kalerkantho


সীমা-সাক্কু ছাড়াও মেয়র পদে ৫ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সীমা-সাক্কু ছাড়াও মেয়র পদে ৫ জন

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নিজের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার আশ্বাস দিলেন সদ্য সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু। আর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা তুলে ধরলেন সাক্কুর ব্যর্থতা।

সে ক্ষেত্রে তিনিই নগরবাসীর সমস্যা সমাধান করতে পারবেন বলে দৃঢ়তার কথা জানালেন।  

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। এদিনেই প্রধান দুই মেয়র পদপ্রার্থী বিএনপির সাক্কু ও আওয়ামী লীগের সীমা রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডলের কাছে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয় এলাকা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পদচারণে গতকাল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

এই দুজন ছাড়া আরো পাঁচজন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাঁরা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের [জেএসডি (রব)] শিরিন আক্তার, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) অ্যাডভোকেট সোয়েবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র হিসেবে মেজর (অব.) মামুনুর রশিদ।  

এ ছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে ১৪৫ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪২ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

গতকাল সকাল সোয়া ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আসেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা ও কুমিল্লার বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খান, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মো. ওমর ফারুক, আওয়ামী লীগ নেতা সফিকুল ইসলাম শিকদার, জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শাহিনুল ইসলাম শাহিন, কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম রৌশন, আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি নুর উর রহমান মাহমুদ তানিম, পার্থ সারথী দত্ত প্রমুখ।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আনজুম সুলতানা সীমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনীত করেছেন। সারা দেশেই এখন নৌকার জোয়ার। আশা রাখি, কুমিল্লাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমি নেত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে পারব। ’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে সীমা বলেন, ‘আমার বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনিরুল হক সাক্কুর সময় পৌরসভায় ছিলাম ১৫ বছর। কুমিল্লার মানুষ দেখেছে তিনি কী করেছেন। আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কী করেছি কুমিল্লার জনগণ দেখেছে। এটা কুমিল্লার জনগণ ভালো বলতে পারবে। ’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা শহরে সমস্যার শেষ নেই। যানজট আর জলাবদ্ধতা তো আছেই। আমি নির্বাচিত হলে কুমিল্লার মানুষকে নিয়ে বসব। সমস্যাগুলো সমাধান করব। ’

এক প্রশ্নের জবাবে আনজুম সুলতানা সীমা বলেন, ‘মনিরুল হক সাক্কু ও আমাদের দলের এমপি বাহাউদ্দিন বাহার কাউকেই আমি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছি না। সবাইকে নিয়েই আমি কাজ করব। ’

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগে এখন আর বিভেদ নেই উল্লেখ করে সীমা বলেন, ‘আমি এই কুমিল্লার মেয়ে। কুমিল্লার মানুষ আমাকে চেনে। অতীতে আমি তাদের কল্যাণে কাজ করেছি। এখন ভোটারদের কাছে যাব। যেহেতু দলীয় নির্বাচন, নৌকা প্রতীকের একটা জনপ্রিয়তা রয়েছে। কুমিল্লা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। নৌকার বিজয় হবে ইনশাল্লাহ। ’

অন্যদিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দুপুর ১টায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপি নেতা সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, বিএনপি নেতা আবদুর রউফ চৌধুরী ফারুকসহ অন্য নেতারা।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মনিরুল হক সাক্কু সাংবাদিকদের বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর পাঁচ বছর আমি মেয়রের দায়িত্বে ছিলাম। নতুন একটি সিটি কপোরেশন হিসেবে মাস্টারপ্ল্যান পাস করতে হয়েছে। এতে আমার কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। আমি আমার সাধ্যমতো উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। অনেক প্রকল্পই এখনো চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে উন্নয়ন ভাসমান হবে। যদি এবারও জনগণ আমাকে সুযোগ দেয়, মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়ে এগুলো আমি বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। ’

দলের ঐক্যবদ্ধতার কথা জানিয়ে সাক্কু বলেন, ‘গতবারের নির্বাচনে আমার দল বিএনপি অংশ নেয়নি। কিন্তু আমি দল থেকে অব্যাহতি নিয়ে জনগণের টানে নির্বাচন করেছি। জনগণও আমাকে ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে নির্বাচিত করেছে। কিন্তু এবার আমার দল বিএনপি আমার সঙ্গে আছে। দলের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমি নির্বাচন করছি। সুতরাং এখানে বিভেদ বলে কিছু নাই। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সকল নেতৃবৃন্দ আমার সঙ্গে আছে, কুমিল্লাবাসী আমার সঙ্গে আছে। ’

নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার আর প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সাক্কু বলেন, ‘নিবাচন কমিশন আমাকে বলেছে তাদের আইনকানুন সব মেনে চলতে। আমরা সকল আইনকানুন মেনে চলার চেষ্টা করব। আমরাও চাই বিপক্ষ দলও যেন সকল আইন মেনে চলে। ’

নির্বাচনে সবার ক্ষেত্রে সমান ক্ষেত্র তৈরি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে সাক্কু বলেন, ‘এখন একটি সম্পূর্ণ নতুন নির্বাচন কমিশন। তারা নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তাদের আচরণবিধি দেখে তারপর আমি বলব। ’

সাক্কুর সঙ্গে থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমনকি আগের নির্বাচন কমিশনারের অধীনেও আমরা নির্বাচন করেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা একটা ভিন্ন ব্যাপার। প্রার্থী যেমন বলেছেন নতুন নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ সবেমাত্র শুরু করেছে। তাদের আচরণ দেখে তবেই মন্তব্য করা হবে। প্রার্থী নিজেই তা দেখবেন। ’

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মানুষ এবার শুধু সাক্কুর জনপ্রিয়তাই বিবেচনা করবে না, সেই সাথে ধানের শীষের জনপ্রিয়তাও দেখবে। ’


মন্তব্য