kalerkantho


প্রথমবারের মতো স্টেম সেল থেকে ভ্রূণ!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রথমবারের মতো স্টেম সেল থেকে ভ্রূণ!

শুধু স্টেম সেল ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো ইঁদুরের ভ্রূণ তৈরিতে সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই সাফল্য কৃত্রিম মানুষ জন্মানোর ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের আরো আশাবাদী করে তুলেছে।

তবে এ জন্য আরো বিস্তর গবেষণা দরকার বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে এই ভ্রূণ তৈরি করেছেন। তাতে ইঁদুরের দুই ধরনের স্টেম সেল ব্যবহার করা হয়েছে। জীবন্ত এই ভ্রূণ তৈরি হতে সময় লেগেছে মাত্র চার দিন। বলা হচ্ছে, বিশ্বে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সাফল্য এটিই প্রথম। অর্থাৎ কোনো ধরনের শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ছাড়াই বিজ্ঞানীরা এই প্রথম জীবন্ত ভ্রূণ তৈরি করলেন। পক্ষান্তরে এটাও বলা যায়, ভবিষ্যতে হয়তো মানুষের জন্মের জন্যও কেবল শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর ওপর নির্ভর করতে হবে না। মানবদেহের যেকোনো কোষ থেকেই হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মানুষ জন্ম দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এটা ঠিক, প্রাণীর ওপর নির্ভরশীলতা থেকেই যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কারের ফলে মানবজীবনের একেবারে প্রাথমিক ধাপের বিষয়ে অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে। তাঁরা জানতে পারবেন কেন কোন কোন মানুষ গর্ভধারণ করতে পারে না। কিংবা করলেও শেষ পর্যন্ত কেন ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়।

তবে কৃত্রিমভাবে মানুষ তৈরি করলে তা বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। কারণ এখানে ধর্ম থেকে শুরু করে নীতি-নৈতিকতার অনেক বিষয়ও জড়িত। কিংস কলেজের অধ্যাপক ড. ডাস্কো ইলিচ বলেছেন, ‘এটা একটা দারুণ ঘটনা। গবেষণাগারে জীবনের প্রথম ধাপটি আবিষ্কারের অর্থ হচ্ছে বিজ্ঞানের খুবই অগ্রসর এক অর্জন। ’

বর্তমানে আইভিএফ চিকিৎসার সময় যেসব ভ্রূণ অব্যবহৃত থেকে যায়, বিজ্ঞানীরা সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতে পারেন। তবে এই ভ্রূণের সংখ্যা খুবই কম। এ ছাড়া ১৪ দিন পর এসব ভ্রূণ ধ্বংস করে ফেলতে হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃত্রিম উপায়ে ভ্রূণ তৈরির মানে হলো, এখন এই গবেষণা আরো দ্রুত অগ্রসর হবে।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাগডালিনা জারনিকা-গোয়েৎস।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, ১৪ দিন শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আমরা অনেক কিছু করে ফেলতে পারব। ইঁদুরের স্টেম সেল থেকে যেভাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয়েছে, সেই একই উপায়ে মানুষের স্টেম সেল থেকেও মানব ভ্রূণ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। ’ সূত্র : বাসস।


মন্তব্য