kalerkantho


পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ

বিশ্বব্যাংককে ক্ষমা চাইতে বললেন মন্ত্রী ও নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিশ্বব্যাংককে ক্ষমা চাইতে বললেন মন্ত্রী ও নেতারা

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ কানাডার আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায় বিশ্বব্যাংককে ক্ষমা চাইতে বলেছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা বলে বিশ্বব্যাংক সরকারের গায়ে কলঙ্কের দাগ বসাতে চেয়েছিল।

কানাডার আদালতে দুর্নীতির মামলা খারিজ হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগটি মিথ্যা ছিল। গতকাল রবিবার ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁরা এসব কথা বলেছেন।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ সুধীসমাজের অনেকেই সেদিন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সুর মিলিয়েছিলেন। তাঁদেরও ক্ষমা চাইতে হবে।

গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় বিশ্বব্যাংক চপেটাঘাত খেয়েছে। একই সঙ্গে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অপবাদ যে মিথ্যা ছিল তাও প্রমাণিত হয়েছে। ’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির নামে কলঙ্কের বোঝা চাপানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেখানে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করেছিল।

এ ক্ষেত্রে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূস, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের নাম এসেছে। এ ছাড়াও এই মিথ্যা অপবাদের সঙ্গে কিছু টক শো বিশেষজ্ঞ সুর মিলিয়েছেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুরে বলব—এদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। ’ তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতোই। তিনিও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার নন। যে কারণে তিনি নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করেছেন।

গতকাল জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিশ্বব্যাংককে ক্ষমা চাইতে হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কানাডার আদালতে এই মামলা খারিজ হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। অভিযোগটি ছিল মিথ্যা। তাই বিশ্বব্যাংককে এখন বাংলাদেশের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাফ চাইতে হবে। একই সঙ্গে এই মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে এবং যারা নির্দোষ হয়েও জেলে গেছে, তাদের কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে। সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংক ক্ষমা না চাইলে অর্থমন্ত্রী যেন প্রটেস্ট নোট পাঠান।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন যে বাঙালি চোর নয়, বীরের জাতি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। এটি স্বপ্ন নয়, বাস্তব। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে। শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। ’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের কাছে জবাব চাওয়া উচিত কেন তারা অভিযোগ প্রমাণের আগেই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করেছিল। তিনি বলেন, কানাডার আদালতে কয়েকটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে; যাতে গুজব, গালগল্প ও জল্পনার কথা বলা হয়েছে। এসব যুক্তি আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ সঠিক ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের কিছু অসাধু বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ড. ইউনূস পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করেছিলেন। পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে টিআইবিও অনেক বড় বড় কথা বলেছে। এখন তারাও সুর পাল্টেছে। এখন তাদের (টিআইবি) জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সমাবেশ ও মানববন্ধনে তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে যাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁরা যেন এই সেতুতে না উঠে নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। ’

দুদকের অবস্থান সঠিক ছিল—সচিব : এদিকে কানাডার আদালতে মামলা খারিজ হওয়ার পর বক্তব্য দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে দুদক যে তদন্ত করেছিল তা সঠিক ছিল। কানাডার আদালতের মাধ্যমে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত নিয়ে সে সময় যাঁরা সমালোচনা করেছিলেন তাঁরা তা বুঝেশুনে করেননি। প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি বলে রায় দেন কানাডার টরন্টোর একটি আদালত, যেটি গত শুক্রবার কানাডার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য