kalerkantho


একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের সুরে খালেদার বক্তব্য শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পাকিস্তানের সুরে খালেদার বক্তব্য শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল একুশে পদক ২০১৭ প্রদান শেষে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও মন্ত্রিপরিষদসচিব শফিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পাকিস্তানিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষাসহ বহু ত্যাগের বিনিময়ে বাঙালির যা কিছু মহান অর্জন, সেগুলো রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলতি বছরের একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক এবার একুশে পদক পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে পাকিস্তানের নতুন ষড়যন্ত্র ও শহীদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে বলেছিলেন, ৩০ লাখ লোক শহীদ হয় নাই। এই সংখ্যা নাকি ঠিক না। এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে? এর থেকে জঘন্য কথা আর বোধ হয় কিছু হতে পারে না। আমার মনে হয়, পাকিস্তানিদের এই অপপ্রচার আর তাঁর (খালেদা) এই বক্তব্যে কোনো সূত্র আছে কি না আমি জানি না। তবে মনে হচ্ছে যেন একই সুরে তিনি কথা বলার চেষ্টা করছেন। এটা শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি ও অবমাননা করা ছাড়া আর কিছুই না।

পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনো ‘শেষ হয়নি’ এবং কিছুদিন আগে তারা একটি বই প্রকাশ করে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মিলে তাদের এদেশীয় দোসরদের গণহত্যায় লিপ্ত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্ভাগ্য যে আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, তারা নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ওই গণহত্যার ছবিতে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেছে বলে ক্যাপশন দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে সব জায়গায় বিলি করার চেষ্টা করছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা স্বাধীন দেশ। অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। সেই সময় এ ধরনের অপপ্রচার এখনো তারা করে যাচ্ছে, এটা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ’

তাই ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করে আন্তর্জাতিকভাবে এর স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা চালানোর ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আমাদের গ্রহণ করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সময় যে জঘন্য ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। দিনের পর দিন হত্যা করেছে। ৩০ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছে। দুই লাখ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছে। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য। ’ গণহত্যায় মানুষের মৃত্যুর সেই চিহ্ন সারা বাংলাদেশে রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সেটা নিয়ে প্রশ্ন করা বাঙালি জাতির প্রতি চরম অবমাননা। যে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তাদের প্রতি চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই না। ’

ভাষার দাবিতে বাঙালির সংগ্রামের একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং মাতৃভাষা সংরক্ষণে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিজয়ী জাতি হিসেবে কারো কাছে মাথা নত করে চলব না। ’

অনুষ্ঠানে একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার হিসেবে একটি সনদপত্র, স্বর্ণপদক এবং দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন ভাষা আন্দোলনের জন্য অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, গবেষণায় সৈয়দ আকরম হোসেন, শিক্ষায় ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন, ভাষা ও সাহিত্যে কবি ওমর আলী (মরণোত্তর) এবং ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া; শিল্পকলায় ‘অপরাজেয় বাংলা’র ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, চলচ্চিত্রে তানভীর মোকাম্মেল, নাটকে সারা যাকের ও  নৃত্যে শামীম আরা নীপা; সংগীতে সুষমা দাস, জুলহাস উদ্দিন আহমেদ, ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম ও উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ সেলিম; সাংবাদিকতায় আবুল মোমেন ও স্বদেশ রায় এবং সমাজসেবায় অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান। প্রয়াত কবি ওমর আলীর পক্ষে তাঁর ছেলে মো. রফি মনোয়ার আলী ছাড়া বিজয়ী সবাই নিজে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন।

মন্ত্রিপরিষদের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিচারপতি, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, পদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য