kalerkantho


মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত

৩৫তম বিসিএসের শূন্য পদে নিয়োগ ৩৬ থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



৩৫তম বিসিএসের শূন্য পদে নিয়োগ ৩৬ থেকে

৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রাধিকার কোটার পূরণ না হওয়া পদ সংরক্ষণের নিয়ম এককালীন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। ৩৫তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার পূরণ না হওয়া পদগুলো ৩৬তম বিসিএসের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের শূন্য পদের সঙ্গে যোগ করে তা পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ ছাড়া মিডওয়াইফারি ও সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পূরণ না হওয়া পদ মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী সাধারণ প্রার্থীদের মাধ্যমে পূরণ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজার ১৮০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদের সঙ্গে এখন ৩৫তম বিসিএসের পূরণ না হওয়া পদগুলো যোগ হবে। এ ছাড়া পিএসসির তত্ত্বাবধানে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট পদে ৩০২ জন এবং মিডওয়াইফারি বা ধাত্রী পদে ৬০০ জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এসব পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে।

২০১০ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট পদ সংরক্ষণের (শূন্য রাখার) নিয়ম চালু রয়েছে।

সরকারের এই নিয়ম অনুসরণ করতে গিয়ে বিভিন্ন বিসিএসে অনেক পদ শূন্য রয়ে যাচ্ছে। এ কারণে পিএসসি ৩৬তম বিসিএসসহ আরো কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষায় কোটা সংরক্ষণের নিয়ম শিথিল করার সুপারিশ করে।

উল্লেখ্য, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ মহিলা কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা ও ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা রয়েছে। তবে এসব কোটার মধ্যে শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটার পূরণ না হওয়া পদ সংরক্ষণ করতে হয়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটা যা ছিল তা-ই আছে, শুধু কোটা শিথিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রিসভা, সংবিধানেও কোটার বিধান আছে। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদ খালি রাখতে হবে। কিন্তু পিএসসি বলেছে, ৩৬তম বিসিএসের দুই হাজার ১৮০টি শূন্য পদের মধ্যে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের জন্য এক হাজার ৬৩৮টি পদ আছে। এই পদগুলোর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৪৯১টি, ১০ শতাংশ মহিলা কোটার ১৬৪টি, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার ৮২টি পদসহ ৭৩৭টি পদের বেশির ভাগই খালি থাকবে। পদগুলো পূরণ সম্ভব হবে না। এখন এই পদগুলো মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থান করা প্রার্থীদের মাধ্যমে পূরণের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রাধিকার কোটার পূরণ না হওয়া পদ সংরক্ষণের বিধান শুধু ৩৬তম বিসিএসের জন্যই শিথিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া গতকালের বৈঠকে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) আইন, ২০১৭-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে বোর্ডের আর্থিক ক্ষমতা বাড়বে। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে আগে সরকারি কর্মচারীদের এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হতো। তা বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যৌথ বীমা আগে ছিল এক লাখ টাকার। তা-ও দুই লাখ টাকা করা হচ্ছে। আগে কোনো সরকারি কর্মচারী মারা গেলে তাঁর দাফন-কাফনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হতো। খসড়া আইনে সেটা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে চাঁদা দিতে পারত মূল বেতনের এক শতাংশ বা ৫০ টাকা। এখন সেটা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৈঠকে শিশু (সংশোধন) আইন ও বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আইনের খসড়ায়ও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বর্তমান আইনে বিভিন্ন মামলার শিশু সাক্ষীদের শিশু আদালতে সাক্ষ্য নেওয়ার বিধান রয়েছে। তা তুলে দিয়ে শিশু সাক্ষীদের সংশ্লিষ্ট আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার বিধান করার প্রস্তাব রয়েছে খসড়া আইনে।

প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের ক্ষেত্রে জরিমানা বাড়িয়ে প্রাণী কল্যাণ আইনের খসড়াও গতকাল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। খসড়া আইনে বেওয়ারিশ প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা বেওয়ারিশ প্রাণী নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে পারবে। পোষা প্রাণী বাণিজ্যিকীকরণ, প্রজনন ও বিক্রি করতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রাণীকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো যাবে না, তাদের প্রহারও করা যাবে না। প্রাণীকে অঙ্গহানি করলে বা বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হলে দুই বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি নিয়ে মন্ত্রীদের ক্ষোভ : গতকাল বৈঠক শেষে একজন মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে জানান, বিসিএসে কোটাপদ্ধতির সংস্কার নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের প্রসঙ্গ আসে। এ সময় কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী জানান, সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে নানা অনিয়ম হচ্ছে; এমনকি আর্থিক লেনদেনও হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ফোন করে তাঁদের হয়রানির চিত্র জানাচ্ছেন। মন্ত্রীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন।


মন্তব্য