kalerkantho


টিএফএ কার্যকর

বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন মাইলফলক

আবুল কাশেম   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন মাইলফলক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুপক্ষীয় বাণিজ্য বিরোধিতার মধ্যে গত বুধবার থেকে এক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডাব্লিউটিও)। ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (টিএফএ) নামের এই চুক্তি গত বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এ চুক্তি বিশ্বব্যাপী আমদানি-রপ্তানিতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে বাণিজ্য সহজ করবে। যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ সংস্থাটির সদস্যরা এ চুক্তি বাস্তবায়ন করবে। এ চুক্তি কার্যকরের ফলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নতুন পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে বলে মনে করছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা।

ডাব্লিউটিও বলছে, এ চুক্তি কার্যকরের ফলে পণ্য আমদানিতে দেড় দিন এবং রপ্তানিতে অন্তত দুই দিন সময় কম লাগবে। এ চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যব্যয় ১৪.৩ শতাংশ কমবে। এতে বিশ্বব্যাপী এক ট্রিলিয়ন ডলার রপ্তানি বাড়বে বলে মনে করছে সংস্থাটি। গত বুধবার পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ১১২টি দেশ এ চুক্তি অনুমোদন করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণে বাধ্য হবে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে যেসব নথি ও তথ্যের প্রয়োজন হয়, তা কম্পিউটারাজড করার পাশাপাশি সেখানে সবার প্রবেশাধিকার থাকবে।

অনেক সময় একই তথ্য ও নথি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক উভয় দেশেই দাখিল করতে হয়। সেটা এখন এক দেশে দাখিল করলেই হবে। এর ফলে আমদানি ও রপ্তানিতে সময় কম লাগবে, খরচও কমবে। নতুন পণ্য রপ্তানিতে গতি আসবে। নতুন বাজারও সৃষ্টি হবে। এসব হলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নতুন পণ্য রপ্তানি ৩৫ শতাংশ আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি ২০ শতাংশের মতো বাড়বে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য এ চুক্তির মাধ্যমে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে ডাব্লিউটিও। সে সব উদ্যোগকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো কবে নাগাদ তা সম্পন্ন করতে পারবে, তা জানতে চেয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে কোনগুলো সদস্য রাষ্ট্র এখনই সমাধান করতে পারবে, কোনগুলো করতে সময় লাগবে, আর কোনগুলো করতে ডাব্লিউটিওর সহায়তা লাগবে, সে সব তথ্য অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ডাব্লিউটিওকে জানিয়েছে। বাণিজ্য সহজীকরণের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তাও দেবে সংস্থাটি।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া এভাবে সহজ করলে স্বাভাবিকভাবেই এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। এর ফলে বাংলাদেশও লাভবান হবে। ’

‘এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ...ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন চুক্তি কার্যকর এই শতাব্দীতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্কারে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ’—টিএফএ চুক্তি কার্যকর উপলক্ষে গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডাব্লিউটিওর মহাপরিচালক (ডিজি) রবার্টো অ্যাজেভেডো এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন। তাঁর মতে, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্যের পেছনে খরচ সবচেয়ে বেশি। তাই এ চুক্তির মাধ্যমে তারাই বেশি লাভবান হবে। ‘এটি তাদের রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের রপ্তানি ২০ শতাংশ বাড়াতে পারবে। স্বল্পোন্নত দেশের ক্ষেত্রে এ হার ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হবে’—যোগ করেছেন তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ চুক্তি কার্যকর হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ বাড়তি সুবিধা পাবে। রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে আমাদের রপ্তানিকারকরা যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন, তা দূর হবে। আমদানি কার্যক্রম সহজীকরণে আমাদের যেসব পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে ডাব্লিউটিওর সহায়তা পাওয়া যাবে। তাতে আমদানিকারকরাও লাভবান হবেন। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটি কাজ করছে। ’

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে এ চুক্তির সমালোচনা করে বলেছিলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে এই চুক্তি তাদের অনেক বেশি সুবিধা দেবে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা চাকরি হারাবে।


মন্তব্য