kalerkantho


হাইকোর্টের রুল

রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা কেন বেআইনি নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা কেন বেআইনি নয়

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং ধর্মঘট আহ্বানকারী ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সারা দেশে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপতিরা বলেন, ‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে, তাই আদেশ দিচ্ছি। ’

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি, বিআরটিএ ও বিআরটিসি চেয়ারম্যান,  র্যাব মহাপরিচালক, পুলিশের ডিআইজি (আটটি বিভাগের আটজন) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১৭ জনকে তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন মানিকগঞ্জের আদালত। এ সাজার প্রতিবাদে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করে চালক ও শ্রমিকরা।

প্রশাসনের আশ্বাসে পরের দিন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও পরে শ্রমিক নেতারা কর্মসূচি বহাল রাখেন। এরই মধ্যে শত্রুতার জেরে সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালত ট্রাকচালক মীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা।

এ প্রেক্ষাপটে এইচআরপিবির পক্ষে হাইকোর্টে গতকাল সকালে রিট আবেদন করা হয়। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার, ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল ও মালিকদের গাড়ি জব্দের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এরই মধ্যে গতকাল সরকারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠক হয়। এ বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। এরপর দুপুরে রিট আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার আদালতকে বলেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই এ রিটের কার্যকারিতা আর নেই।

এ সময় রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। এর পরও আঞ্চলিকভাবে ধর্মঘট ডাকা হলে এর দায় কে নেবে? তিনি বলেন, যেমনটি খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা হয়। তিনি বলেন, ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশেনের সভাপতি সরকারের একজন মন্ত্রী। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এ সংগঠন ধর্মঘট ডেকেছে। এতে কোটি কোটি মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকার সুযোগ নেই। এটা আদালত অবমাননা। তিনি আরো বলেন, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আহ্বান জানালেও ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়নি।

এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার আদালতকে বলেন, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট হরতাল বা ধর্মঘটকে বৈধ বলে রায় দিয়েছেন।

জবাবে মনজিল মোরসেদ বলেন, ওই রায় রাজনৈতিকভাবে ডাকা হরতাল প্রসঙ্গে ছিল। সেখানে বলা হয়, হরতাল ডাকা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এখন যে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে তা রাজনৈতিক নয়। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ডাকা হয়েছে। এ কারণেই আদেশ প্রয়োজন।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে, তাই আদেশ দিচ্ছি। ’ এরপর আদালত আদেশ দেন।

পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের কোনো রায়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করার সুযোগ আছে। কিন্তু তারা আপিল না করে রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডেকে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। মানুষকে হয়রানি করছে। এ কারণে রিট করা হয়। আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে সব ধরনের যান চলাচল নিশ্চিত করতে সরকারকে নির্দেশ দেন।


মন্তব্য