kalerkantho


গরুর পাশাপাশি বাড়ছে খাসির মাংসের দাম

► কেজিতে বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা
► দাম নিয়ন্ত্রণে অভিযান চায় ক্যাব

শওকত আলী   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গরুর পাশাপাশি বাড়ছে খাসির মাংসের দাম

ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজিসহ নানা অজুহাত তুলে গরুর মাংসের দাম বাড়ানোর পর এবার মাঠে নেমেছে খাসির মাংস বিক্রেতারা। তারা কেজিতে বাড়িয়ে দিয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে খাসির মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে মুরগির বাজারেও। তবে ব্রয়লারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে অযৌক্তিকভাবে গরু ও খাসির মাংসের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্রেতাস্বার্থ সংরক্ষণে সোচ্চার সংগঠনটি মাংসের বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছে।

ক্যাবের প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাংস ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি যেসব দাবি-দাওয়া তুলেছে সেসবের অধিকাংশই পুরনো ঘটনা। গরু কেনা বা আমদানিতে নতুন করে দাম বৃদ্ধির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই বাজারে গরুর মাংস বেশি দামে বিক্রি করার যৌক্তিক কারণ নেই। এ অবস্থায় সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হোক।

অযৌক্তিকভাবে যারা বেশি দাম নিচ্ছে তাদের শাস্তি দেওয়া হোক। আর অতিরিক্ত খাজনা ও চাঁদাবাজি বন্ধ হলে যদি মাংসের দাম ৩০০ টাকা কেজিতে নেমে আসে তাহলে সে বিষয়ে অবশ্যই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ’

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কলাবাগান ও শুক্রাবাদ বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। আগে তা ছিল ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা কেজি। জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, সরবরাহ কম থাকার কারণে খাসির মাংসের দাম বেড়েছে।

এদিকে মুরগির মাংসের বাজারে এখন দুই ধরনের চিত্র। দেশি প্রজাতি ও ককরেল মুরগির দাম কিছুটা বেশি। তবে ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। দু-একটি জায়গায় ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বেশির ভাগ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।

সবজির বাজার গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০, বেগুন ৪০, ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০, কাঁচামরিচ ৪৫ থেকে ৫৫, দেশি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫, শিম ২৫ থেকে ৪০ ও টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে করলা ও বেগুনের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। এ ছাড়া পোল্ট্রি ফার্মের ডিম হালিতে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায়।

রাজধানীর ধানমণ্ডি, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন এলাকার সুপারশপগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ৪৫০ থেকে শুরু করে ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। গরুর মাংস ব্যবসায়ীদের সাম্প্রতিক ধর্মঘটের পর থেকেই বাজারে এই চিত্র। ধানমণ্ডির ২৭ নম্বরে মিনাবাজারের আউটলেটে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকায়। স্বপ্নের বিভিন্ন আউটলেটে এই দর ৫০০ টাকা এবং আগোরায় ৪৮৯ থেকে ৫২০ টাকা।

কারওয়ান বাজারে কথা হয় ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে। মাংসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। সেটা তাদের নিজস্ব পলিসিতে সমাধান করবে। এখানে ক্রেতাদের পকেট কাটা হচ্ছে কেন বুঝতে পারছি না। ১৫ দিন আগে যে খাসির মাংস বিক্রি হতো ৭০০ টাকা কেজি, সেটা এক লাফে ৮০০ টাকা হয়ে গেছে। আর গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। ’

খাসির মাংসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের দোহাই দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্মঘট ডাকাটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে সরকার আমাদের শাস্তি দিক। কিন্তু সরকারের কোনো একটা লোক আমাদের সঙ্গে কথাই বলল না। ’ তিনি বলেন, ‘গত বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একটা মিটিং হয়েছে। সেখানে খাজনার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হচ্ছে বলে আমরা শুনেছি। এ পরিস্থিতিতে আমরা কী করতে পারি? শেষ পর্যন্ত ব্যবসাই ছেড়ে দিতে হয় কি না বুঝে উঠতে পারছি না। ’


মন্তব্য