kalerkantho


বগুড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নব্য জেএমবি নেতা নিহত

কক্সবাজারে আরো একজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও কক্সবাজার   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বগুড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নব্য জেএমবি নেতা নিহত

বগুড়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নব্য ধারার সংগঠনের নেতা আবু মুসা (৩২) নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। পুলিশ আরো জানিয়েছে, এ জঙ্গি নেতা সংগঠনটির পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন। এ ছাড়া গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন মুসা।

গতকাল মঙ্গলবার ভোরের দিকে বগুড়ার কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হন। পুলিশ তাৎক্ষণিক তাঁর নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি। দুপুরে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী নব্য জেএমবি নেতা মুসার পরিচয় নিশ্চিত করেন।

একই দিন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার দুটি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। এসব ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৪টি বন্দুক ও ৫৬টি গুলি।

বগুড়া : জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহত আবু মুসা কুষ্টিয়ায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক মীর সানাউর রহমান ও নাটোরের বনপাড়ায় মুদি দোকানি সুনীল গোমেজ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়।

গত বছরের ২০ মে সানাউর এবং ৫ জুন সুনীল খুন হন। এ দুটি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

পুলিশের তথ্য অনুসারে, মুসা বগুড়ার কাহালু উপজেলায় অবস্থানকালে সাংগঠনিকভাবে কখনো আবু জার, কখনো আবু তালহা, রবিনসহ সামিউল নামে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন জেলায় অবস্থান নেওয়ার পর তিনি বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ছদ্মবেশে অবস্থান নিয়ে নতুন করে দল গোছানোর তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। এরপর থেকে পুলিশ নজরদারি শুরু করেছিল।

এর আগে সিরাজগঞ্জে জঙ্গি সংগ্রহ, আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ, জিহাদবিষয়ক বই বিতরণ, চাঁদা সংগ্রহ ও হিজরতের জন্য সঙ্গীদের প্রস্তুত করাসহ বিভিন্ন জঙ্গি তৎপরতায় মুসা সরাসরি অংশ নেন। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য আদালতে এ ব্যাপারে মুসার নাম উল্লেখ করে জবানবন্দি দেয়। কিন্তু চতুর মুসা গ্রেপ্তার এড়িয়ে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাহালুর দুর্গাপুর ইউনিয়নে মঙ্গলবার ভোরের দিকে পুলিশের টহল ভ্যান লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে একজন আহত হয়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন পর্যন্ত পুলিশ গুলিবিদ্ধ মুসার পরিচয় জানত না। কারণ মুসার কোনো ছবি বা বিবরণ পুলিশের হাতে ছিল না। নিহত হওয়ার পর খোঁজখবর করে পরে মুসার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, তিনটি গুলি ও বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার : মহেশখালী দ্বীপের সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী নয়াপাড়া পাহাড়ি এলাকায় জামায়াত-শিবির সমর্থিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ‘এনাম বাহিনীর’ সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আবদুস সাত্তার (৩২) নামের একজন নিহত হন। তিনি স্থানীয় পূর্ববড়ছড়া গ্রামের নুরুচ্ছফার ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি বন্দুক ও ১৬টি গুলি উদ্ধার করেছে।

এলাকার লোকজন জানায়, সন্ত্রাসী ‘এনাম বাহিনীর’ নেতৃত্বে রয়েছেন মানবতাববিরোধী অপরাধে আমৃত্যু সাজা পাওয়া ভোটের সময় মারা যাওয়া গোলাম আযমের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত আকতার হামিদ। জামায়াতের এই ক্যাডার ৩৫টি মামলার পলাতক আসামি। ‘এনাম বাহিনীর’ প্রধান শিবির ক্যাডার এনামুল হক হলেন আকতার হামিদের ছোট ভাই।

মহেশখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ‘এনাম বাহিনীর’ সদস্য সংখ্যা শতাধিক। দুই সপ্তাহ আগে র‌্যাব সদস্যরা মহেশখালীর কেরুনতলী এলাকায় এ ‘বাহিনীর’ আরেকটি আস্তানায় হানা দিয়ে ১২টি বন্দুক ও বিপুলসংখ্যক গুলি উদ্ধার করেছিলেন। সেই সঙ্গে দুজনকে আটক করা হয়েছিল।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন, সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকাটিতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে মহেশখালী দ্বীপের সবচেয়ে গুরুরত্বপূর্ণ মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশের এলাকায়।

মাতারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের পার্শ্ববর্তী মইন্যার বাপের লবণ ঘোনায় (লবণ ঘের) আজ (গতকাল) ভোরে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময় হয়। পরে পুলিশ তিন সন্ত্রাসীকে অস্ত্রশস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করে। ’

মাতারবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে নিয়োজিত উপপরিদর্শক (এসআই) শাওন জানান, একদল সন্ত্রাসী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশের একটি লবণ মাঠ দখলের জন্য অস্ত্র মজুদ করে প্রস্ততি নিচ্ছে— এমন খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। তখন দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করতে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। পরে তিনজনকে আটক করা হয়।


মন্তব্য