kalerkantho


দমন-পীড়ন হত্যাযজ্ঞ শেষে রাখাইনে সেনা অভিযান শেষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দমন-পীড়ন হত্যাযজ্ঞ শেষে রাখাইনে সেনা অভিযান শেষ

চার মাসের বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার। বুধবার রাতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, রাখাইনের পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় দেশটির ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর উত্তর রাখাইনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ নামে এই অভিযান শুরু করা হয়েছিল। এতে অন্তত এক হাজারের বেশি ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছে বহু নারী। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত চার মাসে প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

কথিত সন্ত্রাসবিরোধী এই অভিযানকে সম্ভাব্য জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর সমালোচনা ও চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকারের কাছ থেকে এই অভিযান শেষ করার ঘোষণা এলো।

বিবৃতিতে মিয়ানমারে নতুন নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং টুনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘উত্তর রাখাইনের পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল হয়েছে। সামরিক বাহিনীর শুরু করা ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শেষ হয়েছে।

সান্ধ্য আইন শিথিল করা হয়েছে। শান্তি বজায় রাখার জন্য সেখানে শুধু পুলিশ উপস্থিত আছে। ’

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ও উত্তর রাখাইনে সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ওই এলাকার ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’ বজায় রাখার স্বার্থে সামরিক বাহিনী অবস্থান করছে বলে তারা জানিয়েছে। অভিযান শেষের ঘোষণার পরও সামরিক বাহিনী মাঠে থাকায় সংশয়ের জন্ম দিয়েছে।

এই তথ্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও তাত্ক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। অভিযান শুরুর পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের বিস্তর অভিযোগ আসতে থাকে। তবে শুরু থেকেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী অং সাং সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। তারা দাবি করে, আইন মেনেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

কিন্তু জাতিসংঘ একটি মন্তব্যের পর বিষয়টি আমলে নিতে বাধ্য হন সু চি। চার মাসের এ অভিযানে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জাতিগত নিধনের মতো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের অভিযোগ তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন সু চি। এরপর অভিযোগগুলো তদন্ত করতে দেশটির সামরিক বাহিনী ও পুলিশ পৃথক তদন্ত দল গঠন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং টুন জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের ও একদল কূটনীতিকের উপস্থিতিতে বলেন, ‘ফৌজদারি অপরাধ, মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যাবে, আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, এটি আমরা দেখিয়েছি। ’ জাতিসংঘের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, সম্ভবত ওই অভিযানে হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।


মন্তব্য