kalerkantho


সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জঙ্গিবাদ ছাড়লেই পুনর্বাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গিবাদ ছাড়লেই পুনর্বাসন

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যেসব বিপথগামী জঙ্গি সদস্য জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফিরে আসবে তাদের আইনি সহায়তা প্রদানসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।

এ দেশের মানুষ সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে। আর দেশের সুষম উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্যও সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ হুমকিস্বরূপ।

গতকাল বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গিবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ জন্য জঙ্গি দমনে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কিছু সফল অভিযানে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি সদস্য গ্রেপ্তার ও নিহত হয়। এতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলা-বারুদ উদ্ধার করা হয়। ফলে বর্তমানে জঙ্গি তত্পরতা বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। আর জঙ্গি দমনে এ সাফল্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

সংসদ নেতা জানান, জঙ্গিবাদবিরোধী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জঙ্গি সদস্য ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাদের মোটিভেশন ও সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সন্দেহভাজন নিখোঁজ ব্যক্তি এবং পলাতক জঙ্গিদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেছে।

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনলাইনভিত্তিক প্রচারণার দিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি আরো বৃদ্ধি করা হবে। জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, মসজিদের ইমাম, আলেম সমাজ, শিক্ষক-ছাত্র সমাজ, অভিভাবকবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বহুমুখী পদক্ষেপ : সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বর্তমান সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছে। সমীক্ষার মাধ্যমে দেশের মহাসড়কগুলোয় মোট ২২৭টি দুর্ঘটনাপ্রবণ (ব্ল্যাক স্পট) স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ খাতের আওতায় বিভিন্ন মহাসড়কের ২৭টি ব্ল্যাক স্পটের প্রতিকারমূলক কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ব্ল্যাক স্পটে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানান, জাতীয় মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণের নিমিত্তে এক হাজার ৬৬৬ কিলোমিটার মহাসড়কের ফিজিবিলিটি স্টাডি ও ডিটেইল্ড ডিজাইনের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ লেভেলক্রসিং ও ইন্টার সেকশনে যথাক্রমে ওভারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংসদ নেতা জানান, সড়কপথে দুর্ঘটনা রোধ ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফিটনেসবিহীন মোটরযান যাতে রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সে কারণে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদানের জন্য চারটি বিভাগীয় শহরে পাঁচটি মোটরযান পরিদর্শন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পথচারীকে জেব্রাক্রসিং, ফুট ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তিনি মোটরযান দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত, ক্ষতিগ্রস্ত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে ক্ষতিপূরণ প্রদানকল্পে প্রক্রিয়াধীন সড়ক পরিবহন আইনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব যুক্ত করার কথা জানান।

নারীর ক্ষমতায়নে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ ষষ্ঠ : সরকারি দলের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গত ছয় বছরই শুধু নয়, ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে। স্পিকার ছাড়াও সংসদ নেতা, উপনেতা, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ দুই পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২১ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত এবং সংরক্ষিত ৫০টি আসনে নারী এমপি রয়েছেন বলে তিনি জানান।

এক জমিতে চার ফসল : সরকারি দলের সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, আগামী দিনের বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরে একই জমি থেকে দু-তিনটি ফসলের পরিবর্তে চারটি ফসল অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ফসলধারা উদ্ভাবিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ধারা অনুসরণ করে সন্তোষজনক ফলন পাওয়া গেছে। দেশের ফসলের নিবিড়তা ও উত্পাদন বৃদ্ধিতে এ ধারার প্রচলন বিশেষ অবদান রাখবে।


মন্তব্য