kalerkantho


আইনের খসড়া অনুমোদন

বিমান পরিচালনায় বাধা দিলে মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিমান পরিচালনায় বাধা দিলে মৃত্যুদণ্ড

বিমান পরিচালনায় বাধা দিলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, নতুন আইনের খসড়াটি প্রণয়ন করা হয়েছে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৬০’ হালনাগাদ করে। খসড়া আইনে অপরাধের দণ্ড বাড়ানো হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা বেপরোয়াভাবে এমন কোনো কাজ করেন, যাতে নির্বিঘ্নভাবে বিমান পরিচালনায় অসুবিধার সৃষ্টি হয় এবং এর মাধ্যমে কোনো মানুষের জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়, তবে তাঁর শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড। বিমানের নেভিগেশনের সঠিক আলো বা সংকেতের কার্যক্রম বা পরিচালনায় হস্তক্ষেপ, অপসারণ বা ধ্বংস করলে শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এ ছাড়া এ আইনে বিভিন্ন অপরাধের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তখন তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল সাত বছরের জেল, জরিমানা ছিল সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ‘পানি শীর্ষ সম্মেলন, ২০১৬’-এ অংশ নিতে গত ২৭ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন।

হাঙ্গেরি পৌঁছার আগেই যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে। বিমানের তেল চলাচলের পাইপে একটি নাট ঢিলা হওয়ার কারণে জ্বালানির চাপ কমে যাওয়ায় বিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গাফিলতিতে এটা হয়েছিল। ওই ঘটনায় কয়েকজন কর্মীকে বরখাস্ত করা ছাড়াও তাঁদের নামে মামলা হয়েছে। কয়েকজন আটক আছেন। ওই ঘটনাকে আমলে নিয়েই বেসামরিক বিমান চলাচল আইনের খসড়ায় শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭’-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা খসড়াটিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল।

এদিকে বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নে নতুন বস্ত্রনীতি প্রণয়ন করেছে সরকার। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বস্ত্রনীতি ২০১৭’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৫ সালের বস্ত্রনীতিকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। নতুন নীতিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর্থিক কোন কোন খাতে প্রণোদনা দেওয়া হবে, নীতিতে তা রয়েছে। বস্ত্র খাতে বিদেশি বিনিয়োগ কী হবে, তাদের জন্য কী সুযোগ-সুবিধা থাকবে সেসব বিষয় উল্লেখ আছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উপযোগী করে বস্ত্র ও পোশাক খাতকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বহুমুখী বস্ত্রপণ্যের উত্পাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে এতে।

‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন আইন, ২০১৭’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী কমিশন খাদ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পরিবেশ ও শিল্পের ক্ষেত্রে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। এ ছাড়া বৈঠকে ‘খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, মালয়েশিয়া সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য যে ত্রাণ পাঠিয়েছে সে বিষয়েও মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে এই ত্রাণ পাঠিয়েছেন।


মন্তব্য