kalerkantho


ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হল

পরিত্যক্ত ভবনে ছাত্রী তুলছে ছাত্রলীগ

মেহেদী পাভেল   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পরিত্যক্ত ভবনে ছাত্রী তুলছে ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ সিকদার মনোয়ারা ভবনে ছাত্রী তুলছেন হল শাখা ছাত্রলীগের নেত্রীরা। অথচ হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ভবনে ছাত্রী তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

হল কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে ছাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দিলেও তাতে গা করছেন না ছাত্রলীগ নেত্রীরা।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালে নতুন ভবন হিসেবে হলের সিকদার মনোয়ারা ভবন উদ্বোধন করা হয়। পরে ভবনের তিনতলায় প্রতি রুমে আটজন করে ছাত্রী তোলে হল প্রশাসন। আর দুই তলায় বানানো হয় রিডিং রুম, স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের অফিস, ডিবেটিং সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের অফিস। কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতেই ২০১৩ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ ভবনের দেয়াল ও বিমগুলোতে ফাটল দেখা যায়। বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তারা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ফাটল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা পরীক্ষা করায়। বিশেষজ্ঞরা ভবনটিকে বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান। এরপর হল প্রশাসন সেখানে থাকা ছাত্রীদের হলের মূল ভবনে স্থানান্তর করে।

পাশাপাশি সিকদার মনোয়ারা ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তবে ভবনের অন্য দুই তলা তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় তা ছাত্রীদের রিডিং রুম হিসেবে রেখে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানায়, গত কয়েক বছর বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। সম্প্রতি হল শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর হল প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই প্রভাব খাটিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে ছাত্রীদের তোলা শুরু করেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা খাতুন। সাধারণ রুমের পাশাপাশি গণরুমেও ছাত্রীদের তোলা হচ্ছে। গণরুমে ১৬ জনের জায়গায় তোলা হচ্ছে ২৪ জন। হলের মূল ভবনের রিডিং রুমের পাশে মেঝেতেও ছাত্রীদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে। হল প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও মানছেন না ছাত্রলীগের নেত্রীরা।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, একে তো পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, তার ওপর থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। এতে পড়ালেখার পরিবেশই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে—সারাক্ষণ এমন দুশ্চিন্তা নিয়ে চলতে হয়। হলের মূল ভবনে বৈধভাবে সিট পেতে দেরি হবে, থাকার আর বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেই। তাই বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে থাকতে হচ্ছে।  

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ মুবিনা খন্দকার বলেন, ‘হলে বেশ কিছু গণরুম আছে, সেখানে প্রথম বর্ষের মেয়েদের তোলা হয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ মনোয়ারা সিকদার ভবনের তিনতলায় কিছু ছাত্রী তুলেছে ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা। তবে সেখান থেকে মেয়েদের সরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে পারব। ’

মনোয়ারা সিকদার ভবনের পুরোটা, নাকি শুধু তিনতলা ঝুঁকিপূর্ণ—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুবিনা খন্দকার বলেন, ‘আমি সঠিক বলতে পারব না। তার পরও যতদূর জানি, পরীক্ষকরা ভবনটির দোতলা পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী বলে জানিয়েছিলেন। ’

এ বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনতলায় তেমন কোনো সমস্যা নেই, শুধু দু-এক জায়গায় একটু ফাটল ধরেছে। আর যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয় তাহলে শুধু তিনতলা নয়, পুরো ভবনটিই তো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কথা। সেখানে প্রশাসন পুরো ভবনটি খালি না করে শুধু তিনতলায় নোটিশ দিয়েছে, যেটা চোখে ধুলা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

ছাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ফরিদা বলেন, ‘দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন সংগঠনের রুম রয়েছে। সেগুলোসহ পুরো ভবন যদি খালি করা হয় তবেই আমার মেয়েদের সরিয়ে নেওয়া হবে। আর না করা হলে কিছু করার নেই। ’


মন্তব্য