kalerkantho


প্রতারণার মাধ্যমে পত্রিকা প্রকাশ

রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের বিচার শুরু

সিলেট অফিস   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের বিচার শুরু

পলাতক অবস্থায় স্থানীয় দৈনিক সিলেটের ডাক সম্পাদনা ও প্রকাশ করে প্রতারণা করেছেন—এই অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শিল্পপতি রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ শিল্পপতির বিরুদ্ধে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হলো।

এ ছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে সিলেটের তারাপুর চা বাগানের হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাতের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরুর একটি মামলার অভিযোগ গঠন করেন এবং অন্য মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় রাগীব আলী, তাঁর ছেলেসহ চার আসামি উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে পত্রিকা প্রকাশের মামলাটি করেন সিলেট নগরের উপশহরের বাসিন্দা ও ছাতক প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গিয়াস উদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, পলাতক অবস্থায় সম্পাদনাজনিত প্রতারণার জন্য রাগীব আলীর ৫৮ বছর এবং তাঁর ছেলের ২৯ বছর কারাদণ্ডের আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত ওই দিন মামলাটি আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। তবে সমন পাওয়ার পর জবাব না দেওয়ায় পরের মাসে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানান, এ মামলার অভিযোগ গঠন হলেও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়নি।

একই দিন একই আদালতে দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এর মধ্য দিয়ে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। চার সাক্ষী হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক দিলীপ কান্তি দেব, হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ওসি মনিরুজ্জামান ও নরসিংদীর শিবপুর থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান। এ মামলায় রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল হাইসহ আসামি ছয়জন।

বিচারক ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন রেখেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, রাগীব আলী ও তাঁর স্বজনরা আশির দশকের শেষ দিকে সিলেটের তারাপুর চা বাগানের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তত্কালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এস এম আব্দুল কাদের রাগীব আলীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে তারাপুর চা বাগানের ভূসম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেন। এ দুটি মামলার মধ্যে চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলার রায় হয় গত ২ ফেব্রুয়ারি। এ রায়ে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাইকে চারটি ধারায় মোট ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে অন্য দুটি ধারায় তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


মন্তব্য