kalerkantho


খেলাধুলার প্রসারে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



খেলাধুলার প্রসারে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের খেলাধুলা আরো এগিয়ে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপই নেবে তাঁর সরকার। তিনি খেলাধুলায় উৎসাহ এবং সহযোগিতা প্রদান করতে সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৬’ এবং ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৬’-এর ট্রপি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার দিকে আরো নজর দিক। এগিয়ে যাক। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা দেশপ্রেমিক হবে, দেশের দিকে আরো নজর দেবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক-অভিভাবক এবং যাঁরা জনপ্রতিনিধিরা আছেন বিভিন্ন স্তরে, যাঁরা একটু সচ্ছল ব্যক্তি এবং প্রত্যেক এলাকার এলাকাবাসী—সবাইকেই আমি আহ্বান জানাব যে খেলাধুলার প্রতি আমাদের ছেলেমেয়েরা মনোনিবেশ করেছে, তাদের আরো উৎসাহ প্রদান করতে হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা স্কুলগুলো যেন পায় সে ব্যবস্থা তাঁরা করবেন। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টুর্নামেন্ট দুটিতে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এত বিপুলসংখ্যক ছেলেমেয়েদের অংশগ্রহণে এ ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্ট বিশ্বে বিরল। এ জন্য আমি আয়োজক, খেলোয়াড়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানাই।

’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েরাও ভালো খেলছে। আমাদের মেয়েরা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ভারতে অনুষ্ঠিত নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় আমরা রানার-আপ হয়েছি। ’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রতি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম তৈরির সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি স্কুলে খেলাধুলার সরঞ্জামাদি প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়ের মনোরম ডিসপ্লেও উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপি। উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাজী সালাহউদ্দিনসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, সংসদ সদস্যরা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৬’-এ অংশগ্রহণকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৬৪ হাজার ২৬০টি। মোট ৩২ হাজার ১৩০টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এ ৬৪ হাজার ১৯৬টি বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে মোট ৩২ হাজার ৯৮টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্ট দুটিতে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী, রানার্স-আপ এবং তৃতীয় স্থান অধিকারকারী দল ও খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ২০১৬ চ্যাম্পিয়ন দল লালমনিরহাটের তেপুরগাড়ি বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও মেডেল পেয়েছে এবং দলগতভাবে এক লাখ টাকা ও ট্রফি পেয়েছে। সেরা খেলোয়াড় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের মিতু আক্তার; সে পেয়েছে ২৫ হাজার টাকার চেক ও ট্রফি। সর্বোচ্চ গোলদাতা টাঙ্গাইলের বাগুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুমা আক্তার পেয়েছে ২৫ হাজার টাকার চেক ও গোল্ডেন বুট।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ২০১৬ চ্যাম্পিয়ন দল কক্সবাজারের টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও মেডেল পেয়েছে এবং দলগতভাবে এক লাখ টাকা ও ট্রফি পেয়েছে। সেরা খেলোয়াড় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের আবু হানিফ নোমান; সে পেয়েছে ২৫ হাজার টাকার চেক ও ট্রফি। সর্বোচ্চ গোলদাতা একই বিদ্যালয়ের মিনার উদ্দিন বুলেট পেয়েছে ২৫ হাজার টাকার চেক ও গোল্ডেন বুট। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য