kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মিউনিখে প্রধানমন্ত্রী

দোষ প্রমাণ হলে খালেদা জিয়ার শাস্তি হবেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দোষ প্রমাণ হলে খালেদা জিয়ার শাস্তি হবেই

খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন হতে পারবে না বলে বিএনপির হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবেই। জার্মানির মিউনিখে গতকাল শুক্রবার জার্মান আওয়ামী লীগের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি সত্যি কোর্টের কাছে এভিডেন্স থাকে চুরি করেছে, তাহলে শাস্তি হবে। সে জন্য তারা ইলেকশনই হতে দেবে না। একটা চোর, এতিমের টাকা যে চুরি করে খায়, তাকে রক্ষার জন্য ইলেকশন হতে দেবে না। কত আবদারের কথা, কত আহ্লাদের কথা! এত আহ্লাদ যখন, তখন গরিব মানুষের টাকা কটা দিয়ে দিলেই হতো। ’

২০০১-২০০৬ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সোয়া পাঁচ কোটি টাকা দুর্নীতির দুই মামলা এখন বিচারের শেষ পর্যায়ে। জিয়া চেরিট্যাবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলা দুটি চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে।

মিউনিখের ম্যারিয়ট হোটেলে স্থানীয় সময় গতকাল বিকেলে ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে যদি চুরি না করে থাকে, তাহলে শাস্তি হবে না। ’ তিনি বলেন, ‘চুরি করে তো শত শত কোটি টাকা বানিয়েছে। ’ চুরির ওই অর্থ খালেদার ছেলে তারেক রহমান এবং মোসাদ্দেক আলী ফালুর কাছে গচ্ছিত আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই মামলায় বিচারিক আদালতের প্রতি অনাস্থা এনে উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা মামলার জন্য হাইকোর্টে ৫৩-৫৪ বার পিটিশন করেছে। এখন মামলা থেকে পালায়। মিথ্যা মামলা হলে পালানোর কি দরকার? এটা তো পরিষ্কার—এতিমখানার টাকা মেরে খেয়েছে। এটা তো কাগজপত্রে আছে। ’

নতুন নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের জন্য আমাদের তালিকা থেকে একজন নিয়েছে। বিএনপি তালিকা দিয়েছে, সেখান থেকে একজন নিয়েছে। তাতেও দোষ। সব কিছুতেই দোষ। তাদের সব কিছুতেই নাখোশ। তাদের সব কিছুতেই মানি না, মানব না। ’

জামায়াতে ইসলামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি বলে বিএনপিও ওই নির্বাচনে যায়নি বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নিজেরা নির্বাচন না করে যে ভুল করেছে, তার খেসারত তার দল দেবে। বাংলার জনগণ কেন দেবে?’

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ ড. মুহাম্মদ ইউনূস অস্বীকার করলেও তাঁর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কেও ভয় দেখানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে সরালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ ছাড়াও অসুবিধা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমেরিকার অ্যাম্বাসাডর আমার অফিসে এসে এসে সব সময় থ্রেট করতেন, ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে সরালে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ হয়ে যাবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ব্লেক (রবার্ট ব্লেক) এলেও ওই একই কথা। হিলারি ক্লিনটন আমাকে ফোন করলেন। সেখানেও একই কথা। এমনকি আমার ছেলে জয়কে তিনবার স্টেট ডিপার্টমেন্টে ডেকে নিয়ে গেল। ওকে বলল, ‘তোমাদের অসুবিধা হবে। হিলারি এটা সহজভাবে নেবেন না। তোমার মাকে বোঝাও। ’”

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বাতিল করায় এবং কানাডার আদালতে মামলা করার কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেসব ব্যক্তি আদালতে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ থেকে এখন কেউ রেহাই পাচ্ছে না। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। এর বিরুদ্ধে আমরা যা করার করব। ’

অনুষ্ঠানে জার্মানি ছাড়াও ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল, সুইডেন ও নরওয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নেন।

জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিষয়ে বিশ্বের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বতন্ত্র ফোরামের ৫৩তম এ নিরাপত্তা সম্মেলন গতকাল বায়েরিচার হোফ হোটেলে শুরু হয়েছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী আজ উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পানি, খাদ্য, অভিবাসনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর ভাষণ দেবেন। সন্ধ্যায় তিনি সম্মেলনে আসা অতিথিদের সম্মানে মিউনিখ নগরের মেয়রের দেওয়া সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ৪৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৩০টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং ৯০ জন সংসদ সদস্যসহ ৫০০-এর মতো নীতিনির্ধারক অংশ নিচ্ছেন। কর্মকর্তারা জানান, এ বছর সম্মেলনে আলোচ্যসূচির মধ্যে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক, ট্রাম্প, ব্রেক্সিট, ইইউ ও ন্যাটো সংকট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইতিহাদ এয়ারলাইনসের বিমানটি স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ৬টায় মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। জার্মানি যাওয়ার পথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে প্রধানমন্ত্রী এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করেন।

মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবর্ধনা জানানোর পর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রাসহকারে মিউনিখের ম্যারিয়ট হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। জার্মানি সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। সূত্র : বাসস ও বিডিনিউজ।


মন্তব্য