kalerkantho


ট্রাম্পের অভিবাসননীতিতে অসন্তোষ

এক পত্রেই পদত্যাগ ১০ উপদেষ্টার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এক পত্রেই পদত্যাগ ১০ উপদেষ্টার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতিতে অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর এশিয়ান-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের আরো ১০ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর থেকে এই নিয়ে এ কমিটির ১৬ সদস্য পদত্যাগ করলেন।

তাঁরা সবাই বারাক ওবামা আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান ড. নীনা আহমেদও রয়েছেন।

ট্রাম্পকে দেওয়া এক চিঠিতে গত বৃহস্পতিবার ১০ উপদেষ্টা তাঁদের পদত্যাগের কথা জানান। পদত্যাগকারীদের মধ্যে পরিষদের সভাপতি টাং টি নিগুয়েন ও সহসভাপতি মেরি ওকাদা। আরো আছেন মাইকেল বিউন, ক্যাথি কো চিন, জ্যাকব ফিটিজিমানো, ডেফনি কোয়াক, ডি জে মেইলার, মলিক পাঞ্চলি, লিন্ডা ফেন, সনজিতা প্রধান। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তাঁরা গত মাসের শেষদিকে অভিবাসন ও শরণার্থীদের নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশ এবং ওবামার আমলে নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা বাতিলের কথা উল্লেখ করেন।

এই উপদেষ্টারা জানান, ১৩ জানুয়ারি এক চিঠিতে তাঁরা নতুন প্রেসিডেন্টকে এ কমিটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও নীতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তবে প্রেসিডেন্টের দিক থেকে তাঁরা কোনো সাড়া পাননি। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসী নিয়ে ট্রাম্পের দুই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এশিয়ান-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতির লঙ্ঘন বলেও দাবি করেন তাঁরা।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের ২০ সদস্যের ১৬ জনই দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। বাকি আছেন আর মাত্র চারজন। ১৯৯৯ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এ কমিশনটি গঠন করেন।

পরিষদের সদস্য বাংলাদেশি-আমেরিকান ড. নীনা আহমেদসহ ছয়জন এর আগে ট্রাম্পের শপথের দিন ২০ জানুয়ারি পদত্যাগ করেছিলেন। বাকি চারজনের মেয়াদ শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর।

ক্লিনটনের পর যে যখন ক্ষমতায় এসেছেন তাঁদের পছন্দের উপদেষ্টাদের দিয়ে পরিষদটি পুনর্গঠন করেছেন। বারাক ওবামা তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে নীনা আহমেদকে উপদেষ্টা মনোনীত করেন। নীনাই ছিলেন ওবামা প্রশাসনে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার বাংলাদেশি-আমেরিকান। ‘খানিক বিলম্বে’ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ১০ পদত্যাগকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র নীনা। উপদেষ্টা পরিষদে থাকার সময়ই তিনি এ পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ড. নীনা আহমেদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনী প্রচার-সমাবেশ ও টিভি বিতর্কে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য আমাকে বিস্ময়ে হতবাক করে দিয়েছিল। তাঁর প্রতিটি বক্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, আদর্শ আর মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ জন্য ট্রাম্পের শপথগ্রহণের দিনই আমরা ওই সিদ্ধান্ত নিই। সূত্র : প্যাসিফিক ডেইলি নিউজ।


মন্তব্য