kalerkantho


ঢাকায় ধূলিদূষণ

দায়ী সংস্থাগুলোকে পরিবেশ অধিদপ্তরে তলব

২৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠক

আরিফুর রহমান   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দায়ী সংস্থাগুলোকে পরিবেশ অধিদপ্তরে তলব

উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে ধুলাবালি সৃষ্টি করা হবে না; হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রকল্প শুরুর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে এ প্রতিশ্রুতি দেয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

কিন্তু কাজ শুরুর পর সব ভুলে যায় তারা।

পানি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের লাইন ঠিক করা বা মেট্রো রেল বা উড়াল সড়ক নির্মাণের জন্য রাস্তা খুঁড়ে ধুলাবালি সৃষ্টি করলেও নিয়ন্ত্রণের কথা চিন্তাই করে না বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। পরিবেশ অধিদপ্তর নগরীতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের জন্য সতর্ক করে, কিন্তু তা আমলে নিচ্ছে না কেউ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় ধুলা সৃষ্টিকারী সরকারি সংস্থাগুলোকে তলব করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী দুই সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত বিভাগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ওয়াসা প্রভৃতি সংস্থাকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ডাকা হয়েছে। এসব সংস্থা ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি মানছে না। অধিদপ্তর মৌখিকভাবে তাদের সতর্ক করলেও তারা আমলে নিচ্ছে না। এ কারণে কঠোর হতে হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এসে সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়ার সময় আমরা তাদের কয়েকটি শর্ত দিই। এখন দেখছি, সেবাদানকারী সংস্থাগুলো আমাদের শর্ত মানছে না। বিদ্যমান সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা যায়, সে জন্য আমরা তাদের ডেকেছি। ’ তিনি বলেন, ‘মৌখিক সতর্কতায় কাজ হচ্ছে না। সে জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। আমরাও উন্নয়ন চাই। তবে উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশের দিকটি মাথায় রেখে। ’

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সেবাদানকারী সংস্থা ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করছে। এতে ধূলিদূষণ ঘটছে মাত্রাতিরিক্তভাবে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির সময় পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও তারা মানছে না। কেন ধুলা নিয়ন্ত্রণে রাখার নিয়ম মানা হচ্ছে না তা জানতে ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের তলব করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাজধানীতে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে এলজিইডিকে বলা হয়েছিল, উড়াল সেতু নির্মাণের সময় সকাল-বিকাল দুবার পুরো এলাকায় পানি দিতে হবে। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী নির্দিষ্ট একটি স্থানে রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে, এসব সামগ্রী বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ার সময় পলিথিন দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে ঢেকে রাখা হয় না। ফলে পুরো এলাকা ধুলাবালিতে ছেয়ে যাচ্ছে। কেন নিয়ম মানা হচ্ছে না জানতে প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলমকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর মনে করে, রাজধানীতে ধুলাবালির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ। ইতিমধ্যে আগারগাঁও থেকে পল্লবী পর্যন্ত অংশের কাজ শুরু হয়েছে। ওই অঞ্চলে ধুলাবালির পরিমাণ বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। করণীয় ঠিক করতে প্রকল্প পরিচালককে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

মেট্রো রেল প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কৃষ্ণকান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘পল্লবী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজ চলছে। এতে ধুলাবালি উড়ছে। এখানে সিটি করপোরেশনেরও দায়িত্ব আছে। ধুলাবালি কমাতে করণীয় ঠিক করতে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির সভায় রাজউক, ওয়াসা, গণপূর্ত, এলজিইডি প্রভৃতি সংস্থার প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ডাকা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছ উল আলম মণ্ডল সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

ঢাকায় বায়ুদূষণ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান ধুলা। নভেম্বর থেকে মার্চ—এই পাঁচ মাস ধুলাবালির পরিমাণ বেশি থাকে। এ সময় রাজধানীতে নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। শীতকালে ঢাকার চারপাশে ইটভাটার কাজ শুরু হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, অন্য সময়ের (এপ্রিল-অক্টোবর) তুলনায় শীতের সময়ে (নভেম্বর-মার্চ) বায়ুদূষণের মাত্রা (পিএম-২.৫-এর নিরিখে) প্রায় পাঁচ গুণ হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে এক লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে।


মন্তব্য