kalerkantho


মিঠাপুকুরে শহীদ পরিবারের জমি দখল করতে মামলা

নবম শ্রেণির ছাত্র ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুর বয়স ২৫!

রংপুর অফিস   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নবম শ্রেণির ছাত্র ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুর বয়স ২৫!

রংপুরের মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রনি সওদাগর একটি মারপিটের মামলার ২৪ নম্বর আসামি। মামলার এজাহারে তার নাম লেখা রয়েছে পনির হোসেন। বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২৫ বছর। হরিপুর সাহাপাড়া গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তাপস সাহাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। তার প্রকৃত বয়স ১৫ বছর হলেও এজাহারে দেখানো হয়েছে ২৫।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপ উদয়পুর গ্রামের শহীদ আব্দুল জব্বারের পরিবারের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে মারপিটের সাজানো অভিযোগে এ মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের নাম ও বয়সের গরমিল করেছে বাদী ও পুলিশ।

পুলিশ বলছে, রনি সওদাগরের ভুল নাম ও বয়স নথিভুক্ত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে শহীদ হন ধাপ উদয়পুর গ্রামের আব্দুল জব্বার। তাঁর কেনা এক একর ৭৯ শতক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে উত্তরসূরিরা। বছর দুয়েক আগে ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন একই গ্রামের গোলাম মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি।

তিনি শহীদ পরিবারের ভোগদখলীয় ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মারপিটের সাজানো অভিযোগ মামলাটি করেন। এ মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি আব্দুল জলিল অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার বাবা আব্দুল জব্বার শহীদ হন। আমরা তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছি। সম্প্রতি উদয়পুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা সেটা দখলের চেষ্টা চালান। তিনি মারপিটের মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন। ’

আরেক আসামি মনোয়ার হোসেন জানান, এ মামলায় তাঁর ছেলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রনি সওদাগরকেও আসামি করা হয়েছে। তার বয়স দেখানো হয়েছে ২৫ বছর। এ ছাড়া আসামি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু তাপস সাহার বয়সও ২৫ বছর দেখিয়েছেন মামলার বাদী।

শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ‘রনি সওদাগর এই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত ছাত্র। তার বয়স ২৫ বছর হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ’

আসামি ফুলন মিয়া, রমেশ চন্দ্র সাহা ও মনারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন তাঁরা সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না। অথচ মামলায় আসামি করে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। বাদী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি ছেড়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

মামলার বাদী গোলাম মোস্তফার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মিঠাপুকুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন মিয়া বলেন, ‘আমার আগে আরেকজন অফিসার তদন্ত করে মামলাটি রেকর্ড করেছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। ’

মিঠাপুকুর থানার ওসি মোজাম্মেল হোসেন মামলার দায়েরের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য