kalerkantho


ছিনতাইকারীর নাগাল পায় না পুলিশ

এস এম আজাদ   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ছিনতাইকারীর নাগাল পায় না পুলিশ

রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের ‘ই-জোন’ নামক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ৯০ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যাংকে জমা দিতে। তাঁরা ছিলেন প্রাইভেট কারে, সঙ্গে ছিল টাকার দুটি ব্যাগ।

নিরাপত্তার জন্য তাঁদের গাড়ির সামনে-পেছনে ছিল চারটি মোটরসাইকেল। চলন্তিকা মোড়ে পৌঁছলে সিটি করপোরেশনের আবর্জনাবাহী একটি ট্রলি হঠাৎ গাড়িটির সামনে চলে আসে। প্রাইভেট কারের চালক জাহিদ হোসেন গাড়ি থামান। তখন গাড়িটির পাশ থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করে অস্ত্রধারীরা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেই মোটরসাইকেলচালকরা ভয়ে সামনে এগোনোর সাহস পাননি। অস্ত্রধারীরা চালক জাহিদের পায়ে গুলি করে টাকার দুটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর ব্যস্ত রাস্তায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটে যায় সব কিছু। গত এক দশকের মধ্যে রাজধানীতে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা।   

এরপর পেরিয়েছে ২৬ মাস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এখন পর্যন্ত পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছেন, তবে রহস্যের কিনারা হয়নি। ‘কিছু পাওয়া যায়নি’ উল্লেখ করে আড়াই মাস আগে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

বড় অঙ্কের টাকা লুট এবং ছিনতাইয়ের সময় হত্যা বা গুলির বেশির ভাগ ঘটনার তদন্তের এমনই দশা। গত তিন বছরে রাজধানীতে দুই ডজন বড় ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ছিনতাই হয়েছে তিন কোটি ৯৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা।  

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘটনায় বছরের পর বছর পার হলেও শেষ হয়নি তদন্ত। ছিনতাইকারীচক্র শনাক্ত হয়নি, লুণ্ঠিত টাকা ও মালামালও উদ্ধার হয়নি। কেবল চারটি ঘটনায় আসামিদের মধ্যে কয়েকজন শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে টাকা উদ্ধার হয়নি।

এরই মধ্যে সম্প্রতি রাজধানীতে গুলি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ফের বেড়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছে, বড় ছিনতাইয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোর সুরাহা না হওয়ায় ছিনতাইকারীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে।

তবে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ছিনতাইয়ের মামলাগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়। প্রায়ই পেশাদার ছিনতাইকারী ধরাও পড়ে। তবে অনেক সময় বড় ঘটনাগুলোর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা যায় না, লুণ্ঠিত টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হয় না।

ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় গত শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ত্রৈমাসিক সম্মেলনে কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করতে হবে। ছিনতাইয়ের মামলাগুলোর তদন্ত শিগগির শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যখন একটি অপরাধ করে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তখন তারা সেই

অপরাধ ফের করে। অন্যরাও সেই অপরাধ করতে সাহস পায়। এ দেশে সিজনালি ছিনতাই বাড়ে। এসব বিষয় মাথায় রেখে কার্যকর তদন্ত ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ’

তদন্তে কিছু বের হয়নি : মিরপুরে ৯০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর রূপনগর থানায় মামলা করেন ই-জোনের মালিক তৌফিক হোসেন খান। ই-জোন হলো মোবাইল ফোনে আর্থিক লেনদেনের সেবাদাতা বিকাশ ও মোবাইল ফোন অপারেটর এয়ারটেলের এজেন্ট। গত রবিবার রূপনগর থানায় গিয়ে জানা গেছে, ঘটনার কিছুদিন পরই মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন রূপনগর থানার পরিদর্শক মতলবুর রহমান। চার তদন্ত কর্মকর্তা বদলের পর পঞ্চম হিসেবে দায়িত্ব পান ডিবির পশ্চিম বিভাগের পরিদর্শক মীর রেজাউল ইসলাম। গত বছরের ২৩ নভেম্বর তিনি আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছেন।

মামলার বাদী তৌফিক হোসেন খান বলেন, ‘তদন্তে কিছু বের হয়নি। কোনো টাকাও উদ্ধার হয়নি। শুনেছি ফাইনাল রিপোর্ট হয়েছে। আমরা পরে আদালতে আবেদন করতে পারি। ’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ গাড়িচালকসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে রহস্যের কিনারা হয়নি।

চলন্তিকা মোড়ের এক দোকানি সেই ছিনতাইয়ের প্রত্যক্ষদর্শী। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা গুলি করার পর মোটরসাইকেলগুলোর দিকে তারা পিস্তল তাক করে রাখে। রাস্তায়ও তখন জ্যাম লাগে। তারা টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার পর সবাই হইচই করে। ওই সময়ই আমরা ধারণা করছিলাম, এর পেছনে প্রভাবশালী কোনো গ্রুপ আছে। এই কারণেই কিছু বের হয় নাই। ’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মীর রেজাউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্তে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছি। বাদীপক্ষ প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুটের কথাই বলছে। যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের কাছ থেকে কিছু পাওয়া যায়নি। ’ 

বাকিরা কোথায়? : ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে খিলগাঁওয়ের শান্তিপুরে ছিনতাইকারীদের গুলিতে নিহত হন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী শরীফ হোসেন সায়মন। এ সময় তাঁর বাবা ইসরাইল হোসেনও গুলিবিদ্ধ হন। গত বছরের ১ এপ্রিল রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা নিয়েছিল ৩৮ লাখ টাকা।

সায়মনের ভগ্নিপতি মাহবুবুর রশীদ মোল্লা পরাগ কালের কণ্ঠকে বলেন, “গুলি করে চলে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা ছয় লাখ টাকা ফেলে যায়। পরে পুলিশ সন্দেহভাজন ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হয় আরো তিন লাখ ৯৯ হাজার টাকা। আসামিদের মধ্যে কাজী সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাহীন ও গোলাম মোস্তফা শাহীন ওরফে ‘পুলিশ শাহীন’কে শনাক্ত করেছে পুলিশ। দুই শাহীনই জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছে। ছিনতাইকারীরা পাঁচ-ছয়জন ছিল। বাকিরা কোথায়? টাকা কোথায়?”

এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছিল খিলগাঁও থানায়। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই নৃপেন কুমার ভৌমিক বলেন, ‘জামিনে থাকা দুজনসহ তিনজনের বিরুদ্ধেই আমরা চার্জশিট দেব। ’ 

লেগে থাকলেও কিছু হয় না! : গত বছরের ২ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘আল হেজাব টেক্সটাইল মিল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সোবহান মিয়াকে গুলি করে ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ওয়াদুদ মিয়া শাহবাগ থানায় মামলা করেছিলেন। তাঁর ছোট ভাই সাকিম আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুনেছি মামলা ডিবিতে চলে গেছে। কেউ কিছু জানায়নি। বোঝেন তো, লেগে থাকলেও কিছু হয় না, আর আমাদের হাতে এত সময় কই?’

জড়িতরা শনাক্ত হয় না, উদ্ধার হয় না টাকা :  গত বছরের ২০ মার্চ উত্তর বাড্ডার কুমিল্লাপাড়ায় ‘রুটস ডিস্ট্রিবিউশন’ নামের বিকাশ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাহবুব মৃধাকে গুলি করে হত্যা করে এক লাখ ২৫ হাজার টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।   জড়িতদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।  

গত বছরের ১৩ মার্চ মালিবাগের হাজিপাড়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে যাচ্ছিলেন রামপুরার ডিআইটি রোডের ‘বাংলাদেশ স্যানিটারি’ নামের দোকানের কর্মী ইসমাইল হোসেন। ছিনতাইকারীরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ইসমাইলের খালাতো ভাই আব্দুল মোতালেব মিন্টু বলেন, ‘দিনদুপুরে একটা মানুষকে মেরে ফেলল। অথচ এত দিনেও পুলিশ হত্যাকারীদের খুঁজে পাচ্ছে না?’

ওই বছরের ৪ মার্চ তালতলায় একটি মাইক্রোবাসে বিকাশের এজেন্ট সাইদুর রহমানের পায়ে গুলি করে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। শেরেবাংলানগর থানার ওসি গোপাল গণেশ বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। আশা করি, রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। ’

গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি মিরপুর-১৪ নম্বরে এআইডি নামে বিকাশের পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে গুলি করে ১৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। অপরাধীরা এখনো শনাক্ত হয়নি।   

২০১৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারের স্বাদ জুয়েলার্সের কর্মী পার্থ কুমার ইসলামপুরে ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ টাকা তুলে প্রতিষ্ঠানে ফেরার পথে তাঁকে গুলি করে টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক খোরশেদ আলম বলেন, ‘শুনেছি কয়েকজন ধরা পড়েছে। তবে আমাদের টাকা উদ্ধার হয়নি। ’ 

কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ‘জড়িত দুজন গ্রেপ্তার হয়েছে। এ পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে দুজন মারা গেছে। ৬০-৭০ হাজার টাকা উদ্ধারও হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। ’

পুলিশ বলছে, কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজনের মধ্যে একজন মারা গেছে গত সোমবার রাতে। তার নাম সাগর হোসেন ওরফে জুলহাস হোসেন ওরফে দিপু (২৭)। সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাঁতীবাজারের চিত্রা সিনেমা হলের গলিতে এ ঘটনা ঘটে।  

গত ৫ ফেব্রুয়ারি উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের জসীমউদ্দীন সড়কের ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠের পাশে গৃহবধূ শাহানা করিম ও তাঁর মেয়ে নাতিকা রেজওয়ানা করিমকে গুলি করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি নিউ মার্কেটে অস্ত্র দেখিয়ে বিশ্বাস বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান সজীবের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। সিসিটিভি ক্যামেরায় দৃশ্যটি ধরা পড়ে। তবে ছিনতাইকারীরা ধরা পড়েনি।   

এ ছাড়া ২০১৪ সালের ২৩ জুন উত্তরায় বিকাশ এজেন্টকে গুলি করে সাড়ে ১১ লাখ, ১৯ জুন হাজারীবাগে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ৩৩ লাখ, রামপুরায় গুলি করে এক লাখ ৮০ হাজার; ৮ এপ্রিল মিরপুরের সেনপাড়ায় গুলি করে ১০ লাখ; আগস্টে খিলগাঁওয়ে গুলি করে চার লাখ; ৭ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ীতে তিন লাখ; ৬ নভেম্বর মিরপুরে ঠিকাদার সিরাজুল ইসলামকে অস্ত্র ঠেকিয়ে চার লাখ, ২৭ আগস্ট এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে ৩০ লাখ এবং ৭ ডিসেম্বর খিলগাঁওয়ের গোড়ান বাজারে গুলি করে ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।  

আসামি শনাক্ত হলেও মেলেনি টাকা : মগবাজারে দুটি বড় ছিনতাইয়ের ঘটনায় বেশির ভাগ আসামি গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। তবে টাকা ফেরত পাননি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা। ২০১৫ সালের ২৪ মে বিশাল সেন্টার শপিং কমপ্লেক্সের মোড়ে অ্যাকুয়ামেরিন ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কর্মী সেলিম আখতারকে গুলি করে ৩৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট দিলু রোডের জেআর করপোরেশনের ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। ছিনতাইকারীদের বোমা ও গুলিতে পাঁচজন আহত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুই মামলার তদন্ত তদারক করেছিলেন ডিবির তৎকালীণ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) কৃষ্ণপদ রায়। বর্তমানে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনারের (অপরাধ) দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সময় লেগে যায়। অনেক সময় গ্রেপ্তার করা গেলেও টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। আসামিরা টাকা খরচ বা হস্তান্তর করে ফেলে। ডিএমপির পক্ষ থেকে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কেউ বেশি অঙ্কের টাকা লেনদেন করতে গেলে যেন পুলিশের সহযোগিতা নেয়। এ নির্দেশনা মানলে ছিনতাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ’

পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগের বিষয়ে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলে তালিকাভুক্তদের ধরা হয়। এখন ছিনতাইকারীরা এলাকা পরিবর্তন করে কাজ করছে। অনেক নতুন লোক যোগ হয়েছে। কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ও ব্যবহার করছে। ছিনতাইকারীদের ব্যাপারে এবং ঘটনার তদন্তের ব্যাপারে আমরা নতুন করে নির্দেশনা দিচ্ছি। ’

 


মন্তব্য