kalerkantho


শেখ হাসিনার নির্দেশনাও উপেক্ষিত

তৈমুর ফারুক তুষার   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শেখ হাসিনার নির্দেশনাও উপেক্ষিত

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২২ অক্টোবর দলের জাতীয় সম্মেলনে সারা দেশে হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। এরপর পেরিয়েছে চার মাস, কিন্তু কেন্দ্র বা তৃণমূল কোনো পর্যায়ের নেতাই সাড়া দেননি। এমন ভালো কাজে এগিয়ে না এলেও খারাপ কাজে অবশ্য তাঁদের উৎসাহের কমতি নেই। জাতীয় সম্মেলনের পর থেকে দলীয় কোন্দলে অন্তত এক ডজন খুন আর জনগণের কাছে সমালোচিত বেশ কয়েকটি ঘটনার জন্ম দিয়েছে নেতাকর্মীরা।   

শুধু হতদরিদ্রদের তালিকা নয়, দেশের উন্নয়ন ও সরকারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে শেখ হাসিনার এ রকম বহু নির্দেশনা বাস্তবায়নে আগ্রহ নেই নেতাদের। জামায়াতের লোকজনকে দলে না টানা, অভ্যন্তরীণ হানাহানিতে না জড়িয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করা, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা, সাধারণ মানুষের মন জয়ে প্রধানমন্ত্রী বারবার তাগিদ দিলেও নেতাকর্মীরা হাঁটছে উল্টো পথে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী-এমপিরা নিজেদের প্রভাববলয় বাড়াতে জামায়াত-শিবির, এমনকি যুদ্ধাপরাধীদেরও দলে ভেড়াচ্ছেন। তুচ্ছ ব্যক্তিস্বার্থে নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়ছে আত্মঘাতী সংঘর্ষে। এসব কর্মকাণ্ডে বিব্রত সরকার। এতে ম্লান হয়ে যাচ্ছে সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো। মানুষের মন জয় করে আগামী সংসদ নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এখন সন্দিহান দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা।

 

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় দল। এখানে ছোটখাটো মতবিরোধ থাকবেই। তবে যাঁরা সীমা লঙ্ঘন করবেন তাঁদের অপরাধের দায় দল নেবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং আগামীতেও নেব। ’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নেত্রীর সব নির্দেশনা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। আমরা কাজ করছি। তবে কোনো কোনোটি একটু সময়সাপেক্ষ। ’

হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেই

গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের বলেন, ‘দেশে দরিদ্র, গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত মানুষ থাকবে না, এটাই আমাদের রাজনীতি। আপনাদের দায়িত্ব দিলাম। গৃহহীন ও হতদরিদ্র মানুষের তালিকা পাঠান। আমরা ব্যবস্থা নেব। তাদের বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করে দেব। ’

এরপর চার মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তালিকা তৈরির খবর নেই। এ কাজে কেন্দ্র কিংবা জেলা, মহানগর, উপজেলাসহ তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগ্রহ দেখানো হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের উদ্যোগ আছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে হতদরিদ্রের সংখ্যা কমিয়ে আনার কাজ চলছে। ’

জানতে চাইলে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউর রহমান শফি বলেন, ‘এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোনো সার্কুলার পাইনি। ’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরির জন্য কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, আমরাও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করিনি। ’

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক তালুকদার বলেন, ‘আমরা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি। ’

সাংগঠনিক ঐক্যের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে হানাহানি

সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সব কটি বৈঠকেই সাংগঠনিক ঐক্য জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনের আগে কোন্দল মিটিয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু এসবে গা করছে না নেতাকর্মীরা। তারা প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছে আরো ১২-১৫ জন।

কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কলেজ শাখার কর্মী ইয়াসিন আরাফাত। আহত হন আরো দুজন।

২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান একজন সাংবাদিক। এ খবর শুনে ওই সাংবাদিকের নানি রোকেয়া বেগমও মারা যান। একই দিন কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ওই দিন রাতেই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে অন্তত চারজন আহত হয়। এ ছাড়া শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান মডেল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হাসান খানকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। ১ ফেব্রুয়ারি দলীয় কোন্দলে খুন হন নড়াইলের ভদ্রবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাষ রায়।

১০ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একটি জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। একই দিন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ সিকদার এবং সাবেক চেয়ারম্যান শফিউদ্দিন সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়।

এ বছরের শুরুতেই নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মারা যান গাইবান্ধা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজনদের মধ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মাসুদও রয়েছেন।

গত ডিসেম্বরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। আহত হয় পাঁচজন ।

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৯০৭টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয় ১৭৭ জন আর আহত হয় ১১ হাজার ৪৬২। এর মধ্যে শুধু আওয়ামী লীগেরই ৮৩ জন নিহত হয়। ২০১৫ সালে রাজনৈতিক সংঘাতে মারা যায় ১৫৩ জন, যার মধ্যে ৩৩ জন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার।

নিষেধ সত্ত্বেও দলে ভেড়ানো হচ্ছে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের

বছরখানেক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত থেকে যারা আমার দলে আসতে চায়, তাদের আমরা নেব না। তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বের সৃষ্টি এবং আমার দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করে। ’

গণভবনে আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্য দল থেকে নেতাকর্মী নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগে তো নেতাকর্মী কম নেই। ’

অথচ দলীয় সভাপতির এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে। তৃণমূলে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের দলে ভেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। চিহ্নিত রাজাকার, বিভিন্ন সময়ে নাশকতা মামলার আসামি জামায়াত নেতাদেরও টানা হচ্ছে।  

গত ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে বগুড়ার আদমদীঘিতে তালিকাভুক্ত রাজাকারের ডেপুটি কমান্ডার গোলাম মোস্তফা আওয়ামী লীগে যোগ দেন উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর উদ্যোগে।

জামায়াত নেতাকর্মীদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ। একসময় বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসা ওদুদের হাত ধরে সর্বশেষ গত ২৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারঘড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা ও বিভিন্ন সময়ে নাশকতা মামলার আসামি আবুল খায়ের দলে ভেড়েন। এর আগেও কয়েক দফায় জামায়াত-বিএনপি থেকে বহু নেতাকর্মীকে দলে টেনেছেন তিনি।

গত ১৬ ডিসেম্বর যশোরের মণিরামপুরে ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে জামায়াত-বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নাশকতা মামলা এবং ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের সময়ে হাজরাইল ঋষিপল্লীর দুই গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার একাধিক আসামি রয়েছে।

২১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী আকবর কয়েক শ নেতাকর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

গত ১৫ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি কলোনিপাড়া এলাকার বিএনপি-জামায়াতের শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে।

বিভিন্ন সময়ে রাজশাহীর সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর হাত ধরেও বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে ভিড়েছে।

২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের রোকন নওশের আলী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের হাতে ফুল দিয়ে এ দলে ভেড়েন। এ যোগদানের ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর পর থেকে সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতারা ব্যাপকভাবে জামায়াত নেতাকর্মীদের দলে টানতে শুরু করেন।

গত কয়েক বছরে কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, গাজীপুর, জামালপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, ঝালকাঠি, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিপুলসংখ্যক জামায়াতের নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে ভিড়েছে।   

মানুষের মন জয়ের বদলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

আওয়ামী লীগ সভাপতি সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি একাধিকবার বলেছেন, ‘মানুষের মন জয় করে আগামী নির্বাচনে জিততে হবে। ’ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে জনগণের পাশে থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তাঁর এমন নির্দেশনায় কর্ণপাত করছে না বেয়াড়া নেতাকর্মীরা। বরং তারা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাতেও সাবধান হচ্ছেন না নেতা ও এমপিরা।

সম্প্রতি চাঁদপুরে হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন পাটোয়ারী স্থানীয় নীলকমল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের পিঠের ওপর দিয়ে হেঁটে দেশব্যাপী সমালোচনার জন্ম দেন। এরপর তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর কয়েক দিনের মধ্যে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে এক সাংবাদিক নিহত হন। এ ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। সাংবাদিক হত্যার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুকে বহিষ্কার করা হয়।

কিছুদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। নাসিরনগরের ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। আর গোবিন্দগঞ্জের ঘটনার পেছনে স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। দুটি ঘটনাই সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।

কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান রানা, গাইবান্ধার প্রয়াত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের নানা  কর্মকাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।

নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়ার কাজ শুরু করেনি ছাত্রলীগ 

গত ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়ার কাজে ছাত্রলীগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু তাঁর এ আহ্বানে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি সংগঠনটি। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতির ভালো কাজের আহ্বানে সাড়া না দিলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে জড়াচ্ছে নিয়মিতই। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও নিজ সহকর্মীর রক্তে হাত রাঙাচ্ছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ গত শনিবার চট্টগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে হত্যা করে সংগঠনের আরেক কর্মী।


মন্তব্য