kalerkantho


এমপি লিটন হত্যা

সমন্বয়কারী বহিষ্কৃত আ. লীগ নেতা চন্দন!

জাপা নেতা শামীমকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিল

এস এম আজাদ, ঢাকা ও অমিতাভ দাশ হিমুন, গাইবান্ধা   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সমন্বয়কারী বহিষ্কৃত আ. লীগ নেতা চন্দন!

এমপি লিটন

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক চন্দন সরকার সমন্বয়কারী ছিলেন বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সূত্র ধরে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি তাঁদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, চন্দনকে দল থেকে বহিষ্কার করায় লিটনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে স্থানীয় সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির নেতা কর্নেল (অব.) ডা. মো. আবদুল কাদের খানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি লিটন হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেন। ঘটনার সময় লিটনের বাড়ির পাশেই উপস্থিতি ছিল চন্দন সরকারের। কাদের খান ছাড়াও হত্যায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ঘটনার আগে-পরে মোবাইল ফোনে তিনি একাধিকবার কথা বলেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, লিটন হত্যার পর চন্দন গাঢাকা দিয়েছেন। তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি একটি সূত্রের।

এদিকে লিটন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে পুলিশের দাবি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামীম হায়দার পাটোয়ারীকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাদের। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন শামীমের বাড়ি রেকিও করেছিল।

এদিকে শামীম হায়দার পাটোয়ারীকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিল—এ খবর ফাঁস হওয়ার পর কাদের খানের ফাঁসির দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টি।

কাদের খানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইন সবার জন্য সমান। আমরা এটাও বলছি, সমাজপতি হোক কিংবা রাজনীতিবিদ হোক কিংবা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের লোক হোক, অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে। ’ গতকাল সকালে আশুলিয়ার বাইপাইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ক্লাবের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফুল ইসলামকে গত বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়িতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত তিনি গাইবান্ধায় দায়িত্বরত ছিলেন। এসপি আশরাফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই মামলার কারিগরি সহায়তাসহ সব বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর সরাসরি তদারকি করছে। এখানে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি নিশ্চিত না হয়ে কারো বিরুদ্ধে কোনো তথ্যও দেওয়া হয়নি। ’

আরেক প্রশ্নের জবাবে এসপি আশরাফুল বলেন, ‘আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এমপি লিটন খুনের পরে তারা জাপা নেতা শামীমকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল। তারা একবার রেকিও করেছিল। ’ তবে লিটন হত্যায় চন্দনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলতে চাননি তিনি।

এসপি জানান, হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে তাত্ক্ষণিক আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, পিস্তল, গুলি, মাইক্রোবাস, মোবাইল ফোন, ক্যাপ জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরাই এসব আলামত শনাক্ত করেছে। ফলে হত্যার পরিকল্পনা ও এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার বলে দাবি করেন এসপি।  

পুলিশের সূত্রে দাবি, গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান, শাহিন ও আনোয়ারুল ইসলাম রানা ওই হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়। পাহারায় থেকে সহায়তা করে আব্দুল হান্নান। রানা আগে লিটনের বাসায় ঢুকে লিটনের সঙ্গে ক্লাবের ব্যাপারে কথা বলে। পরে মেহেদী ও শাহিন ঢোকে। মেহেদী প্রথম গুলি করেছিল লিটনকে। হত্যাকাণ্ডের সময় বাইরে আরো দুই-তিনজন ছিল।

এদিকে এমপি লিটন হত্যার পর জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে হত্যার পরিকল্পনা করায় কাদের খানের ফাঁসির দাবিতে গতকাল বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ : কাদের খানের ফাঁসির দাবিতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টি গতকাল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পৌর এলাকায় বিভিন্ন সড়কে মিছিল শেষে তারা বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল চত্বরে এসে সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির উপজেলা সহসভাপতি আবুল হোসেন, আনছার সরদার ও জহুরুল হক বাপ্পা; সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মণ্ডল, পৌর সভাপতি আব্দুর রশিদ ডাবলু, যুব সংহতির ছানোয়ার হোসেন বাবু, কল্লোল আহম্মেদ, ছাত্রসমাজের শাহ সুলতান সুমন, মেহেদী হাসান, জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির একরামুল হক লাল মিয়া, আব্দুল মান্নান আকন্দ প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ : এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কাদের খানের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ ও সমাবেশ করেছে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। এমপি লিটনের বাড়িসংলগ্ন বামনডাঙ্গা রেলস্টেশন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে বামনডাঙ্গা বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে রেলস্টেশন চত্বরে সমাবেশ হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সমেশ উদ্দীন বাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সহসভাপতি আব্দুল খালেদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাবেদ, দিলীপ ভট্টাচার্য, রবিউল ইসলাম বাদশা, জাকির হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল, নাদিম হোসেন, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।


মন্তব্য