kalerkantho


নতুন ইসির শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণ

সব দলকে আস্থায় নিয়ে কাজ করব : সিইসি

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সব দলকে আস্থায় নিয়ে কাজ করব : সিইসি

শপথগ্রহণ শেষে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে করমর্দন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল বুধবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নুরুল হুদা আবারও জানালেন, জনতার মঞ্চে তাঁর যোগ দেওয়ার তথ্য মিথ্যা। কোনো দলের নির্বাচনী বোর্ডের দায়িত্বও পালন করেননি।

নিরপেক্ষভাবে কাজ করার যে শপথ নিয়েছেন সে অনুযায়ী তিনি চলবেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। শুধু বিএনপি নয়, ছোট-বড় সব দলের আস্থা অর্জনে তিনি আত্মবিশ্বাসী। এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছি। আমরা সংবিধান এবং এর অধীনে প্রণীত আইনকানুন, বিধিবিধানের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনে অটল ও আপসহীন থাকব। ’

এর আগে বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে সিইসি হিসেবে প্রথমে খান মো. নুরুল হুদা, এরপর পর্যায়ক্রমে মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ নেন। বিকেল ৩টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ ও ইসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে নতুন ইসির সদস্যরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে চা-চক্রে অংশ নেন।

শপথগ্রহণ শেষে বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে হাজির হন ইসির সদস্যরা। বিকেল ৫টায় নুরুল হুদা সহকর্মীদের নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সিইসি প্রথমেই জানিয়ে দেন, তিনি পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। সাংবাদিকরা আরো বেশি প্রশ্ন করার সুযোগ চাইলে তিনি সহাস্যে বলেন, আজই যদি সব প্রশ্নের উত্তর দিই, তাহলে আগামী পাঁচ বছর কী করব?

কমিশনে আপনাদের প্রথম কাজ কী হবে—এ প্রশ্নের উত্তরে সিইসি বলেন, প্রথম কাজ হবে সহকর্মী ও সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করব। এরপর সেগুলো সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

প্রধান চ্যালেঞ্জ কী—এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ তো একটাই। দেশবাসীকে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। সে বিষয়ে কী কী কাজ করতে হবে তা এখন বলতে পারব না। সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ’

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং যাতে নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা না হয় তার জন্য সরকারের প্রতি কী আহ্বান জানাবেন? আর বিএনপির আস্থা অর্জনের জন্য কী করবেন? এসব প্রশ্নে নুরুল হুদা বলেন, ‘সরকারের প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করব। কারো প্রভাবে প্রভাবিত হব না। আর বিএনপি একা নয়, ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলকে আস্থায় আনার জন্য কাজ করে যাব। ’

নির্বাচনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের পক্ষপাতিত্ব কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? এর জবাবে সিইসি বলেন, এটি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

বলা হচ্ছে, আপনি একটি জেলায় বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী বোর্ডে ছিলেন। এখন সেই দলের সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক? এ প্রশ্নের জবাবে নুরুল হুদা বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। নিরপেক্ষভাবে কাজ করার যে শপথ নিয়েছি সে অনুযায়ী চলব। কোনো ইলেকশন বোর্ডের দায়িত্বেও আমি ছিলাম না। ’  জনতার মঞ্চে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, এটি মিথ্যা কথা।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হুদা লিখিত বক্তব্যে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বসন্তের এই পড়ন্ত বিকেলে আপনাদের স্বাগত জানাই। ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনের মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যাঁরা অবদান রেখেছেন তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করি। ’ সিইসি বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদেরকে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ’

সিইসি বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রমের প্রধান পাথেয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, সংবিধানের অধীনে প্রণীত বিভিন্ন আইন, আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা ও নির্বাহী আদেশসমূহ। আমাদের অনুসরণীয় হবে ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১১টি নির্বাচন কমিশনের রেখে যাওয়া অভিজ্ঞতাসংবলিত দিকনির্দেশনা। ’

খান মো. নুরুল হুদা আরো বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শপথ গ্রহণ করেছি। আমরা সংবিধান এবং সংবিধানের অধীনে প্রণীত আইনকানুন, বিধিবিধানের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনে অটল এবং আপসহীন থাকব। নির্বাচন কমিশনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারের অনুসরণীয় দিকনির্দেশনা কাজে লাগাব এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দক্ষতা ব্যবহার করব। তা করতে গিয়ে আমরা সরকার, সব রাজনৈতিক দল, সুশীলসমাজ, সংবাদমাধ্যম এবং জনগণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করব। ’


মন্তব্য