kalerkantho


মাতৃভাষা ছড়িয়ে দাও, ভালবাসায় ভরিয়ে দাও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো) মাতৃভাষাসহ অন্তত তিনটি ভাষায় শিক্ষা বিস্তারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। শান্তি, সম্প্রীতি, মানুষে মানুষে ভালোবাসা, বৈশ্বিক অঙ্গনে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও টেকসই  ভবিষ্যতের জন্যই এ উদ্যোগ।

ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বহুভাষী শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তত তিনটি ভাষার ব্যবহার রয়েছে। প্রথম ভাষাটি মাতৃভাষা, দ্বিতীয়টি আঞ্চলিক বা জাতীয় এবং তৃতীয়টি আন্তর্জাতিক কোনো ভাষা।

সংস্থাটির মতে, মানসম্মত বহুভাষী শিক্ষাব্যবস্থা টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়ক হবে। কারণ অন্তত তিনটি ভাষা (মাতৃভাষা, রাষ্ট্রভাষা ও আন্তর্জাতিক কোনো ভাষা) জানা ও শিক্ষার ফলে শিক্ষার্থীরা সমাজে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। তারা নতুন নতুন বিষয় জানবে এবং সংস্কৃতি প্রকাশের সুযোগ পাবে। এগুলোই তাদের বৈশ্বিক নাগরিক হয়ে উঠতে সহায়তা করবে। তিন ভাষায় শিক্ষা তাদের অন্য ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। সর্বোপরি তা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এসডিজি) অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনেসকো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা বলেছেন, ‘ভাষাগত বৈচিত্র্য ও বহুভাষার প্রতি ইউনেসকো তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

আমাদের পরিচয় আমাদের ভাষাই প্রকাশ করে। ভাষা আমাদের চিন্তা ও পরিচয়ের কাঠামো নির্ধারণ করে। ’

ইরিনা বোকোভার মতে, ভাষাগত বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান দেখানো ছাড়া কোনো কার্যকর আলোচনা বা ফলপ্রসূ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা হতে পারে না। এর ফলে ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সত্যিকারের বোঝাপড়ার পথ উন্মুক্ত হয়। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুযোগ ও অজানাকে জানার আগ্রহও এ ভাষার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। এ কারণেই একটি ভাষা শেখা শান্তি, উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি অঙ্গীকার।

ইউনেসকো এ বছরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে বহুভাষী শিক্ষার জন্য উৎসর্গ করেছে। এটি বিশেষভাবে এসডিজি-৪ (সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা) বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইরিনা বোকোভা বলেছেন, মাতৃভাষায় শিক্ষা ও তথ্য পাওয়া মানসম্মত শিক্ষা অর্জন, আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানের জন্য অপরিহার্য। এগুলো উন্নয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী অনুঘটক।

ইরিনা বলেন, ‘শিল্প, ভাবনা, অনুভূতি ও অপেক্ষাকৃত উন্নত বিশ্বের প্রত্যাশা আমাদের কাছে নিজ নিজ ভাষায় ভর করেই প্রথম আসে। এই ভাষাগুলো আমাদের মূল্যবোধ ও মানবতার দর্শনকে প্রকাশ করে। ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং তা বাস্তবায়নের শক্তিকে উন্মুক্ত করা। ’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মাতৃভাষা ছাড়াও দেশের জাতীয় ভাষা ও একটি আন্তর্জাতিক ভাষা জানা এবং ওই ভাষায় মানসম্মত শিক্ষার যে লক্ষ্যের কথা ইউনেসকো ঘোষণা করেছে তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শুধু সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তির জন্যই নয়, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও জানার  জন্যও অন্তত তিনটি ভাষায় পারদর্শী হওয়া প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলা ভাষার জন্য বাঙালির সংগ্রাম অত্যন্ত গর্বের। এটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এখন এ ভাষাকে বিশ্বে আরো ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশিদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সঙ্গেও প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

মানসম্মত শিক্ষা ও মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ভাষা শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ যদি মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক ভাষা জানা কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারত, তাহলে নিশ্চয়ই প্রবাসীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে আরো ভালো অবস্থানে থাকতে পারত। পরিশ্রম ও সততার জন্য বাংলাদেশি কর্মীদের সুনাম আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কার কর্মীরা শিক্ষা ও ভাষাগত যোগ্যতার কারণে ভালো সুযোগ পাচ্ছে। চাকরি, পড়ালেখা—সব ক্ষেত্রেই একাধিক ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


মন্তব্য