kalerkantho


একটি আপেলের জন্য শিশুকে বেঁধে নির্যাতন!

নাটোর প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



একটি আপেলের জন্য শিশুকে বেঁধে নির্যাতন!

সাইদুল

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ক্ষুধা নিবারণের জন্য একটি আপেল চুরি করে খাওয়ায় এক শিশুকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় মার্কাজ মসজিদের সামনে সাইদুল নামের ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়।

সাইদুল ওই উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের জাকিরের মোড় এলাকার কৃষি শ্রমিক আবদুল মিয়ার ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারে হানিফের ফলের দোকান থেকে সাইদুল একটি আপেল নিয়ে দৌড় দেয়। হানিফ ও তাঁর সহযোগী অটোচালক পিন্টু ও মাইক্রোচালক মজনু শিশুটিকে ধরে ফেলেন। একপর্যায়ে নাইলনের দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করা হয়।

শিশুটি জানায়, সকালে সে কিছু না খেয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। ক্ষুধা লাগায় সে আপেলটি চুরি করেছিল। অনেক কান্নাকাটি, আকুতি জানানোর পরও তাঁরা তাকে ছাড়েননি।

আপেল দোকানদার হানিফ বলেন, তিনি দোকান খোলা রেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছিলেন।

আপেল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখে পিন্টু ও মজনু শিশু সাইদুলকে ধরে বেঁধে ফেলেন। রেগে গিয়ে সাইদুলকে চড় দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজম আলী কালের কণ্ঠকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আপেল দোকানের পাশে গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে শিশুটির হাত-পা বাঁধা ছিল। দুপুর ২টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

শিশুটির বোন আজেদা বেগম জানান, তাঁর ভাই সাইদুল মানসিক প্রতিবন্ধী। তার মৃগী রোগ রয়েছে। এ কারণে বাড়িতে তাকে পাহারায় রাখা হতো। শনিবার সকালে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

রাত সোয়া ৮টার দিকে গুরুদাসপুর থানার ওসির দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার মাহাতো বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বোন আজেদা বেগম থানায় এসেছেন। তারা যদি অভিযোগ দেয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য