kalerkantho


ইউনূস ও বিশ্বব্যাংকের কঠোর সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইউনূস ও বিশ্বব্যাংকের কঠোর সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এক অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক যদি অর্থায়ন স্থগিত না করত, তাহলে এত দিনে সেতুর কাজ শেষ হয়ে যেত।

পদ্মা সেতু চালু হলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপির) প্রবৃদ্ধিও ৮ শতাংশে উন্নীত হতো। কিন্তু দুঃখজনক হলো, ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে আমরা বঞ্চিত হলাম। ’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করতে পেছন থেকে একজন ব্যক্তি ষড়যন্ত্র করেছেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তাঁর কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। নির্দোষ হয়েও আমাদের একজন সচিবকে জেল খাটতে হয়েছে। ’ বৈঠকে উপস্থিত সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়নি বলে গত শুক্রবার কানাডার আদালতে এসংক্রান্ত মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। কানাডার আদালত বলেছেন, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ এসেছে, সেটি গালগল্প।

আদালতের রায়ের পরের দিন থেকে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করে আসছেন, বিশ্বব্যাংককে ক্ষমা চাইতে হবে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল একনেক সভায় বিষয়টি নিজেই তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গতকালের একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখন থেকে বিশ্বব্যাংক থেকে এমন কোনো ঋণ নেওয়া হবে না, যে ঋণের শর্ত কঠিন। ’ আরোপিত ঋণ না নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিজেরা এখন অনেক সক্ষম। তাই বিশ্বব্যাংক থেকে এমন কোনো ঋণ নেওয়া যাবে না যা দেশের স্বার্থবিরোধী। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। আমরা তাদের কাছ থেকে ঋণ নেব। সেটি আমাদের সুবিধামতো করে ঋণ নেব। তাদের চাপিয়ে দেওয়া কোনো কঠিন শর্তের ঋণ নেওয়া হবে না। ’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে অর্থায়ন স্থগিত করে। তাদের অভিযোগের কারণে বিনা দোষে আমাদের একজন সচিবকে জেলে যেতে হয়েছে। একজন মন্ত্রীকে পদত্যাগও করতে হয়েছে। ’ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। অভিযোগটি ছিল পুরোপুরি মিথ্যা। একজন ব্যক্তি ষড়যন্ত্র না করলে আর বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত না করলে এত দিন পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হয়ে যেত। জিডিপির প্রবৃদ্ধিও ৮ শতাংশে উন্নীত হতো। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতো। ’

একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, দেশে ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিভাগ ঘোষণা করা হলে ওই জেলার নামে বিভাগ হবে না। বিভাগের অন্য কোনো নাম দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে তার নাম হবে ময়নামতি। কুমিল্লা বিভাগ বলা হবে না। এই নামে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙে কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে নিয়ে আলাদা একটি বিভাগ করা যায় কি না তা যাচাই-বাছাই করতে ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্দেশ দেন। সে আলোকে এখন কাজ চলছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ময়মনসিংহকে অষ্টম বিভাগ ঘোষণা করা হয়। কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে বিভাগ হবে ৯টি।

এদিকে গতকালের একনেক সভায় তিন হাজার ৬৮৪ কোটি টাকার ১১ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দুই হাজার ৬৪২ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে। এ ছাড়া সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮৮ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৯৫৪ কোটি টাকা। একনেক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনাসচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক ও ভারপ্রাপ্ত সচিব জুয়েনা আজিজ।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ৯৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক আবহাওয়া ও জলবায়ু সেবা, ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এলইডি সড়কবাতি, সিসিটিভি ক্যামেরা ও সিসিটিভি কন্ট্রোল সেন্টার সরবরাহ ও স্থাপন, ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আলীকদম-জালানীপাড়া-করুকপাতা-পোয়ামুহুরী সড়ক নির্মাণ, ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ এবং বাগেরহাট পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতিকরণ, ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন-২, ৩৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন, ২৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলাপর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ এবং ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।


মন্তব্য