kalerkantho


মুশফিক বীরত্বের পর শেষদিনের চ্যালেঞ্জ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মুশফিক বীরত্বের পর শেষদিনের চ্যালেঞ্জ

দুর্দান্ত অধিনায়কোচিত ইনিংস। শতরানের উচ্ছ্বাস মুশফিকুর রহিমের। ছবি : মীর ফরিদ, হায়দরাবাদ থেকে

বুনো উদ্দামতার ঝংকার নেই। তাঁর ইনিংসটিতে বরং চোখে প্রশান্তি বুলিয়ে দেওয়া পরশ। অহেতুক তাড়াহুড়া নেই। উল্টো সে জায়গায় ধৈর্যের মিনার গড়ার প্রতিজ্ঞা। নিজ সামর্থ্যের ওপর অকারণ অতিবিশ্বাস নেই। বরং সামর্থ্যের পূর্ণ প্রকাশের চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তা। আর এসব কিছু মিলেমিশে ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদ টেস্টে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিটি হয়ে থাকবে ধ্রুপদি টেস্ট ইনিংসের চিরন্তন প্রামাণ্যচিত্র। সতীর্থরা তাতে উদ্বুদ্ধ হবে আজ? টেস্ট ব্যাটিংয়ের অগ্নিপরীক্ষায় পারবে উত্তীর্ণ হতে? পারলে হয়তো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে বাংলাদেশ। জয়ের সমান এক ড্র আদায় করে নিতে পারবে ভারতের কাছ থেকে। কাজটি কঠিন। ভীষণ কঠিন।

চার সেশনে ৪৫৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে ম্যাচের সম্ভাব্য ফল থেকে জয়ের সম্ভাবনা মুছে দিয়েছেন বিরাট কোহলি। হার এড়িয়ে ড্র করতে পারলেই ঢের। কাল শেষ বিকেলেই অবশ্য ১০৩ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসের ৩ উইকেট চলে গেছে এরই মধ্যে। যার মধ্যে আছে দুই ব্যাটিংস্তম্ভ তামিম ইকবাল ও মমিনুল হক। সঙ্গে সৌম্য সরকারও এ ম্যাচে হয়ে গেছেন দর্শক। তবু...।

তবু স্বপ্নের ঘুড়ি আকাশে ওড়ানোর মতো ব্যাটসম্যানের তো কমতি নেই এখনো। ক্রিজে সাকিব আল হাসান; প্রথম ইনিংসের অবিমৃশ্যকারিতার পুনরাবৃত্তি তিনি করবেন না বলেই সমর্থকদের আশা। সঙ্গী মাহমুদ উল্লাহর কাছে বড় একটি ইনিংস পাওনা সেই কবে থেকে। ড্রেসিংরুমে আছেন স্বয়ং অধিনায়ক। ফর্মের সঙ্গে মিতালি এ ইনিংসেও থাকার আশায় বাড়াবাড়ি নেই। সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজরাও প্রস্তুত পার্শ্বনায়ক হওয়ার জন্য। ওদিকে টেলএন্ডার তাইজুল-তাসকিন-কামরুলরা তো দেখিয়েছেন, চোয়াল কামড়ে ক্রিজে পড়ে থাকতে পারেন তাঁরা।

তাহলে? স্বপ্নের সব সমীকরণ ঠিকঠাক মিলে গেলেই তো জয়সম ওই ড্র। সেই অর্জন নিশ্চিতভাবেই স্পর্শছোঁয়া দূরত্বে নেই, তবে সেটিকে আবার দূর আকাশের তারার মতো অধরাও মনে হচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস দিচ্ছে প্রেরণা। জোগাচ্ছে সাহস। মহা-অনিশ্চয়তার ক্রিকেটে অমন কিছু হলেও তো হতে পারে!

অথচ ভারত ৬৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণার পর বাংলাদেশের মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা করছিল অনেকে। তৃতীয় দিন মুশফিক, সাকিব, মেহেদীদের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে ওঠার পরও শঙ্কা যায় না। কাল দিনের প্রথম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের দুর্দান্ত বলে মেহেদী (৫১) বোল্ড হওয়ার আরো বেশি করে। কিন্তু অধিনায়ক মুশফিক ঠিকই লড়াই চালিয়ে যান বোলারদের নিয়ে। মিস ফিল্ডিংয়ের সুযোগের বাউন্ডারিতে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তাঁর পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। ৩৮ বল টিকে থেকে তাইজুল সঙ্গ দেন, এরপর তাসকিন ৩৫ বলে এবং কামরুল ১০ বলে। তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর মুশফিক একটু হাত খুলে খেলেন। আর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন যখন, নামের পাশে ২৬২ বলে ১২৭ রানের ইনিংস। ১৬টি চার ও দুটি ছক্কা রয়েছে; কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উইকেটে অতক্ষণ টিকে থাকা।

বাংলাদেশ তবু অল আউট ৩৮৮ রানে, ভারতের প্রথম ইনিংসের ২৯৯ রানে পিছিয়ে থেকে। চাইলে কোহলি ফলো অনে পড়া সফরকারীদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে পারতেন। তবে বোলারদের খানিকটা বিশ্রাম দেওয়াকেই যথার্থ মনে করলেন। সঙ্গে উইকেটের আরেকটু ভাঙচুরের প্রত্যাশা। ভারত তাই ব্যাটিংয়ে নেমে পড়ে আবার। ওভারপ্রতি প্রায় সাড়ে পাঁচ রানে ৪ উইকেটে ১৫৯ করার পর ঘোষণা করে ইনিংস। তাতেই বাংলাদেশের সামনে ওই অসম্ভব ৪৫৯ রানের লক্ষ্য। মুশফিকের দলের জন্য যে লক্ষ্যটা আসলে চার সেশন টিকে থেকে ম্যাচ ড্র করা।

শুরুটা ভালো হয়নি। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থ তামিম (৩)। সৌম্য-মমিনুলের ৬০ রানের জুটিতে একটু যখন সামলে উঠেছে বাংলাদেশ, তখনই ভারতের জোড়া আঘাত। ১৪ বলের মধ্যে সৌম্য (৪২) ও মমিনুলের (২৭) বিদায়। দিনের বাকি সময়টা পার তরে দেন মাহমুদ (৯*) ও সাকিব (২১*)। এর মধ্যে সাকিব একবার বেঁচেছেন রিভিউ নিয়ে।

আজ বাংলাদেশকে টেস্ট বাঁচাতে হলে ব্যাটসম্যানদের লড়তে হবে চোয়ালদৃঢ় প্রতিজ্ঞায়। ঠিক ওই প্রথম ইনিংসের মুশফিকের মতো। পারবেন না তাঁরা?


মন্তব্য