kalerkantho


পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ

ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে হাইকোর্টের রুল

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগের নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন বা কমিটি গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এর অগ্রগতি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে মন্ত্রিপরিষদসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার স্বপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালত বলেন, একটি মহল থেকে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির গল্প ও অভিযোগ আনা হয়, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জাতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ কারণে এই গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা দরকার ন্যায়বিচারের স্বার্থে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ড. ইউনূসের বিচার দাবি : আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট গতকাল এ আদেশ দেন।

গতকাল আদেশের আগে আদালত বলেন, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ অভিযোগ ওঠার পর বিশ্বব্যাংক ও অপরাপর দাতা সংস্থা অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা জাতির মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে দুদক ও অপরাপর তদন্ত সংস্থা তদন্ত করেছে। এ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়নি। কিন্তু এর পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয়ের সচিবকে মারাত্মকভাবে ভুগতে হয়েছে।

আদালত বলেন, এ দুর্নীতির সঙ্গে কানাডিয়ান কম্পানির তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কানাডিয়ান আদালতে বিচার হয়েছে। আদালত তাঁদের খালাস দিয়েছেন। আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এরপর আদালত আদেশ দেন।

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়নি বলে কানাডার আদালতে এসংক্রান্ত মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। কানাডার আদালত বলেছেন, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ এসেছে, সেটি গালগল্প। আদালতের রায়ের খবর জানার পরদিন থেকে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করে আসছেন, বিশ্বব্যাংককে ক্ষমা চাইতে হবে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করতে পেছন থেকে একজন ব্যক্তি ষড়যন্ত্র করেছেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তাঁর কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। নির্দোষ হয়েও আমাদের একজন সচিবকে জেল খাটতে হয়েছে। ’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন স্থগিত করে। তাদের অভিযোগের কারণে বিনা দোষে আমাদের একজন সচিবকে জেলে যেতে হয়েছে। একজন মন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে। ’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। অভিযোগটি ছিল পুরোপুরি মিথ্যা। একজন ব্যক্তি ষড়যন্ত্র না করলে আর বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত না করলে এত দিন পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হয়ে যেত। ’

একই দিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতেই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করার পরিকল্পনার ষড়যন্ত্রে জড়িত। ২০০৭ সালেও একবার শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে এ রকম ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির প্রমাণের জন্য সে সময়কার যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিতে বলেছিল। ’

এ অবস্থায় গতকাল হাইকোর্ট বিষয়টি আমলে নিয়ে আদেশ দিলেন।


মন্তব্য