kalerkantho


কুনিও হোশি হত্যা মামলা

পাঁচ জঙ্গির ফাঁসি

রায়ে খুশি আলুটারির মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পাঁচ জঙ্গির ফাঁসি

জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে হত্যার দায়ে পাঁচ জঙ্গিকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আদালত। তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন পলাতক রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ রায় দেন রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার। সকাল সাড়ে ৯টায় এজলাসে যান বিচারক। এরপর আসামিদের উপস্থিতিতে রায় পড়া শুরু করেন। রায়ের বিবরণ পড়ে শোনাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশুয়া-টাঙ্গাইলপাড়ার মাসুদ রানা, একই এলাকার এছাহাক আলী, বগুড়ার গাবতলীর লিটন মিয়া, গাইবান্ধার সাঘাটার হলদিয়ার চরের সাখাওয়াত হোসেন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আহসান উল্লাহ আনছারী। হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় পীরগাছার কালীগঞ্জ বাজারের আবু সাঈদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারি গ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয় ৬৬ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন বিশেষ পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, জেএমবির আট জঙ্গির বিরুদ্ধে গত বছরের ৩ জুলাই অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার তৎকালীন ওসি আব্দুল কাদের জিলানী। ৭ জুলাই আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ১৩ অক্টোবর কাউনিয়া আমলি আদালত-২-এর বিচারক আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে মামলাটি রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান। ২৬ অক্টোবর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবীর এটি বিশেষ জজ আদালতে পাঠান। ১৫ নভেম্বর শুনানি শেষে সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ জজ আদালত। এ মামলায় বাদীপক্ষে ৫৫ জন ও আসামিপক্ষে একজন সাফাই সাক্ষ্য দেয়।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে এক আসামি বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। গত জানুয়ারিতে আরেক আসামি বন্দকযুদ্ধে মারা যায়। ফলে অভিযোগপত্রভুক্ত আট আসামির মধ্যে বাকি থাকে ছয়জন। তাদের পাঁচজন গ্রেপ্তার, একজন পলাতক।

মামলার রায় উপলক্ষে গতকাল আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে পাঁচ আসামিকে আদালতে তোলা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেন। সকালে আদালতের সব ফটকে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মামলা ও গ্রেপ্তার : ঘটনার দিনই কাউনিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দায় স্বীকার করে। কিন্তু সরকার সে দাবি নাকচ করে দেয়। প্রথমে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরো চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রায় ৯ মাস তদন্তের পর গত বছরের ৩ জুলাই রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। জেএমবির আট জঙ্গিকে আসামি করা হয়। প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ছয়জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।

পলাতক আসামি : কুনিও হোশি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আহসান উল্লাহ আনছারী পলাতক রয়েছেন। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। গত বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি অনুপস্থিত বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম কবীর জানিয়েছেন। তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মকর রাজমালী এলাকায়। রংপুরে বাহাই নেতা রুহুল আমীনকে হত্যাচেষ্টার মামলারও আসামি তিনি।

খুশি আলুটারির মানুষ : কুনিও হোশি হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তাঁর প্রকল্প এলাকা কাচু আলুটারির মানুষ। তারা জানায়, কুনিও সবার সঙ্গে কথা বলতেন। ঠিকমতো বাংলা বলতে না পারলেও তিনি তাঁর কথা এলাকার মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন। অভাবী লোকজন তাঁর প্রকল্পে কাজ করে সংসার চালাত। আলুটারির মাহমুদা, হাছেন বানু ও মর্জিনা জানান, অনেকে ওই প্রকল্পে কাজ করত। মাহমুদা বলেন, মানুষটা ভালো ছিল। তাঁর খুনিদের ফাঁসির রায় শুনে ভালো লাগছে।


মন্তব্য