kalerkantho


জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন খালেদা জিয়া

এনাম আবেদীন   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন খালেদা জিয়া

আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটির মধ্যে এ উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের মতে, প্রাথমিকভাবে দলে ঐক্য প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। আর এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘সংস্কারপন্থী’ বলে পরিচিত বাইরে থাকা অংশকে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিএনপিতে বিভেদ জিইয়ে রেখে জাতীয়তাবাদী ঐক্যের ডাক দিলে কৌশলগত কারণে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। কারণ অন্য দলগুলো তখন বলার সুযোগ পাবে যে মূল দলেই ঐক্য নেই। ফলে সংস্কারপন্থীসহ যিনি যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন সবাইকে দলে টানার পর অন্যান্য দলকে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যদিও আসনভিত্তিক রাজনীতি সংস্কারপন্থী অংশকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার আরেকটি কারণ বলে জানা যায়। কারণ সংস্কারপন্থী সাবেক ৪০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অনেকেরই এলাকায় জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাঁরা বিএনপির মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হতে পারেন বলে মনে করা হয়। তবে মূল কারণ হলো নির্বাচনের আগে বিএনপির কোনো অংশকে বাইরে রাখা নিয়ে দলে বিরাজমান এক ধরনের শঙ্কা।

বাইরে বিএনপির কোনো ভগ্নাংশ থাকলে মূল অংশকে বাদ দিয়ে সরকার সেই পক্ষকে নিয়ে রাজনৈতিক খেলায় নামতে পারে বলে বিএনপিতে আলোচনা আছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে দলের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন ও সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বৈঠককালে খালেদা জিয়া জানিয়েছেন, তিনি জাতীয়তাবাদী দলকে ঐক্যবদ্ধ করার পর জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।

দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী এক সদস্য গতকাল সোমবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, কূটনীতিকদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠকের পরই জাতীয় ঐক্যের প্রস্তুতি শুরু করবেন চেয়ারপারসন। ওই নেতা দাবি করেন, জাতীয় ঐক্যের  ‘গ্রাউন্ড ওয়ার্ক’ চলছে। সময় হলে সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোকে ওই ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্য এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন এ ঐক্যের কথা অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন। কারণ গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো এ সরকারকে হটাতে হলে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলোকে এক কাতারে আসতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির যে ঐক্য প্রয়োজন—এ কথা বিএনপি নেত্রী অতীতে অনেকবারই বলেছেন। এখন হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ উদ্যোগ নিতেও পারেন। তবে কখন, কিভাবে বা কী প্রক্রিয়ায় তিনি এটি করবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তাঁর মতে,  আপাতত এটুকু বলা যায় যে জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক হলেন খালেদা জিয়া। ফলে তাঁর ডাকে সবাই সাড়া দেবেন, এটি আশা করাই যায়।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর খালেদা জিয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ঐক্যে’র ডাক দিলেও তা বাস্তবে রূপ লাভ করেনি। কারণ বেশির ভাগ দল ওই সময় ২০ দলীয় জোটে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তোলে। এ ছাড়া বিএনপির নেতৃত্বে জোট করে কী মিলবে—আলোচনায় পরোক্ষভাবে এমন ইস্যুও সামনে নিয়ে আসেন সরকারি জোটের বাইরে থাকা কয়েকটি দলের নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন বিকল্প ধারা, গণফোরাম, সিপিবি, বাসদ, জেএসডি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। আর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তখন একাই দৌড়ঝাঁপ করে পরে থেমে যান।

তবে এবার বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনে জামায়াত ইস্যুটির নিষ্পত্তি আগেভাগে করেই এগোতে চান খালেদা জিয়া। বিএনপির একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, এমনও হতে পারে যে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার ব্যাপারে জামায়াতকে শর্ত দেওয়া হবে। আর এতে সম্মত না হলে তারা জোট ছেড়ে চলে যাবে।

জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা করবেন, এটি বুঝতে পারছি। কিন্তু শুধু ডাক দিয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেনের বাসায় ওনার (খালেদা জিয়া) হাজির হতে হবে। অন্যদের সঙ্গেও আন্তরিকভাবে কথা বলে স্পষ্ট করতে হবে বিএনপি আসলে কী চায়। প্রয়োজন হলে আসন ভাগাভাগির ব্যাপারটিরও নিষ্পত্তি  করতে হবে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, জামায়াতের ব্যাপারে সবাই হয়তো প্রশ্ন তুলবেন। কিন্তু সেটি বড় সমস্যা নয়। কারণ সব দল এবং জামায়াতকেও পরিস্থিতি অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


মন্তব্য