kalerkantho


বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ১০ কোটি টাকার কাপড় জব্দ

পিংক সিটি থেকে জাগুয়ার গাড়ি জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ১০ কোটি টাকার কাপড় জব্দ

কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে রাজধানীর পিংক সিটির একটি বাড়ি থেকে জাগুয়ার গাড়ি জব্দ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদস্যরা। কূটনৈতিক সুবিধায় গাড়িটি আমদানি করে পরবর্তী সময়ে তা অবৈধভাবে হস্তান্তর করা হয় বলে শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযোগ।

গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটি জব্দ দেখায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

শুল্ক গোয়েন্দারা গতকাল গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের গুদামে তল্লাশি চালিয়ে অননুমোদিতভাবে মজুদ করা ১৯০ টন উন্নতমানের শার্টিং-স্যুটিং কাপড় জব্দ করেছেন। এ কাপড় খোলাবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছে বলে শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযোগ। জব্দ করা কাপড়ের বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি চীন, পাকিস্তান, ভারত প্রভৃতি দেশ থেকে উন্নতমানের পলিয়েস্টার ফ্যাব্রিকস বিনা শুল্কে আমদানি করে সেগুলো দিয়ে হাসপাতালের ইউনিফর্ম তৈরি করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার কথা থাকলেও সেগুলো খোলাবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই গুদামে অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছে মর্মে ধারণা করা হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ ডিসেম্বর গোয়েন্দাদল পিংক সিটির জেনো ভ্যালি নামের একটি বাড়ির গ্যারেজে তল্লাশি চালিয়ে জাগুয়ার (ঢাকা মেট্রো-ভ-১১-১৬২৫)

 গাড়িটি উদ্ধার করে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক ইমাম গাজ্জালী। তদন্তের স্বার্থে ওই বাড়ির বাসিন্দা ও গাড়ি ব্যবহারকারী তানিয়া রহমানের কাছ থেকে গাড়িটি সাময়িকভাবে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটি জব্দ করল শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

শুল্ক গোয়েন্দাদের দাবি, তাঁরা অনুসন্ধানে জানতে পারেন যে তানিয়া রহমানের স্বামী মৃত মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশে চেক রিপাবলিকের কনস্যুলার অফিসে কর্মরত ছিলেন। গাড়িটি কূটনৈতিক সুবিধায় আনা হয়েছিল এবং পরে তা অবৈধভাবে হস্তান্তর করা হয়। আমদানির সময় দাখিল করা বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) অনুযায়ী গাড়িটির কান্ট্রি অব অরিজিন জার্মানি। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে কান্ট্রি অব অরিজিন চীন দেখানো হয়। আবার অন্যান্য সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া এলসি এবং এলসিএ ওপেনিং ব্যাংকের তথ্যেও ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। এতে প্রমাণিত হয়, অস্পষ্ট ও মিথ্যা দলিল উপস্থাপন করে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


মন্তব্য