kalerkantho


আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির

ডিআইজি প্রিজনকে তলব হাইকোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ডিআইজি প্রিজনকে তলব হাইকোর্টে

ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে চার আসামিকে আদালতে হাজির করায় ঢাকার ডিআইজি প্রিজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৯ মার্চ সশরীরে হাজির হয়ে তাঁকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

এর আগে সর্বনিম্ন ১০ বছর ও সর্বোচ্চ ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি থাকা ১০ জনের বিষয়টি গত ৭ ফেব্রুয়ারি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী সৈয়দা সাবিনা আহমেদ মলি। এরপর আদালত এক আদেশে ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই ১০ জনকে হাজির করার নির্দেশ দেন। গতকাল নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট ১০ আসামিকে হাজির করা হয়। এ সময় অ্যাডভোকেট সৈয়দা সাবিনা আহমেদ মলি উপস্থিত ছিলেন।

আদালত পর্যায়ক্রমে ১০ আসামির বক্তব্য জানতে চান। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল, মনিরুজ্জামান মুন্না, নাসির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিনকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আনা হয়। ডাণ্ডাবেড়ি পরা অবস্থা দেখে আদালত বলেন, এটা কী? ডাণ্ডাবেড়ি কেন? কে এনেছে এ অবস্থায়? এ সময় আদালত আসামিদের সঙ্গে আসা পুলিশ কর্মকর্তাকে এজলাসের সামনে ডেকে জানতে চান কেন ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছে।

জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ এ ডাণ্ডাবেড়ি পরায়নি।

কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে যেভাবে পাঠানো হয়েছে সেভাবেই তাদের হাজির করা হয়েছে।

এরপর আদালত ডিআইজি প্রিজনকে আগামী ৯ মার্চ উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।

এদিকে আদালতের আদেশের পর ঢাকার ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আদালতে আসামি হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের। এরপর কারাগার থেকে কোনো আসামিকে আদালতে হাজির করতে হলে পুলিশ যেভাবে চাইবে সেভাবেই হাজির করা হবে। আলোচিত চার আসামির ক্ষেত্রে পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছে। পুলিশ না চাইলে কখনোই ডাণ্ডাবেড়ি বা হাতকড়া পরানো হয় না।

গতকাল যে ১০ জনকে হাইকোর্টে হাজির করা হয় তারা হলো ২০০৫ সাল থেকে হত্যা মামলায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুয়াগাঁওয়ের মৃত আলী হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোনামুড়া গ্রামের আবদুল গণির ছেলে সেলিম মিয়া এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় জামালপুর জেলার চরচড়সী গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল, সাতক্ষীরা পশ্চিমপাড়ার ইটাগাছা থানার মৃত কেরামত আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান মুন্না, সাতক্ষীরার ইসলামপুরের দলিল উদ্দিনের ছেলে নাসিরুদ্দিন ও সাতক্ষীরার ওমর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন। ২০০৩ সাল থেকে হত্যা মামলায় কারাগারে বন্দি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট বেগমখালের মৃত পান্ডে জগন্নাথের ছেলে রাজু জগন্নাথ ও সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার কাউকান্দি গ্রামের উস্তার গনির ছেলে বশির উদ্দিন।

১৯৯৮ সালে করা এক হত্যা মামলায় ১৮ বছর ধরে কারাবন্দি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শিবনগরের ফয়েজ উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে হায়দার আলী, ২০০৬ সালের একটি হত্যা মামলায় ১৮ বছর ধরে বন্দি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মধ্য সোনাখালীর বাসিন্দা আবদুল হাকিম রাজার ছেলে রফিকুল ইসলাম রাজা।

এসব আসামির মধ্যে একমাত্র ফারুক হোসেন ছাড়া অন্য কোনো আসামির মামলার নথি আদালতে আসেনি। এ কারণে শুধু ফারুক হোসেনের মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আদালত। অন্য ৯ জনের নথি না আসায় তাদের বিষয়টি পরে শুনানি হবে বলে আদেশ দেন আদালত।


মন্তব্য