kalerkantho


বিচারবহির্ভূত হত্যা গুম নিয়ে প্রশ্ন

জেনেভায় বাংলাদেশের আইসিসিপিআর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা শুরু কাল

মেহেদী হাসান   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিচারবহির্ভূত হত্যা গুম নিয়ে প্রশ্ন

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, উগ্রবাদী হামলার ঝুঁকি থেকে সাংবাদিক ও ব্লগারদের সুরক্ষা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোটারদের অংশ নেওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের কাছে জানতে চেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিটি। আগামীকাল সোমবার ও পরদিন মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওই কমিটি মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। ওই পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের তালিকা ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরে পাঠিয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে ওই দলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর

কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ ও কারা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) অনুসমর্থনকারী বিশ্বের ১৬৯টি রাষ্ট্রের ওই চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হয়। স্বতন্ত্র ১৮ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি এ অগ্রগতি পর্যালোচনা করে থাকে। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরে, নাগরিকসমাজ ও অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোও বিভিন্ন বিষয়ে জানার সুযোগ পায়। চলতি মার্চ মাসে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্বিয়া, তুর্কমেনিস্তান, ইতালি, থাইল্যান্ড ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার আইসিসিপিআর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এ সপ্তাহে বাংলাদেশের আইসিসিপিআর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার বৈঠক বসলেও কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় উত্থাপনের জন্য সম্ভাব্য ইস্যু চিহ্নিত করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটির কাছে যৌথভাবে প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ছয়টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)।

সেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, মৃত্যুদণ্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, শ্রম অধিকার লঙ্ঘনকারীদের দায়মুক্তি, কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন, নাগরিকসমাজ সংগঠনকে দমন, সাংবাদিক ও ব্লগারদের ওপর হামলা, সমবেত হওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার সুযোগ, নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণের মতো ইস্যু স্থান পেয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ আইসিসিপিআর বাস্তবায়নে তার অগ্রগতির তথ্য জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির কাছে পাঠায়। সেখানে বাংলাদেশ বলেছিল, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু কাঠামো ও নিয়মতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। এটি এ দেশের সব নাগরিকের পূর্ণ মানবাধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ তার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য, সম্পদের অপ্রতুলতা, পুঁজির ঘাটতি, জাতীয় অগ্রাধিকার ও দাতাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে পার্থক্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সামাজিক-সাংস্কৃতিক মনোভাব, মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতার অভাব, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষার ঘাটতি ও আইন প্রয়োগের অভাবকে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ তার আইন ও বিধানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সংগতি সৃষ্টির চেষ্টার পাশাপাশি মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসন জোরদারে অঙ্গীকার তুলে ধরে।

ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি তার ১১৬তম অধিবেশনে (গত বছরের ৭ থেকে ৩১ মার্চ) বাংলাদেশের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে জানতে চায়। জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন, নারী-পুরুষে বৈষম্য দূর করতে উদ্যোগ, গুম এবং ২০১৫ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় নাশকতার তদন্ত, উগ্রবাদী হামলার হুমকিতে থাকা ব্লগার ও সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নেওয়া উদ্যোগ, নিরাপত্তা হেফাজত ও কারাগারে বন্দি মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা, মানবপাচার ও দাসত্ব বন্ধে উদ্যোগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নেওয়া উদ্যোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নেওয়া উদ্যোগ, শিশু অধিকার রক্ষায় নেওয়া উদ্যোগ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে নেওয়া উদ্যোগ, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষায় নেওয়া উদ্যোগ বিষয়ে জানতে চেয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি।


মন্তব্য