kalerkantho


জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ

শেখ হাসিনার ভারত সফর এপ্রিলে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শেখ হাসিনার ভারত সফর এপ্রিলে

আগামী এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধেই দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফররত ভারতের পররাষ্ট্রসচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিবের বৈঠকটি ছিল প্রায় আধঘণ্টাব্যাপী। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরালো হবে। ’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর আসন্ন ভারত সফরে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অতিথি হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিরল সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ভারত এমন উদ্যোগ নিচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম সফরের পর শেখ হাসিনাকেও দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এ সফর গত বছরের ডিসেম্বরে হওয়ার কথা থাকলেও ঝুলে গিয়েছিল। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের ঢাকা সফরের সময় চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ওই সফরের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও তা হয়নি। তবে এর মধ্যে গত অক্টোবরে ভারতের গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা; তা দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না। নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শেখ হাসিনার সেই দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরটিই এপ্রিলে হতে যাচ্ছে।

 

গতকাল দুপুরে ঝটিকা সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব জয়শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর চূড়ান্ত করা ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনাই তাঁর এ সফরের লক্ষ্য বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এ সফরে কানেক্টিভিটির পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ ও উন্নয়ন প্রাধান্য পাবে।

শেখ হাসিনা স্থলসীমান্তসহ বিভিন্ন সমস্যার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকলে আমরা আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা সমাধান করতে পারি। ’ তিনি এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংযোগের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব স্থবির হয়ে পড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রসঙ্গ তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একে আমাদের শেষ হয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। ’

বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) মোটরযান চুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চার দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘বিবিআইএন উদ্যোগ কার্যকর হওয়া প্রয়োজন এবং আলোচনার মাধ্যমে এ উদ্যোগসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। ’

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব জানান, বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ভারত এ দেশে আরো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করবে।

বৈঠকের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক, ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। আজ শুক্রবার সকালে তাঁর নয়াদিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন গত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের আমন্ত্রণে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব ড. জয়শঙ্কর বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক অগ্রগতিগুলো তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিষয়েও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব আলোচনা করেন।

এরপর বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিবরা বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক খাতগুলো পর্যালোচনা করেন। ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর চমত্কার বাস্তবায়ন হওয়ায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে। এ ছাড়া নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জাহাজ চলাচল, রেলওয়ে প্রভৃতি খাতে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অগ্রগতি নিয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করে। বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত রাতে জানায়, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী এপ্রিল মাসে ভারত সফরের জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ বিষয়ে অবহিত করেছেন। শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ভারত সরকারের সহায়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সক্ষমতা সৃষ্টি ও উন্নয়ন অংশীদারিসহ গুরত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে ভারতের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।

সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিবরা তাঁদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের এজেন্ডা ও সম্ভাব্য কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় পর্যালোচনা করেন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতায় তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামী দিনে নতুন নতুন উদ্ভাবনী খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও তাঁরা সম্মত হন।


মন্তব্য