kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা কম

ঘোষণা আসতে পারে গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা কম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও ভারতে এখনো এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য সৃষ্টি না হওয়াটা এই চুক্তির পথে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে ভারতের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। শিগগিরই দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ বিষয়ে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও আসতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকালে গত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা শেষে ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর গতকাল শুক্রবার সকালে নয়াদিল্লিতে ফিরে গেছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য সফরের তারিখ নিয়ে আলোচনা করলেও যথাসময়েই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার বিষয়ে একমত হয়েছেন। আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করবেন। তবে নয়াদিল্লিতে তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকবেন। ভারত প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ তথা কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রীকে এমন বিরল সম্মান দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে ভারত বরাবরই তার অঙ্গীকারের কথা বলে আসছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো এ ব্যাপারে সম্মতি দেননি। ভারত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি নিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় এবং এ জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের ঢাকা সফরে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে দিল্লির ওপর আস্থা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে বেশ সময় নিয়ে হলেও ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে এবং তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে উষ্ণ সম্পর্ক চলছে তা আরো এগিয়ে নিতে দুই দেশেরই শীর্ষ পর্যায়ে জোরালো চেষ্টা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব তাঁর সফরে এ দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য সহযোগিতার ব্যাপারে নয়াদিল্লির বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কানেক্টিভিটিসহ আঞ্চলিক অনেক উদ্যোগে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা ভারত গুরুত্ব দিয়ে স্বীকার করে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরো নতুন নতুন ঘোষণা এবং ভারতের পক্ষ থেকে ঋণ হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে কয়েক ডজন চুক্তিও হতে পারে।

জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি ও সমরাস্ত্র ক্রয় প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে।


মন্তব্য