষয়টি নিয়ে যেহেতু বিতর্ক উঠেছে তাই এ বিতর্ক দূর করার জন্য পুনঃ তদন্ত হওয়া ভালো। ’

এর আগের দিন বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালও ওই ঘটনার অধিকতর তদন্ত দাবি করে বলেন, তদন্ত বা শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় বিএমএকে কিছুই অবহিত করা হয়নি। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত বিএমএর সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিষয়ে যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো তদন্ত বা কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই পুরো বিষয়টিকেই তিনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য খাতের বিরুদ্ধে মহলবিশেষের চক্রান্ত বলে মনে করছেন।

আজ সোমবার শেষ হচ্ছে আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম। তাঁদের দাবি ছিল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই চারজনের শাস্তি প্রত্যাহার না করা হলে পরবর্তী সময়ে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তবে গতকাল রাতে অন্যতম শাস্তিপ্রাপ্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ওই কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ সহসভাপতি মো. কুতুব উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একযোগে ৪০টি সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে আমাদের পক্ষে আন্দোলন চলছে। ছাত্রলীগ যেহেতু সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন তাই নেতৃত্বে তো তাঁরাই থাকবে। তবে আমরা ছাত্রলীগের প্রভাব খাটাই না, কারণ এটা সব ইন্টার্ন চিকিৎসকের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন। ’

আজ কী কর্মসূচি দেওয়া হবে জানতে চাইলে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, ‘তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে আমরা আশা করি আমাদের অভিভাবক সংগঠন হিসেবে বিএমএ ও স্বাচিপ আমাদের পাশে থাকবে। ’

বগুড়ায় অশেষ ভোগান্তি :  গতকাল সকাল ১১টায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে কাঁদছিল ছয় বছরের আকলিমা। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুটির মা আবেদা বেগমের কোলে সে। বাইরে থেমে থেমে চলছে বৃষ্টি-ঝোড়ো বাতাস। এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই তারা এসেছে ২০ কিলোমিটার দূরের মহাস্থানের চণ্ডিহারার নামাপাড়া গ্রাম থেকে। ৯টায় বহির্বিভাগ খোলার কথা। আবেদার মতোই আরো দুই শতাধিক রোগী এসেছে সকাল ৮টার মধ্যেই। কিন্তু বহির্বিভাগ খোলা হচ্ছে না। কারণ বাইরে ক্যাম্পাসে তখন চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ সমাবেশ। টানা কর্মবিরতির কারণে তারা নিজেরাও কাজে যোগ দিচ্ছে না। আবার সকালে তারা বহির্বিভাগে কর্মরত অন্যদের শাসিয়ে গেছে যাতে দুপুর ১২টার আগে কোনো কাজকর্ম চালু করা না হয়। সে কারণে এই অচলাবস্থা।

সকালে শজিমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ৫৫ বছরের মা হালিমা খাতুনকে নিয়ে ট্যাক্সির জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন মেয়ে মেহেরুননেছা। বললেন, ‘মা লিয়া আসিসনু। এটি কেম্বা মিছিল চলিচ্চে? মাইকিং করিচ্চে। হামার মাও ভয় খাছে। এটি বলে থাকপি না। তাই অন্যটি লিয়্যা যাচ্ছি। ’

টানা চতুর্থ দিনেও কাজে যোগ দেয়নি শজিমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গতকাল আউটডোর ও মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ করে দিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মসূচি অব্যাহত রাখে। সকাল ১০টা থেকে তারা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে মানববন্ধন ও মিছিল করে।

মানববন্ধন থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মুখপাত্র শাস্তি পাওয়া কুতুব উদ্দিন হ্যান্ডমাইক নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের উদ্দেশে বলেন, শাস্তি দিলে দুই পক্ষকেই দেওয়া উচিত। একটি বিশেষ এলাকার লোক হওয়ায় রোগীর স্বজনদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর তদন্ত কমিটি মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে। তাই শাস্তি প্রত্যাহারসহ আমাদের দাবি না মানলে ধর্মঘট চলতেই থাকবে। ’

শজিমেক জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মাইকেল ডেভিড জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আন্দোলনে থাকলেও হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত চার দিনে পর্যায়ক্রমে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চলতি মাসের ১ তারিখে জরুরি বিভাগে ১৫৩ রোগী, ২ মার্চ ১৫৪ জন, ৪ মার্চ  ২২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নিমলেন্দু চৌধুরী জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রতিদিন আউটডোরে ১ ঘণ্টা রোগী না দেখার প্রস্তাব করলেও তা মানা হয়নি। হাসপাতালে রোগী সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে সেবা প্রদান করছেন। জরুরি বিভাগে কতর্বরত চিকিৎসক শরিফুল রেজোয়ান জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা না থাকায় অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে হাসপাতালে। এতে চিকিৎসকদের একটু কষ্ট হচ্ছে। তার পরও পেশার কারণে অনেক কিছুই মেনে নিতে হচ্ছে। তবে বিষয়টি অনুধাবন করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মসূচি শিথিল করা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের এক রকম জোর করেই সকাল ১০টার পর এক ঘণ্টার জন্য মানববন্ধনে নিয়ে আসা হয়।

ঢাকায় প্রভাব : গতকাল বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। মানববন্ধনে বিভিন্ন পোস্টারে লেখা ছিল ‘থাকলে ডাক্তার নিরাপদে-ডাকলে পাবেন সব বিপদে। ’

চিকিৎসা বাদ দিয়ে মানববন্ধন করার বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, যাঁদের ডিউটি শেষ হয়েছে তাঁদেরকে নিয়েই মানববন্ধন করা হচ্ছে। যাঁদের ডিউটি আছে তাঁরা হাসপাতালে রোগী দেখছেন।

ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার রেহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরাও কর্মবিরতিতে আছি। তবে রোটেশনে জরুরি সেবা চালিয়ে যাচ্ছি। রোগীকে জিম্মি করা হচ্ছে না। এটা আমরা চাইও না। তবে আমরা বগুড়ায় যাঁদেরকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করে পুনরায় তদন্ত চাই। ’

অস্ত্রোপচার বন্ধ বরিশালে : শনি ও রবিবার শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ-শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হওয়া দুই শতাধিক রোগীকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফাঁদে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মবিরতি প্রত্যাহার হবে না বলে জানান বঙ্গবন্ধু শিক্ষানবিশ চিকিৎসক সংগঠনের সভাপতি ডা. মো. নাসিম। তিনি বলেন, ‘বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের শাস্তি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমরা কর্মস্থলে ফিরব না। ’

এই হাসপাতালের সার্জারি, গাইনি, অর্থোপেডিক্স ও নাক-কান-গলা বিভাগে গতকাল গুরুত্বপূর্ণ ও কম গুরুত্বপূর্ণ মিলিয়ে পূর্বনির্ধারিত ২৯টি অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে মাত্র ৯টি হয়েছে। বাকিগুলো শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সহায়তার অভাবে করা যায়নি।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, সব চিকিৎসকের পূর্বনির্ধারিত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আর পূর্বনির্ধারিত কম গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনগুলোও স্থগিত রাখা হচ্ছে। কেবল বেশি জরুরি অপারেশনগুলো এখানে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৯ জন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের চিকিৎসাধীন এক হাজার ৭০০ রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দিনাজপুরে বিশেষ টিম : গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করেছেন দিনাজপুরের মেডিক্যাল কলেজের দেড় শত ইন্টার্ন চিকিৎসক।

ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক ( অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. সরল চন্দ্র রায় জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘটের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সব বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সংকট সমাধানে বিএমএ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, ৭২ ঘণ্টা কর্মসূচির মধ্যে দাবি পূরণ করা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন তাঁরা।

রংপুরেও রোগীরা দুর্ভোগে : রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন গতকাল ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ডে যাননি, এমনকি জরুরি বিভাগেও দায়িত্ব পালন করছেন না। ধর্মঘটের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা দুর্ভোগে পড়েছে। সরেজমিনে গতকাল দুপুরে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দুই দিন ধরে বেশ ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে রোগীদের। জরুরি বিভাগে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এসেছেন সালাম নামের এক যুবক। তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলেও কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক না থাকায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হয়েছে চিকিৎসা পেতে।

হাসপাতালের ১৯ নম্বর সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দেড় শতাধিক রোগী দুই দিন ধরে চিকিৎসা পাচ্ছে না। সিনিয়র ডাক্তাররা একবার এসে দেখে গেছেন, এরপর আর কেউ আসেননি। বদরগঞ্জের মনি মিয়া জানান, তাঁর পা অপারেশন হয়েছে; কিন্তু ডাক্তার না আসায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হচ্ছে না। প্রচণ্ড ব্যথার জন্য কী করা দরকার তা শোনারও কেউ নেই।

গাইনি ওয়ার্ডে লাইলী বেগম নামের এক রোগী জানান, তাঁর সিজার করার তারিখ ছিল শনিবার। গতকাল রবিবারও করা হয়নি।

গতকাল সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কাজে যোগ না দিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. ফারহান জানান, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সিলেটেও চলছে কর্মবিরতি : দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটেও কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মক্ষেত্রে যাননি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বেসরকারি আরো তিনটি হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ, নর্থইস্ট মেডিক্যাল কলেজ  ও উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ গেটে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা। কর্মবিরতির কারণে দ্বিতীয় দিনেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।

ওসমানী হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তরদ্বীপ নন্দী বলেন, ‘আমাদের দুটি দাবি মেনে নিলেই আমরা কর্মস্থলে ফিরে যাব। যৌক্তিক দাবিতে আমরা এই আন্দোলন করছি। ’


মন্তব্য