kalerkantho


নীরব রাজনীতিক কাদের খানকে নিয়ে হঠাৎ সরব দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নীরব রাজনীতিক কাদের খানকে নিয়ে হঠাৎ সরব দেশ

রাজনীতিতে অনেকটাই নীরব জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য কাদের খান হঠাৎ করেই এখন একটি আলোচিত নাম। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আওয়ামী লীগদলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় কাদের খানকে গ্রেপ্তার এবং গতকাল তাঁর বাড়ির আঙিনা থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের পর এই নীরব রাজনীতিককে নিয়ে এখন দেশ সরব।

স্থানীয় তথ্য অনুসারে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে জাপার সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। পরে নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে তিনি বিজয়ী হন। যোগদানের সময় তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে তাঁকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। তবে সর্বশেষ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি জায়গা পাননি। জাপার দলীয় বিভাজনে পড়ে পদ হারাতে হয়েছে তাঁকে।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল কাদের খান পেশায় চিকিৎসক। মেডিসিনে এফসিপিএস ডিগ্রি নিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে এলাকায় রোগী দেখতেন, পরেও রোগী দেখতেন। এলাকার রোগীদের অনেকটা বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিতেন তিনি। গাইবান্ধা-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন এই আসনের সাবেক এমপি ডা. আব্দুল কাদের খান। পরে তিনি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

ডা. আব্দুল কাদেরের পৈতৃক বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর এলাকায়। তাঁর পিতা নয়ান খাঁ ছিলেন পেশায় কৃষক। পাঁচ ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে কাদের ছিলেন দ্বিতীয়। পরিবারের সবাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বড় ভাই অধ্যাপনা করেন, তৃতীয় ভাই গ্র্যাজুয়েট, চতুর্থ ভাই উপসচিব এবং পঞ্চম ভাই বিআরবি কেবলসের প্রকৌশলী। বোনেরা বিয়ের পর স্বামীর ঘরে রয়েছেন। তাঁদের পৈতৃক বাড়িটি বেশির ভাগ সময়ই নির্জন থাকে। এলাকায় তাঁরা ধনাঢ্য পরিবার হিসেবে পরিচিত।

কাদের খান ২০০৪ সালে কর্নেল হয়ে অবসরে যান। এরপর ২০০৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তাঁর স্ত্রী ডাক্তার নাসিমা খান জানান, তাঁর মালিকানাধীন বগুড়ার গরীব শাহ ক্লিনিকটি বেশ কিছু দিন ধরেই পুলিশ নজরদারিতে রেখেছিল। ডাক্তার নাসিমা সাংবাদিকদের ফোনে জানান, অতি সমপ্রতি কাদের সাহেব গাইবান্ধা (সুন্দরগঞ্জ)-১ আসনের শূন্য আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা দেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি বৃহস্পতিবার তাঁর পৈতৃক বাড়ির বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রজেক্ট পরিদর্শন করে দলীয় কর্মী মেহেদী ও শাহীনকে নিয়ে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু বিকেলের দিকে পথিমধ্যে পুলিশ ও একদল সাদা পোশাকধারী লোক মেহেদী ও শাহীনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।

এলাকার একাধিক সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শুধু সরিয়ে দেওয়া নয়, নানা কারণেই লিটনের ওপর বিরক্ত ছিলেন কাদের খান। ২০০৮ সালে মহাজোট থেকে নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন কাদের খান। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন লিটন। তিনি নির্বাচিত হয়েই কাদের খানের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য দুদকে দেন। দুদক এ নিয়ে তদন্ত শুরু করে বলেও এলাকায় প্রচার আছে।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন খুন হলে ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ওই আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামী ২২ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতা ডা. আব্দুল কাদের খানও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ওই আসনে জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আব্দুল কাদের খান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে প্রথমে রাজি হননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি। সেই সময় তিনি বগুড়া শহরের বাড়িতে পুলিশি পাহারায় অবরুদ্ধ ছিলেন।


মন্তব্য